kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

মনের কোণে হীরে-মুক্তো

কলম্বোর শিক্ষা

ড. সা’দত হুসাইন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কলম্বোর শিক্ষা

দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের আঞ্চলিক সম্মেলন চলতি বছরের ২৫ ও ২৬ জুলাই শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতির (বিএসটিডি) প্রতিনিধি হিসেবে আমি ও আমার বন্ধু বিএসটিডির সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন এ সম্মেলনে যোগ দিই।

সম্মেলনের আগের দিন, ২৪ জুলাই আমরা ঢাকা থেকে কলম্বো রওনা হয়েছিলাম এবং সম্মেলনের এক দিন পরই ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেছি। এ কারণে কলম্বোর বাইরে কোথাও যেতে পারিনি। যা কিছু ঘোরাফেরা কলম্বোয়ই করতে হয়েছে।

আমি অবশ্য এর আগে একাধিকবার শ্রীলঙ্কা গিয়েছি। তবে তা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। তখন শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভালো ছিল না। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ছিল দেশটি। তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আজ এখানে, কাল সেখানে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। দেশের অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তি, এমনকি পদাসীন প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসাও তাদের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তার পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা রাজধানীসহ পুরো দেশে জেঁকে বসেছিল। কলম্বোর বাইরে সফরে যেতে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন নিতে হয়। কলম্বোর মধ্যেও আমাদের চলাফেরা সীমিত ছিল। নানা ধরনের বাধানিষেধের আওতায় আমাদের চলাফেরা করতে হতো। কোনো এক উঁচুমানের হোটেলের লনে সন্ধ্যাকালীন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েকজন মন্ত্রী এসেছিলেন। তাঁদের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একঝাঁক লোক ছিল। আতঙ্কের পরিমাণ আরো বেড়ে গিয়েছিল।

দেশে থেকেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তামিল টাইগাররা সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হওয়ার পর কলম্বো শহরে ভীতিকর অবস্থার অবসান হয়েছে। দেশের অন্যান্য জায়গায়ও এখন চোরাগোপ্তা আক্রমণ নেই। যদিও শোনা যায় তামিলদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ ছাড়া যুদ্ধকালে ও যুদ্ধের অব্যবহিত পরে তামিলদের প্রতি রাজাপাকসে সরকারের নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্ত ইত্যাদি এখনো চলছে। পূর্ববর্তী সরকার এ তদন্তের বিরোধিতা করে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করলেও বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে তেমন কোনো বিরোধিতা করছে না। শ্রীলঙ্কার অবস্থা স্বাভাবিক ও শান্তিপূূর্ণ জেনেই আমরা কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হই।

বর্তমানে শুধু মিহিন লঙ্কা নামে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ঢাকা ও কলম্বোর মধ্যে সরাসরি চলাচল করে। প্রতিদিন তাদের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। একসময় বাংলাদেশ বিমানেরও সরাসরি ফ্লাইট ছিল, পরে তা বন্ধ হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে, বিমান এ বছরের মধ্যে আবার সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। ব্যাংকক অথবা ভারতের চেন্নাই কিংবা মুম্বাই হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভাড়া অনেক বেশি এবং সময়ও অনেক বেশি লাগে। এ কারণে মিহিন লঙ্কার সরাসরি ফ্লাইটে ভ্রমণ করার বাস্তব বিকল্প নেই বললেই চলে। মিহিন লঙ্কা বোধ হয় এই মনোপলি  সুযোগ ব্যবহার করে টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেশি ধার্য করেছে। রিটার্ন টিকিটের দাম ইকোনমি ক্লাসে ৫৫ হাজার টাকা এবং বিজনেস ক্লাসে ৮১ হাজার টাকা। এ ভাড়া গুনেই আমাদের ভ্রমণ করতে হয়েছে।

ঢাকা-কলম্বো ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা অত্যধিক নয়। টিকিট পেতেও খুব কষ্ট হয় না, প্লেন খালি যায় এমনটিও বলা যাবে না। যাত্রীদের একাংশ মালদ্বীপের পর্যটক। এক টিকিটে দুই দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ পাওয়া যায় বলে কলম্বো-মালে ভ্রমণে পর্যটকরা উৎসাহিত বোধ করেন। আমরা দুপুর ১২টার ফ্লাইটে রওনা দিলাম। বিমানে ভ্রমণ সময় পৌনে তিন ঘণ্টা। শ্রীলঙ্কার সময় বাংলাদেশ থেকে আধঘণ্টা পিছিয়ে। অপরাহ্ন আড়াইটার কাছাকাছি আমরা বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কলম্বোয় অবতরণ করলাম। বিমানবন্দরটি বৃহৎ আকারের নয়। যাত্রীসংখ্যা সীমিত। ইমিগ্রেশন, কাস্টমসে ঝক্কি-ঝামেলা নেই। খুব সহজে এসব পার হয়ে বাইরে এলাম। এমডি সার নির্বাহী পর্ষদের সদস্যকে নেওয়ার জন্য ভাড়া গাড়ি কম্পানির এক প্রতিনিধি অপেক্ষা করছিলেন। আমাদের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি টেলিফোন করে একটি গাড়ি আনালেন। গাড়িটি বেশ ভালো। গাড়ির ড্রাইভার ও ভদ্রলোক—দুজনেই জানালেন যে রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় এক্সপ্রেস ওয়েতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণ পথে গেলেই চলবে, তাতে ৬০০ শ্রীলঙ্কার রুপি কম খরচ হবে। ইচ্ছা করলে তাঁরা এক্সপ্রেস ওয়ের নাম করে আমাদের কাছ থেকে ৬০০ রুপি বেশি নিতে পারতেন। কিন্তু সে রকম কিছু তাঁরা করেননি। আমরা নিরাপদে হোটেলে চলে এলাম।

ম্যারিন ড্রাইভে অবস্থিত গ্লোবাল টাওয়ার হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি সাগর পারে নবনির্মিত একটি উঁচুমানের হোটেল। রুম ভাড়া যৌক্তিক মনে হয়েছে, দৈনিক মাত্র ৮০ ইউএস ডলার। হোটেলের রুম থেকে সাগর দেখা যায়। একটু হেঁটে গিয়ে সাগর পাড়ে বসা যায়। তবে মূল ‘বিচ’ গলফ ফেস নামক স্থানে, যা আমাদের হোটেল থেকে ছয়-সাত কিলোমিটার দূরে। সেটি শহরের পুরনো অংশে পড়ে, যদিও রাষ্ট্রপতির অফিস, পুরনো পার্লামেন্ট শহরের এ অংশে অবস্থিত। আমরা রবিবারে কলম্বো পৌঁছি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিধায় দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাটে লোকজন কম। গাড়ির সংখ্যাও সীমিত। বিকেলে হেঁটেই আমরা আশপাশের পথঘাট দেখলাম।

কলম্বোর রাস্তাঘাট, ফুটপাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কোথাও দখলদারির লেশ নেই। ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে কোনো হকার বসেনি। মেরামতের জন্য আনা গাড়ি রাস্তার ওপর রাখা হয়নি। রাস্তার পাশে গাড়ি মেরামতের যে গ্যারেজ রয়েছে, সব গাড়ি তার ভেতরে রাখা আছে। আমাদের শহরে মেরামতের গাড়ি হয় রাস্তার ওপরে, না হয় ফুটপাতে রেখে রাস্তা ও ফুটপাত দুটিই বেদখল করা হয়। রাস্তা ও ফুটপাতে চলাচলে কার কী অসুবিধা হচ্ছে তা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। কলম্বোয় রাস্তা-ফুটপাত দখল-বেদখলের বালাই নেই।

কলম্বোয় আমি কোনো ভাঙা রাস্তা দেখিনি। অলিগলির কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। আমরা মাত্র দু-একটি গলিপথ দেখেছি। সেগুলো খুব চওড়া নয়, দুটি গাড়ি চলতে পারে। সেসব গলিপথও ভাঙা নয়। রাস্তায় দিনের বেলায় ট্রাক খুব একটা চলে না। বাস, পিকআপ, কার, জিপ, বেবিট্যাক্সি, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলে। কলম্বোর লোকজন ধীরস্থির প্রকৃতির। তারা হুড়মুড় করে, কনুই মেরে, ল্যাং মেরে কিংবা গুঁতোগুঁতি করে রাস্তায় চলাফেরা করে না। ধীরে-সুস্থে প্রতিবন্ধকহীন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যায়। দেখেশুনে জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। গাড়িগুলো সোজা লাইন ধরে রাস্তায় চলে, বারবার লেন পরিবর্তন করে না। আমাদের দেশের বাসগুলোর মতো যাত্রী তোলার জন্য থেমে থাকে না। আবার যাত্রী ওঠানোর পর কোনা কেটে অন্য গাড়িগুলোকে আটকে রাস্তার অন্য পাশে যায় না। ফলে কলম্বোর রাস্তার দুর্বিষহ ট্রাফিক জ্যাম নেই। সিগন্যাল বাতির ইশারায় সবুজ বাতিতে গাড়ি চলে, লাল বাতিতে থেমে থাকে, যা ঢাকায় সচরাচর ঘটে না। ঢাকায় ট্রাফিক পুলিশের মর্জিমতো লাল বাতিতেও গাড়ি চলে, আবার সবুজ বাতিতে গাড়ি থেমেও থাকে। কলম্বোর রাস্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক ভাড়ার ক্যাব দেখা যায়। মজার ব্যাপার, এ শহরে ‘ন্যানো’ মডেলের গাড়ি ভাড়ার ক্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমরা এ ধরনের গাড়িতে চড়িনি। ধারণা করছি, ন্যানো ক্যাবে ভাড়া কম হবে, এতে এক লিটার তেলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার চলে। নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি লিটার তেল ছিল ১৬২ শ্রীলঙ্কান রুপি, বর্তমানে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ১১৭ শ্রীলঙ্কান রুপিতে (বাংলাদেশি ৬৪ টাকা)। গাড়ির মালিক ও যাত্রী সাধারণ উভয়ের জন্য এটি বড় রকমের স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের গাড়ি আমাদের হোটেল থেকে সেমিনার ভেন্যুতে নিয়ে যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো বাড়তি আড়ম্বর ছিল না। পরিপাটি আয়োজন। ভিআইপি হিসেবে কাউকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ভিআইপিদের কোনো সিট সংরক্ষিত ছিল না। সবাই সম্মানিত ব্যক্তি, সে হিসেবে সবাই ভিআইপি। যাঁরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন, শুধুই তাঁরাই মঞ্চে বসা। প্রত্যেকেই প্রাঞ্জল ভাষায় যথাপরিসরে লক্ষ্যবিদ্ধ বিষয়ের ওপর তাঁদের বক্তব্য দিয়েছেন। স্তুতি, বন্দনা, নিজের গুণগান কিংবা চাটুকারিতার লেশ মাত্র ছিল না। তথ্যসমৃদ্ধ যৌক্তিক বক্তব্য সবার মন কেড়েছে বলে আমার ধারণা। আমার বন্ধু মোশাররফের মূল্যায়নও একই। অনাড়ম্বর পরিবেশে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়েছিল।

পরদিন ছিল ‘বিজনেস সেশন’। বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত অতিথিরাই এতে উপস্থিত ছিলেন। পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিবৃন্দ তাঁদের নিবন্ধ উপস্থাপন করেছিলেন। এখানে একটি দুর্বলতা লক্ষণীয় ছিল। প্রতিনিধিদের সামনে কোনো ফোল্ডার, নোট বই কিংবা কলম রাখা ছিল না। এমনকি সাদা কাগজও রাখা ছিল না। প্রয়োজন বোধে চেয়ে নিতে হয়েছে। তবে কর্মসূচি ছিল নিটোল। উপস্থাপক ও বক্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। উন্মুক্ত আলোচনায় প্রত্যাশী অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাউকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়নি। অধিবেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগে র‍্যাপোটিয়ার সংক্ষেপে অধিবেশনের মূল ভাবনা ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরে তাত্ক্ষণিক প্রতিবেদন পেশ করেছেন। সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে সবার সন্তুষ্টির মধ্য দিয়ে বিজনেস সেশন শেষ হয়েছে। আমরা প্রীতিভোজে যোগ দিয়েছি।

শ্রীলঙ্কান ভোজে দক্ষিণ ভারতীয় প্রভাব চোখে পড়ার ও জিভে লাগার মতো। এখানে মাছ-মাংসের উপস্থিতি লক্ষণীয় নয়। তার বদলে সবজি, পনির, নারকেল, ইদলি, দোসা  চাটনির ছড়াছড়ি। বৌদ্ধপ্রধান দেশে মাংসের স্বল্পতা মেনে নেওয়া গেলেও সাগরবেষ্টিত শ্রীলঙ্কায় মাছের আইটেম পর্যাপ্ত না থাকাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে মন চায় না। হোটেলের মাছ-মাংস-সংবলিত প্রাতরাশে অসুবিধা না হলেও মধ্যাহ্ন ও নৈশ ভোজে মাছ-মাংসের অনুপস্থিতি অনুভূত হতো। অতৃপ্তির অবসান ঘটাতে ম্যাকডোনাল্ড, কেএফসি কিংবা ভারতীয় হোটেলে যেতে হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। তবে আমাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তাঁদের সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পর মাত্র এক দিন সময় পেয়েছিলাম দোকানপাটে যাওয়ার। পুরনো শহর ‘পেটায়’, যাকে ওল্ড মুরস স্ট্রিটও বলা হয়, গিয়েছি ‘চা’ কেনার জন্য। এ জায়গাটা আমাদের পুরান ঢাকার বাজার বা দিল্লির করলবাগের মতো। অবশ্য পুরান ঢাকার মতো অত ঘিঞ্জি ও অপরিষ্কার নয়। এটি কলম্বোর মসলা ও  চায়ের বাজার। মালামালের পরিমাণ ও বৈচিত্র্যের অভাব নেই। দোকানদারদের ব্যবহার চমৎকার। কোনো পণ্য কারো দোকানে না পাওয়া গেলে দোকানদার আপনাকে অকপটে বলে দেবে তা কোন দোকানে পাওয়া যাবে। ঢাকা ও কলকাতার দোকানদাররা বলবে এ ব্র্যান্ডের পণ্য এখন বাজারে পাওয়া যায় না, অতএব তার দোকানের জিনিসটি কেনাই সমীচীন হবে। আসলে হয়তো জিনিসটি বাজারে ঠিকই পাওয়া যাবে, তবু সামান্য লাভ ও লোভের জন্য আমাদের দোকানদার জেনেশুনে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে। কলম্বোর বড় বড় দোকানেও সেলসম্যানদের অকপট ও আন্তরিক ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাদের কারো মধ্যেই চালবাজির প্রবণতা দেখিনি। আমরা যে গাড়িটি ভাড়া করে নিয়ে গিয়েছিলাম, তার চালকও ফন্দিফিকির করে আমাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিতে চেষ্টা করেনি।

ফিরে আসার পথে আমার বন্ধু মোশাররফ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এই কদিনে কলম্বোর কোনো লোকের আচার-আচরণ, ব্যবহার তোর কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছে কি না, কোনো লোককে চালবাজ-ধাপ্পাবাজ মনে হয়েছে কি না?’ আমার উত্তর ছিল, ‘না’। এটি ছিল আমাদের জন্য কলম্বো সফরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

 


মন্তব্য