kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহ মানুষকে শান্তির পথে ডাকেন

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহ মানুষকে শান্তির পথে ডাকেন

২৫. আল্লাহ মানুষকে দারুসসালাম তথা শান্তি-নিরাপত্তার আবাসের দিকে আহ্বান করেন। [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৫ (প্রথমাংশ)]

তাফসির : আগের আয়াতে পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, দুনিয়ার যত সুখ, যত সৌন্দর্য, সব কিছুর ক্ষয় আছে, লয় আছে। এগুলোর স্থায়িত্ব নেই, স্থিতিশীলতা নেই। আলোচ্য আয়াতের এই অংশে বলা হয়েছে, দুনিয়ার জীবনের বিপরীতে আরো একটি জীবন আছে। সেটি হলো পরকালের জীবন। পরকালের জীবনের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা চিরদিনের জন্য। সে সুখের ঘর হলো জান্নাত। আল্লাহ মানুষকে চিরসুখের ঘর জান্নাতের পথে আহ্বান করেন।

দারুসসালামের মর্মার্থ : আলোচ্য আয়াতে দারুসসালামের দিকে আহ্বান করার কথা বলা হয়েছে। দারুসসালামের মর্মার্থ হলো জান্নাত। জান্নাতকে দারুসসালাম বলার কারণ হলো, এর অধিবাসীরা সব ধরনের শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। কোনো কোনো তাফসিরবিদ বলেছেন, জান্নাতের নাম এ জন্য দারুসসালাম রাখা হয়েছে যে জান্নাতের অধিবাসীদের প্রতি সব সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছতে থাকবে; বরং সালাম শব্দই হবে জান্নাতবাসীদের পরিভাষা। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভাববিনিময় করবেন, মনোবাসনা ব্যক্ত করবেন। সে অনুযায়ী ফেরেশতারা তা সরবরাহ করে দেবেন।

এতে প্রতীয়মান হয়, দুনিয়ায় কোনো ঘরের নাম ‘দারুসসালাম’ রাখা সমীচীন নয়। একইভাবে কোনো ঘরের নাম ‘জান্নাত’ কিংবা ‘ফেরদৌস’ রাখাও বৈধ নয়। (মা’আরেফুল কোরআন, মুফতি শফি রহ.)

দাওয়াতের গুরুত্ব ও তাত্পর্য : দাওয়াত শব্দটি আরবি। এর অর্থ ডাকা, আহ্বান করা। ইসলামের পরিভাষায় পথহারা মানুষকে দ্বীনের দিকে আসার আহ্বান জানানোকে দাওয়াত বলা হয়। উল্লিখিত আয়াতে দাওয়াত শব্দকে আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে দারুসসালামের প্রতি দাওয়াত দেন, আহ্বান করেন। আল্লাহর এ দাওয়াত বা আহ্বান মানুষের কাছে পৌঁছে নবীদের মাধ্যমে। যাঁরা দাওয়াত দেন, আরবিতে তাঁদের দাঈ বলা হয়। যুগে যুগে সব নবী এ দাওয়াতের কাজ করেছেন। মহানবী (সা.)-কেও আল্লাহ দাঈরূপে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী রূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪৬)

নবুয়তের ধারাবাহিকতা পূর্ণতা লাভ করে মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে। মহানবী (সা.)-এর পবিত্র ওফাতের পর দাওয়াতের এ গুরুদায়িত্ব উম্মতের ওপর অর্পিত হয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত আগত মহানবী (সা.)-এর উম্মতের দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক যেন থাকে, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে। আর এরাই হলো সফলকাম। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৪)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। গোটা মানবজাতির কল্যাণে তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজে বাধা দাও আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখো। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য