kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহ সর্বোত্তম রিজিকদাতা

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহ সর্বোত্তম রিজিকদাতা

৩১. জিজ্ঞেস করো, কে তোমাদের আকাশ ও জমিন থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করেন, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, কে জীবিতকে মৃত হতে এবং মৃতকে জীবিত হতে বের করেন? তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ’। বলে দাও, ‘তবুও কী তোমরা সাবধান হবে না?’

৩২. তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রকৃত প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হচ্ছ (ফিরে যাচ্ছ)?

৩৩. এভাবে সত্য ত্যাগীদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের এই বাণী সত্য হয়েছে যে তারা ইমান আনবে না। (সুরা-ইউনুস, আয়াত : ৩১-৩৩)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে শিরক ও মুশরিকদের প্রসঙ্গে আলোচনা ছিল। ওপরে উল্লিখিত আয়াতগুলোতে একত্ববাদের প্রাকৃতিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে অভিভাবকসুলভ পন্থায় মুশরিকদের প্রতি কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আসমান ও জমিন থেকে কে রিজিক দান করেন? শোনার জন্য কান কে দিয়েছেন? দেখার জন্য চোখ কে দিয়েছেন? আবার কে মানুষের শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি কেড়ে নেন? কে মৃত বস্তু থেকে জীবিত বস্তু বের করেন? কে মাটি থেকে ঘাস, বীর্য থেকে মানুষ ও প্রাণীদের বের করে আনেন? এসব প্রশ্নের জবাবে মুশরিকরাও বলে, ‘আল্লাহ’। এ সবকিছু প্রাকৃতিক নিয়মে হয় বটে, কিন্তু এগুলোর ব্যবস্থাপক হলেন আল্লাহ।

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক প্রমাণের আলোকে যখন প্রমাণিত হলো বিশ্বজগতের ব্যবস্থাপক একমাত্র আল্লাহ, তখন আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।

তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, শত প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও এটাই বাস্তব সত্য যে অবিশ্বাসীরা ইমান আনবে না। মুশরিকরা শিরক করা থেকে বিরত হবে না।

মানুষের জীবনে ধন-সম্পদ একটি ক্ষণস্থায়ী বিষয় হলেও জীবনাচারের জন্য সম্পদের প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ রেখেই ইসলাম মানুষকে হালাল রিজিক অনুসন্ধান করতে বলেছে। হাত গুটিয়ে না রেখে কাজ করতে বলেছে। অন্যের কাছে হাত পাতাও ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলামের নির্দেশনা হলো, অভাবের সময় চেষ্টা-তদবিরের পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করতে হবে।

এমন কিছু আমল আছে, যা রিজিক বাড়ায়। এসব আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। যে আল্লাহকে ভয় করে, তাকওয়া অর্জন করে, আল্লাহ তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন যে সে টেরও পায় না। এটা আল্লাহর অঙ্গীকার। আল্লাহর অঙ্গীকার সত্য। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেন। ’ (সুরা-তালাক, আয়াত : ২-৩)

রিজিক বাড়ে এমন আমলের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে, অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার পড়া। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। (সুরা-নুহ, আয়াত : ১০-১২)

দান-সদকা ও আল্লাহর পথে খরচ করার মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি (আল্লাহ) তার প্রতিদান দেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা। ’ (সুরা-সাবা, আয়াত : ৩৯)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য