kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওবামা-পুতিনের ছবি ও বিভেদের বিশ্বরাজনীতি

অনলাইন থেকে

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভিন্ন ভেন্যু হলেও আয়োজন অভিন্ন : জি-২০ সম্মেলন। এ নিয়ে দুটি ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় ঘুরছে।

দুই ছবিতেই বিশ্বের ক্ষমতাধর ২০টি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানরা দাঁড়িয়ে আছেন। একটি ছবি এ বছরের সম্মেলনের, অন্যটি গত বছরের। ছবি তোলার সময়ের ব্যবধান মাত্র এক বছরের হলেও অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বরাজনীতি যে পাল্টে গেছে তার অনেক জলজ্যান্ত প্রমাণ নিয়ে এসেছে ছবি দুটি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, জি-২০ সম্মেলনের ছবি দুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছর ও আগের বছরের ছবি দুটি পাশাপাশি বসিয়ে তারা ভূ-রাজনীতির বদলে যাওয়াটা ধরিয়ে দিতে চাইছেন।

এবারের সম্মেলনের গ্রুপ ছবিতে দেখা যায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। দুজন আন্তরিকভাবে কথাও বলছেন। তাঁদের অবস্থান ছবির একদিকে। ঠিক অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তিনি ঘাড় বাঁকিয়ে পুতিন-এরদোয়ানের আলাপচারিতার দৃশ্য দেখছেন। অথচ গত বছরের জি-২০ সম্মেলনের গ্রুপ ছবিতে ছিল একেবারেই বিপরীত দৃশ্য : এরদোয়ান-ওবামা আন্তরিকভাবে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছেন পুতিন। তুরস্কে সাম্প্রতিক ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে আংকারার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ে আংকারা।

এবার চীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে  জি-২০ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনস্থল থেকে আরেকটি ছবি তো দুনিয়াজোড়া পত্রপত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ঠাঁই পেয়েছে। ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন। দুজনই দুজনকে দেখছেন, সে দৃষ্টি কঠিন, বরফশীতল।   সোমবার শক্তিধর দুই রাষ্ট্রের প্রধান সিরিয়া ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। দেড় ঘণ্টার বৈঠকেও সিরিয়া সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ দুজন বের করতে পারেননি। মার্কিন প্রশাসন ব্যর্থ বৈঠকের দায়ভার স্বীকার করে বলেছে, সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা রোধে ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই শক্তিধর দেশের নেতা জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসছেন, গণমাধ্যমে এ খবর থেকে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা ছিল মস্কো-ওয়াশিংটন বৈঠকে সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা থেকে বেরোনোর কোনো সূত্র হয়তো বের হবে।

জি-২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওবামা-পুতিন বৈঠক নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেন দুই প্রেসিডেন্টের আলোচ্যসূচিতে থাকার কথা জানিয়ে ছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছিলেন, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকার এবং তাঁর মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়াকে অত্যন্ত প্রয়োজন। রাশিয়াকে ছাড়া এর কোনো সমাধান হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

বৈঠক যে সফল হয়নি পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ দেশটির বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এ বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটির সন্ত্রাসবাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। সরকারি হামলার শিকার হয়ে তারা শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, অনেক নতুন নতুন গেরিলাও দলে ভেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি ওবামা খুবই ‘ভয়ানক’ বলে উল্লেখ করেন। পুতিনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন শত্রু কারা,  তাদের দমন করা যে উচিত—এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের আস্থার অনেক ফারাক হয়েছে। সে শূন্যতাটা আমরা পূরণ করতে পারিনি। ’

সম্মেলনের আগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছিল, চীনের বৈঠকে সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা বন্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কী কী বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিতে পৌঁছানো যাচ্ছে না, তার বিস্তারিত জানাতে সম্মত হননি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা যে বিষয়গুলোকে মীমাংসিত হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম, সেগুলো থেকে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া সরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না, যা ফের ভেঙে পড়বে। ’

গত ফেব্রুয়ারিতে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি করা হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। ওই চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য ওয়াশিংটন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীগুলোকে দায়ী করেছিল। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ নিউ ইয়র্কে ফের মিলিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সোমবার দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় সিরিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন সমঝোতার আশা ক্ষীণ হয়ে গেছে।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী। সিরিয়ায় রুশ বাহিনীও আইএসসহ সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। চলমান রয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটেরও অভিযান। তবে বাশার আল আসাদের অভিযোগ, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য সিরিয়ার ক্ষমতার পালাবদল।

সূত্র : সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট

হিন্দুস্তান টাইমস


মন্তব্য