kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

জান্নাত ইমানদারের প্রতি আল্লাহর পুরস্কার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জান্নাত ইমানদারের প্রতি আল্লাহর পুরস্কার

১০৮. আর যারা সৌভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে। সেখানে তারা তত দিন স্থায়ী হবে, যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্যরূপ ইচ্ছা করেন।

এটি এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৮)

তাফসির : আগের আলোচনায় এসেছে, কেয়ামতের দিন মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে। একদল সৌভাগ্যবান আর অন্য দল হতভাগ্য। আলোচ্য আয়াতের মূল কথা হলো, দুনিয়ায় মানুষ অর্থবিত্ত, সামাজিক প্রভাব, দৈহিক সৌন্দর্য ও শক্তিমত্তাকে সৌভাগ্যের মাপকাঠি মনে করে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই স্থায়ী নয়। ইমান না আনলে আল্লাহর কাছে এগুলোর কোনো মূল্য নেই। আল্লাহর কাছে প্রকৃত সৌভাগ্যবান তারাই, যারা জান্নাতের অধিবাসী হবে। কাউকে জান্নাত বা জাহান্নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। মহান আল্লাহ ইচ্ছা করলে কোনো জাহান্নামবাসীকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন। আবার কোনো জান্নাতবাসীকেও জাহান্নামের অধিবাসী করতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন যে জান্নাত হবে মুমিনদের অনন্তকালীন আবাস। সেখান থেকে কাউকে কখনো বহিষ্কার করা হবে না।

জান্নাত মানুষের প্রাপ্য বা অধিকার নয়। এটি সৎ মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি শুধু তাঁর পছন্দের মানুষকেই জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেবেন। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ নিজের আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবে না। ’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কি আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবেন না?’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিও পারব না। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে ঢেকে নিয়েছেন। ’ (বুখারি, মুসলিম ও নাসাঈ)

জান্নাত কল্পনাতীত বিষয়। জান্নাতের রূপ-সৌন্দর্য সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে যতটুকু বর্ণনা করা হয়েছে, এর বাইরে চিন্তা করা মানুষের সাধ্য ও শক্তির ঊর্ধ্বে। মানুষ তার চোখ, কান ও অন্তর দিয়ে তা অনুভব করতে পারে না। জান্নাত অনাবিল শান্তির আধার। অতৃপ্তি ও অভাব-অনটন বলতে সেখানে কিছু নেই। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাত সম্পর্কে আমাদের বর্ণনা করুন। কী দিয়ে জান্নাত নির্মিত হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘তার দেয়ালের একটি করে ইট সোনা দিয়ে ও আরেকটি ইট রুপা দিয়ে নির্মিত। তার সিমেন্ট হলো উন্নত মৃগনাভি। তার প্লাস্টার ইয়াকুত ও মোতি এবং তার মাটি ওয়ারছ (নামের সুগন্ধি) ও জাফরান। যারা এতে প্রবেশ করবে তারা অমর হবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। চিরসুখী হবে; অসুখী হবে না। তাদের যৌবন শীর্ণ হবে না। আর তাদের কাপড় ছিন্নভিন্ন করা হবে না’। ’’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ৯৭৪৪)

এ জান্নাত ইমানদারের প্রতি আল্লাহর পুরস্কার। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিন নর-নারীকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। চিরস্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। (তাদের জন্য) সবচেয়ে বড় (নিয়ামত) হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এটাই মহাসাফল্য। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য