kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

কেয়ামতের দিন মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হবে

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কেয়ামতের দিন মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হবে

১০৬. তারপর যারা হতভাগ্য তারা দোজখে যাবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে চিত্কার ও আর্তনাদ।

১০৭. সেখানে তারা তত দিন স্থায়ী হবে যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রতিপালক অন্য রূপ ইচ্ছা করেন। তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা-ই করেন। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৬-১০৭)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, কেয়ামতের দিন মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হবে। কেউ হবে হতভাগ্য আর কেউ হবে ভাগ্যবান। সত্কর্মশীল ব্যক্তিরা সেদিন হবে সৌভাগ্যের অধিকারী। অন্যদিকে পাপীরা হবে হতভাগ্য। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন হতভাগ্যরা দোজখে যাবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে হতভাগ্যদের কাউকে কাউকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সব জায়গায়, সর্বাবস্থায় তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাঁর ইচ্ছাই কার্যকর। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দুনিয়ায় ন্যূনতম ইমান না আনলে পরকালে কেউ রেহাই পাবে না। অবিশ্বাসীরা চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে। সেখান থেকে তারা বের হতে পারবে না। মুসলমানদের মধ্যে যারা অধিক পাপাচারী, তারা প্রথম দিকে জাহান্নামে যাবে। পরে তাদের সেখান থেকে বের করে আনা হবে। পাপের সাজা ভোগ করে তাদেরও জান্নাতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এটা হবে তাদের ইমানের কারণে, মহানবী (সা.)-এর বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে। অন্যদিকে কাফিরদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়েও আল্লাহর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটাও তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে কারো প্রতিবন্ধক হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু কাফিরদের স্থায়ীভাবে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে জাহান্নামে রাখা আল্লাহর চূড়ান্ত ইচ্ছা। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ মানুষকে পূতপবিত্র অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। তাদের বিবেক-বুদ্ধি দান করেছেন। তাদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। আসমান ও জমিনে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ অসংখ্য নিদর্শন রেখেছেন। তাঁর আনুগত্য করবে বলে রুহজগতে তিনি মানুষের কাছ থেকে অঙ্গীকারও নিয়েছেন। কিন্তু দুনিয়ায় এসে একদল মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করতে থাকে। দুনিয়ার জীবনকেই একমাত্র জীবন হিসেবে জ্ঞান করতে শুরু করে। আবার অনেকে চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সত্যকে গ্রহণ করে। পরিণতিতে একদল সৌভাগ্যবান আর অন্য দল হতভাগ্য হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় না। মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এই দুটি বিষয়ের কোনো একটিকে বেছে নেয়।

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, ‘দোজখে তারা তত দিন স্থায়ী হবে যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে। ’ এর দ্বারা বর্তমান আকাশ ও পৃথিবী বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। কারণ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর এসবের বর্তমান অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পরকালে তখনকার অবস্থা অনুযায়ী নতুন আসমান-জমিন সৃষ্টি করা হবে। (বিস্তারিত দেখুন—সুরা : ইব্রাহিম, আয়াত : ৪৮)

সে আসমান ও জমিনই মূলত স্থায়ী হবে। এমন বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায়, অবিশ্বাসীরা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য