kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

প্রভাবশালী বহু জনপদ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রভাবশালী বহু জনপদ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে

৯৯. এই দুনিয়ায় অভিশাপ তাদের পেছনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে (তারা হয়েছিল অভিশাপগ্রস্ত) এবং (তারা অভিশাপগ্রস্ত হবে) কেয়ামতের দিনেও। এটা কত নিকৃষ্ট পুরস্কার, যা তাদের দেওয়া হবে!

১০০. এটা হলো কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিহাস, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি।

এসবের মধ্যে কিছু (জনপদ) এখনো বিদ্যমান আছে এবং কিছু (জনপদ) নির্মূল হয়ে গেছে। (সেগুলোর শিকড় কেটে দেওয়া হয়েছে)। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯৯-১০০)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, ফেরাউন তার জাতির অগ্রভাগে থাকবে। সে সদলবলে দোজখে যাবে। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপাচারের পরিণতিতে দুনিয়ায়ই তারা অভিশপ্ত হয়েছিল। পরকালের বিভীষিকাময় শাস্তি তো তাদের জন্য থাকছেই। ফেরাউন ও তার অনুসারীরা সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়েছিল। ইহকালে এটা ছিল তাদের ঔদ্ধত্য ও নাফরমানির শাস্তি। এ ছাড়া পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। আল্লাহর সৃষ্টির এই নীতি সব যুগের সব দেশের পাপীদের জন্য প্রযোজ্য। পরকালের অনন্ত জীবনের শাস্তির আগে দুনিয়ার জীবনেও পাপীদের বিভিন্ন শাস্তি দিয়ে সতর্ক করা হয়।

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, এর আগে নুহ, হুদ, লুত, সালেহ ও শোয়াইব (আ.)-এর জাতি সম্পর্কে যেসব ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের বহু জনপদ কালের অতলগহ্বরে হারিয়ে গেছে। আর কোনো কোনো জনপদ এখনো টিকে আছে। যেমন ফেরাউনের দেশ মিসর। ফেরাউন তার দলবলসহ সাগরে ডুবে ধ্বংসের শিকার হলেও দেশটি এখনো বহাল আছে। অন্যদিকে আদ ও সামুদ জাতির বাসভূমি ও হজরত লুত (আ.)-এর জাতির জনপদ এমনভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পরে আর সেই অঞ্চলগুলো আবাদ হতে পারেনি।

পবিত্র কোরআনে আগের বহু জাতির ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। সেসব জাতির কেউ শক্তিমত্তায়, কেউ দাম্ভিক আচরণে, কেউ শৈল্পিক জ্ঞানে আত্মম্ভরিতাবশে আর কেউ ক্ষমতার বড়াইয়ে আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। কুফরিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। তারপর তাদের করুণ পরিণতির বিবরণ দিয়ে কোরআন তার পাঠককে হেদায়েতের পথে আহ্বান করেছে। পবিত্র কোরআন কোনো ইতিহাস বা কল্পকাহিনীর গ্রন্থ নয়। মানুষ যাতে অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে জন্যই কোরআনে পুরনো দিনের অনেক কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনে আলোচিত হয়েছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইতিহাস। আলোচিত হয়েছে প্রাচীন জাতি, সভ্যতা ও রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস। আলোচিত হয়েছে প্রকৃতির নানা উত্থান-পতন ও ভাঙা-গড়ার ইতিহাস। তবে কোরআন যেহেতু নিছক ইতিহাসগ্রন্থ নয়, তাই এতে ঐতিহাসিক বিষয়গুলো ছকে বেঁধে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, একই বিষয় খণ্ড খণ্ড আকারে একাধিক স্থানে আলোচিত হয়েছে। কোরআনের আসল উদ্দেশ্য মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথের দিশা। ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, এর মধ্যে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য