kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাদাকালো

তনু হত্যার অপরাধীরা কি অধরাই থেকে যাবে

আহমদ রফিক

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তনু হত্যার অপরাধীরা কি অধরাই থেকে যাবে

কোনো কোনো ঘটনা বিশেষ করে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড সমাজে ঝড় তোলে। স্বতঃস্ফূর্ত সে ঝড় দ্রুত জনমানস আন্দোলিত করে ছড়িয়ে যায়।

সৃষ্টি করে গণ-আন্দোলন। সে গণ-আন্দোলন কখনো সত্যের জয় ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। যেমন—দিনাজপুরের কিশোরী গৃহপরিচারিকা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড। এ হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল যৌন নির্যাতন (প্রচলিত সাদা বাংলায় ধর্ষণ) ধামাচাপা দেওয়া। কারণ মৃত মানুষ কথা বলে না, সাক্ষ্য দেয় না, বিচার চায় না। তাই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্যাতিত ইয়াসমিনকে খুন করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় অপরাধী ঘাতক তিন পুলিশ। তখন ইয়াসমিনের বয়স ১৩ বছর।

এ ঘটনার তারিখ ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। ইয়াসমিন হত্যার বর্বরতাকে কেন্দ্র করে শহর দিনাজপুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যা এবং বহুসংখ্যক আন্দোলনকারীকে আহত করে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কারণে আন্দোলন ব্যাপকতা পায়। স্থানীয়ভাবে জারি করা ১৪৪ ধারা ও কার্ফ্যু কোনো কাজে আসে না। শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

তখন বিএনপির শাসনামল। চকলেট আপাদের আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিডিআর নামিয়েও অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। কারণ প্রতিবাদী মানুষজনের ধারণা ছিল ঘাতক যেহেতু পুলিশ, তাই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হবে, ঘাতকদের সুষ্ঠু বিচার হবে না। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচার অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তার ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। বিচার অবশ্য ঠিকই হয়েছিল, তবে প্রায় ১০ বছরে। তিন অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয় ২০০৪ সালের আগস্টে।

দুই.

২৪ আগস্টে ইয়াসমিন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মনে আসে সম্প্রতি সংঘটিত তনু হত্যার ঘটনা। মেয়েটির চোখে স্বপ্ন ছিল সে একজন কৃতী নাট্যকর্মী হবে, ভালো গান গেয়ে নাম করবে, পরিবারে সচ্ছলতা আনবে। সব স্বপ্ন রক্তে ভিজে শেষ হয়ে গেল কামার্ত কয়েকজন প্রভাবশালী দুর্বৃত্তের হামলায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর।

গত পাঁচ মাসে এই নির্যাতিত তরুণীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রসঙ্গে কত ঘটনাই না প্রত্যক্ষ করলাম।

প্রথমত (কুমিল্লা) সেনানিবাসের মতো নিরাপদ এলাকায় এমন একটি হত্যাকাণ্ড দেশময় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কুমিল্লা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তনু হত্যার সুবিচারের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ-সিআইডির ভাষ্যে মিলেছে যে এটি  পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এতে জড়িত তিন থেকে চারজন। পরে একপর্যায়ে ডিএনএ রিপোর্টে (১৭-৫-২০১৬) এমন তথ্যও পরিবেশিত হয়েছে যে ‘পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে এবং তিন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে। ’

অথচ কী আশ্চর্য, প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বিলকুল সব অস্বীকার করা হলো। ঘটনার দিন তনুর মা-বাবা তাঁদের কন্যার মাথার পেছনে ও কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন এবং সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। কিন্তু সদ্য সম্পন্ন প্রথম ময়নাতদন্তে সেসবের উল্লেখ নেই। এমনকি দ্বিতীয় তদন্তের প্রতিবেদন এক পা এগোলেও তা দুই পা পেছানোর মতোই মনে হয়। তাতে যৌন সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে, তবে তা ধর্ষণের কি না তা তাদের জানা নেই। অর্থাৎ রীতিমতো গোঁজামিলের রিপোর্ট।

অন্যদিকে ডিএনএ রিপোর্টে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন করতে হয়, তনু কি তিনজনের সঙ্গে ওই ঝোপের আড়ালে যৌন সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়েছিল—তাই যদি হবে, তাহলে তাকে হত্যার কী প্রয়োজন ছিল? এমন একাধিক প্রশ্ন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের পেশাগত সততা ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যদিকে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের মন্তব্য খুবই যুক্তিসংগত ও তাৎপর্যপূর্ণ : ‘শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকলে তনুর শরীরে কেন কাটাছেঁড়া করা হলো?’

একটি দৈনিকে তাই বিদ্রূপাত্মক শিরোনাম : ‘আবারও প্রশ্নবিদ্ধ ময়নাতদন্ত। ’ ‘তাহলে কি খুন হননি তনু! মানুষ যখন বিবেক হারায়, লোভ বা ভয়ের কাছে তখন সত্য প্রকাশ পায় না। তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তেমনটাই ঘটেছে। তবে পুলিশের প্রচেষ্টায় প্রথম দিকে আশার ইশারা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সফল তদন্ত নিয়ে আশঙ্কাই সত্য হয়ে থাকল গত ছয় মাসের পুলিশি তৎপরতায়। প্রবল হতাশা প্রকাশ পেল তনুর মা-বাবার বক্তব্যে। শেষ পর্যন্ত হতাশ দেশের যুক্তিবাদী মানুষ, যাঁরা তনু হত্যায় জড়িতদের বিচার চেয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার বা লেখালেখির মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছিলেন। তা আরো স্পষ্ট হলো যখন আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলো, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন’ (২৮ জুন ২০১৬)।

এরপর তনু হত্যার সুবিচার আশা করাই ভুল। পূর্বোক্ত দৈনিকের রসাল মন্তব্যই সঠিক ‘তনু খুন হননি’। ময়নাতদন্তের দুই প্রতিবেদনে ব্যক্ত মোটা দাগের স্ববিরোধিতা ও প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান সত্ত্বেও বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের নীরবতা আমাদের কাছে সত্যিই বিস্ময়কর মনে হয়। যত দূর শুনেছি, সেখানে একটি এথিক্স সাবকমিটিও আছে। এমনকি এ বিষয়ে মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও চুপ।

তিন.

এরপর আর তনুর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ কোথায় যখন নির্ভুল, ত্রুটিহীন তদন্ত রিপোর্টই প্রণীত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যুক্তিতর্ক বলে এর কারণ একটিই। ধর্ষক-ঘাতকত্রয় অতিশয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, সে জন্য ‘ডিএনএ’ রিপোর্ট সন্দেহভাজন কারো সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলো না। এত বড় বীভৎসাচারের শাস্তির পথ বন্ধ হয়ে গেল, যা অন্যদের অনুরূপ দুষ্কর্মে উৎসাহিত করবে। এরই মধ্যে তেমন ঘটনা প্রকাশ পেতে শুরু হয়েছে।

যেমন—কদিন আগে মিরপুরের সাইক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌসীর মৃত্যু নিয়ে চলছে বিতর্ক। পরিবার ও সহপাঠীদের অভিযোগ, এ ঘটনা আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তেমনি অভিযোগ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে, যা প্রত্যাখ্যান করেছে আফসানার পরিবার এবং তার সংগঠন ও সহপাঠীরা।

যদি তার মৃত্যু আত্মহত্যাই হবে, তাহলে অচেতন আফসানাকে মিরপুর আল হেলাল হাসপাতালে ফেলে রেখে দুই তরুণ পালিয়ে যাবে কেন? এতেই তো বোঝা যায়, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। ’ তাই দাবি উঠেছে নতুন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার। তা যদি করাও হয় তাহলে আমাদের মনে হয় নতুন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়তো পুরনো পথই ধরবে, যেমন দেখা গেছে তনু হত্যার ক্ষেত্রে।

তবু ইতিবাচক আশা করতে দোষ কী? তাই যথাযথভাবে আবার ময়নাতদন্ত করা হোক এটি আমাদেরও দাবি। দাবি সুষ্ঠু পুলিশি তদন্তের। কারণ পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট যদি যথাযথ ও সঠিক না হয়, তাহলে সুবিচারের সম্ভাবনা কমে যেতে বাধ্য। তাই এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুলিশি তদন্তের সততা ও যথার্থতা। মামলার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়লেই সেখানে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। সত্য হয়ে যায় মিথ্যা। মিথ্যাই সত্য হিসেবে উঠে আসে। আমাদের অপেক্ষা সত্যের জন্য।

বাংলাদেশি সমাজে এভাবে সত্য ধামাচাপা পড়ছে নানা কুপ্রভাবে। কবির ভাষায়, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। ’ সে কান্না কেউ শুনতে পায়, কেউ পায় না। পেলেও তার ফয়সালা হয় না একাধিক কারণে। তনুর মামলা ঝুলে আছে, কারণ তনুর পরিবার নিম্নবিত্ত শ্রেণির। তাদের ক্ষমতার হাত বেশি দূর যায় না। অন্যদিকে অজ্ঞাত প্রতিপক্ষ শক্তিমান, প্রভাবশালী; তাই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ভিন্নকথা বলে। পুলিশি তদন্ত সত্যের কাছাকাছি পৌঁছেও নিশ্চল হয়ে থাকে।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর ত্বকী হত্যার বাস্তব চিত্রটি পরস্ফুিট হতে হতেও ঝাপসা আঁধারে ডুবে থাকে। তা আর সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয় না। অন্যদিকে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যা অদ্ভুত এক রহস্যে ডুবে থাকে। এর তদন্ত তৎপরতাও ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে থাকে। হয়রানি দৃশ্যমান বাবুল আক্তারের জীবিকা নিয়ে। মিতু হত্যা রহস্যের জটগুলো যুক্তিবাদী মানুষের চোখে খুব একটা দুর্ভেদ্য বলে মনে হয় না। তবু মাঝপথে গোটা প্রক্রিয়াই যেন নিশ্চল হয়ে থাকে নানা স্বার্থের টানে।

চার.

প্রশ্ন উঠতে পারে, এ কোন বাংলাদেশ, যেখানে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক শক্তি সত্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কোন সমাজ, যেখানে সত্য বৈষম্যের শিকার, তাই সুবিচার সমস্যার সম্মুখীন। এ সমাজে নানা অন্ধকার গলিপথ এতই যে চোরাপথে সত্য হারিয়ে যেতে থাকে, জয় হয় মিথ্যার। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এ সমাজে কি শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অর্থের প্রাধান্য? সমাজটা কি রাজনৈতিক ক্ষমতার নির্দেশে চলে? এমনকি পুলিশি তদন্ত আপন ইচ্ছামতো চলে?

ব্লগার ও মুক্তমনা বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত বহু প্রতিবাদের মুখেও একসময় আলোর মুখ দেখেনি। এখন গুলশান হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার টানে যখন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান কিছুটা হলেও সাফল্যের মুখ দেখছে, আশ্চর্য যে ঘটনার বছর কয়েক পর এখন ব্লগার অভিজিৎ, দীপন প্রমুখের হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারছে পুলিশ। প্রশ্ন উঠতে পারে, এত দিন কী সমস্যা তাদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল? জবাব মেলে না। আনসারুল্লাহ টিমের যে ঘাতক সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, সেই সন্ত্রাসীরা এখন গোয়েন্দাদের বেড়াজালে আটকা পড়ছে কিভাবে? তাদের কেউ কেউ আবার ধরাও পড়ছে। সত্যি অবিশ্বাস্য ঘটনা! নির্মোহ যুক্তিবাদী মানুষ প্রশ্ন করতে পারেন: তাহলে কি ঘটনাবলি আমাদের এমন ইঙ্গিতই দেয় যে আমাদের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশিষ্টদের ক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি ইচ্ছা ও চেষ্টার প্রকাশে। এবং তা কেন ও কিভাবে নিষ্ক্রিয় বা সক্রিয় হয়, সফল বা ব্যর্থ হয় সে রহস্য আমাদের জানা নেই।

শুধু এটুকু জানা আছে, তাদের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা অনেক রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে, অনেক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে মিতু হত্যার রহস্যজট নিয়ে আমরা কী ভাবব? তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনও কি এর আগে ব্যক্ত বৈষম্যের শিকার? কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের টানে অনুদ্ঘাটিত ত্বকী হত্যার বিশদ ঘটনা? কথিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এ ধরনের নানা প্রভাবজনিত বৈষম্য তো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী।

জানি, এ-জাতীয় লেখা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নজরে আসবে না কিংবা নজরে এলেও তা তাদের নীতিবোধে দাগ কাটবে না, তারা তাদের মতো করেই চলবেন, তবু বর্তমান অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা একটু বেশিই। গুলশান বর্বরতার অপরাধী সংগঠন শনাক্ত করার সার্বিক তৎপরতায় তনু, মিতু হত্যার তদন্ত পিছিয়ে পড়লেও যে সক্রিয়তায় এত দিন পর অভিজিৎ-দীপন প্রমুখের হত্যাকারীরা ধরা পড়তে শুরু করেছে। আমরা চাই একই রকম তৎপরতায় তনু, মিতু ও আফসানা হত্যার দুর্বৃত্তরা বিচারের সম্মুখীন হোক।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা উপসংহারে—বহু অপরাধের প্রশাসনিক ঢিলেমিতে উচ্চ আদালতকে দেখা গেছে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনামা জারি করতে। আমরা চাই তনু হত্যার বিচারে উচ্চ আদালত তেমন কোনো ব্যবস্থা নিন, যাতে সুবিচারের অধিকার নিশ্চয়তা পায়। আফসানা হত্যা ও অনুরূপ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একই কথা খাটে।

এসবেও সমস্যার সমাধান না হলে বাকি থাকে একটিই উপায় বা হাতিয়ার, আর তা হলো ব্যাপক গণ-আন্দোলন। দিনাজপুরের ১৯৯৫ সালে যে গণ-আন্দোলন সারা দেশকে জাগিয়ে দিয়েছিল, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজকেন্দ্রিক তেমন একটি ব্যাপক গণ-আন্দোলন এখন গোটা দেশের হৃদয় স্পর্শ করলে তবেই হয়তো কায়েমি স্বার্থের অচলায়তন ভাঙবে, হত্যাকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে এই তদন্তকারীদের হাতেই এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত হবে সুবিচারের কাঠগড়ায়। কুমিল্লার সচেতন সমাজকে সুবিচারের অধিকার নিজেদেরই আদায় করে নিতে হবে।

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী


মন্তব্য