kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাগিদ

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাগিদ

৮৯. [শোয়াইব (আ.) বললেন] হে আমার জাতি! আমার সঙ্গে বিরোধ যেন তোমাদের এমন অপরাধ না করায়, যার ফলে তোমাদের ওপর নুহ, হুদ বা সালেহর জাতির মতো আজাব আপতিত হয়। আর লুতের জাতি তো তোমাদের থেকে বেশি দূরে নয়।

৯০. তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করো। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু ও প্রেমময়। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮৯-৯০)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, নবীরা শত বাধা সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হন না। হজরত শোয়াইব (আ.)ও তাঁর দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি। তিনি অবিশ্বাসীদের হুঙ্কার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বলেন, আমি তোমাদের যা নিষেধ করি, নিজে তা করতে চাই না। আমি আমার সাধ্যমতো সংস্কার করতে চাই। আমার কার্যসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী। আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, শোয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে সত্য ও একত্ববাদের প্রতি আহ্বানের পর তাদের সতর্ক করেন। তিনি তাদের অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলেন। তিনি লুত (আ.)-এর জাতির পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এ তো বেশি পুরনো কোনো ঘটনা নয়। লুত (আ.)-এর জাতির আবাসস্থলও তোমাদের কাছ থেকে তেমন দূরে নয়। এর আগে হজরত নুহ, হুদ ও সালেহ (আ.)-এর জাতি আল্লাহর অবাধ্য হওয়ায় আসমানি আজাব তাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। এসব ইতিহাস থেকে তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

মানব ইতিহাসে সংঘটিত সব ঘটনাই মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। মানুষের উচিত অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। ইতিহাস সাক্ষী, আল্লাহর নির্দেশ অমান্যকারী ব্যক্তি বা জাতিকে এ জগতেই কোনো না কোনোভাবে প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধঃপতিত গোটা জাতিই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আল কোরআনে বিভিন্ন নবী ও আগের অনেক জাতির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্যও হলো মানুষকে ইতিহাসের সত্য ও শিক্ষার দিকে ধাবিত করা। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ঘটনায় বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১১)

দ্বিতীয় আয়াতের মূল বক্তব্য হলো, মাদিয়ানবাসী হজরত শোয়াইব (আ.)-এর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু শোয়াইব (আ.)-এর মনে নবী হিসেবে মানুষের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা ছিল। ফলে তিনি মাদিয়ানবাসীর আচরণে অসহিষ্ণু হননি। তিনি তাদের বিশ্বাস ও কার্যকলাপের পরিণতির ব্যাখ্যা দেন এবং তাদের সতর্ক করেন। তিনি তাদের অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেন। আল্লাহর আদেশ মেনে নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তাদের উৎসাহ দিয়ে তিনি এটাও বলেছেন যে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু। তিনি মানুষকে খুব ভালোবাসেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে শুধু ক্ষমাই করেন না, তিনি তাওবাকারী ও অনুতপ্ত বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই কোনো পাপকাজ সংঘটিত হলে মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে তাওবা করা।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য