kalerkantho

26th march banner

সাদাকালো

বহু সমস্যাজড়িত সিরীয় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

আহমদ রফিক

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বহু সমস্যাজড়িত সিরীয় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

জাতীয় স্বার্থ, ভূরাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থের মতো বহুবিধ কারণ যুদ্ধের মতো মানব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। সিরীয় যুদ্ধ এর ব্যতিক্রম নয়। যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ধর্মাদর্শের দ্বন্দ্ব। একাধিক ধর্মের ক্ষেত্রে তা যেমন সত্য, তেমনই সত্য একই ধর্মের পরস্পরবিরোধী ঘরানার ক্ষেত্রে। যেমন—এককালের ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান, তেমনি  দীর্ঘ সময় থেকে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব। আপাতদৃষ্টিতে এ বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে পরোক্ষ, ভিন্নতর স্বার্থগত কারণ প্রধান হলেও এর ধর্মীয় গুরুত্ব অস্বীকার করা চলে না। গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধ বা সংঘাতের ঘটনাবলি পর্যালোচনা করলে শিয়া-সুন্নি মতবাদের পরস্পরবিরোধী চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইরাক বা সিরিয়া এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

আণবিক অস্ত্রের কল্যাণে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা কমে এলেও আঞ্চলিক যুদ্ধ জারি রাখার পেছনে বড় কারণ মার্কিন পরাশক্তির অর্থনৈতিক লালসা ও বিশ্ব শাসনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। এর প্রত্যক্ষ আধিপত্যবাদী পরিণাম হিসেবে দেখা গেছে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্ররোচনাহীন, যুক্তিহীন ইরাক দখল, যে যুদ্ধের অনুষঙ্গ হিসেবে ইরাকে শিয়া-সুন্নি সংঘাতের রক্তঝরা শুরু, যা এখনো চলছে।

এ ক্ষেত্রে তেলক্ষেত্র দখল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক প্রাধান্য বিস্তারও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যে ও সন্নিহিত অঞ্চলে যথাসম্ভব মার্কিনবিরোধী শক্তির বিনাশ ঘটানোও যে মার্কিন নীতির বরাবরের লক্ষ্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ইরাকের পর লিবিয়া ষড়যন্ত্রমূলক আক্রমণের লক্ষ্য, এরপর সিরিয়া। এখানেও ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

রাষ্ট্রশাসনে অভ্যন্তরীণ বিভাজক কারণ শক্তিমান হয়ে উঠলে রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতাও তাত্পর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুকূল  বাতাসে তার শক্তি বৃদ্ধি ঘটে। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষেত্রের এ আলোড়ন মার্কিন পরাশক্তির জন্য লোভনীয়  হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দিক থেকে মার্কিনবিরোধী সিরীয় শাসক বাশার আল আসাদকে শায়েস্তা করার সুযোগ এসে যায়। এ ব্যাপারে উৎসাহী ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বাশারবিরোধী ইসলামী শাসকগোষ্ঠী, যেমন  সৌদি আরব। সেই সঙ্গে তুরস্ক।

এ ক্ষেত্রে অনুধাবনযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সিরীয় শাসকগোষ্ঠী শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। এদের শাসনব্যবস্থায় সিরিয়ার সংখ্যাগুরু সুন্নি সম্প্রদায় বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার—এমন অভিযোগ সুন্নিদের। ইরাকের পরিস্থিতি ছিল ঠিক এর বিপরীত। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠীকে শাসন করেছে সুন্নি প্রতিনিধি শাসক শ্রেণি। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক আদর্শবাদের বিচারে ক্ষমতা দখল করেছিল বাথ সোশ্যালিস্ট পার্টি। ক্ষমতায় এসে তারা একপর্যায়ে একনায়কী শাসন প্রতিষ্ঠা করে, তবে তাদের ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেনি। তাই সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিরও বরাবরের চেষ্টা ছিল এ দুই রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণিতে পরিবর্তন ঘটানোর এবং সে লক্ষ্যে সুযোগের অপেক্ষা।

কথিত আরব বসন্তের প্রতিবাদী বিক্ষোভ সে সুযোগ তৈরি করে দেয় (২০১১) লিবিয়ার একনায়ক গাদ্দাফি ও সিরিয়ার শাসক বাশারকে গদিচ্যুত করার। নিজ দেশে গাদ্দাফির শত্রুর অভাব ছিল না, তেমনি সিরিয়ায় বাশারবিরোধী গ্রুপ যারা ক্ষমতার রদবদলে আগ্রহী। আরব বসন্তের হাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে বিদ্রোহের ঢেউ ওঠে, এমনকি রাজতন্ত্রের শক্ত ঘাঁটি সৌদি আরবেও। কিন্তু শক্ত হাতে শক্তিমানরা তা দমন করে।

তবে রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নড়বড়ে রাষ্ট্রগুলোতে, যেমন মিসর। মিসরীয় সমরতন্ত্র সে অবস্থার জোড়াতাড়ি সামাল দেয় একনায়ক হোসনি  মোবারককে, পরে ইসলামপন্থী মুরসিকে সরিয়ে। অন্যদিকে গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যু। আর সিরিয়ার শাসকবিরোধী সুন্নি বিদ্রোহীরা শক্তিমান হয়ে ওঠে এবং ক্ষমতা দখলে আগ্রহী হয়ে ওঠে ইঙ্গ-মার্কিন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সক্রিয় সমর্থনে—অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণে।

দুই.

সিরিয়া পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠে একাধিক পরস্পরবিরোধী শক্তির ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারায়, ঘোলা জলে মাছ শিকার যার যার মতো করে। ব্যাপারটা এমন নয় যে শাসকবিরোধী সিরিয়াবাসীই লড়াইয়ে নেমে পড়েছে। শুরুতে ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী মিছিল, যা বাশার সরকারের দমননীতি ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উসকানি ও সাহায্যপুষ্ট হয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধবাদী চরিত্রে পরিণত হয়। লিবিয়ার উদাহরণ তাদের উৎসাহ জোগায়। অন্যদিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন।

তথ্য বলে, ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্রসচিব হিলারি ক্লিনটন কোনো প্রকার রাখঢাক না করে সরাসরি ঘোষণা দেন যে ‘বাশারকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ’ এমন ঘোষণার খুঁটির জোরে বিদ্রোহী সিরিয়া গ্রুপ গৃহযুদ্ধে উৎসাহিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ সুযোগে একাধিক সুবিধাবাদী দল রণাঙ্গনে নেমে পড়ে। তাদের মূল উদ্দেশ্য বাশারের পতন ঘটানো হলেও স্বার্থের চরিত্র পুরোপুরি এক নয়। যেমন তুরস্ক, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রশক্তি, কুর্দি জাতীয়তাবাদী, ইসলামিক স্টেট; অন্যদিকে ইরান ও লেবাননি হিজবুল্লাহ যোদ্ধাগোষ্ঠী, আশপাশের শিয়া যোদ্ধারা। নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। নামে নেপথ্যে হলেও তারা আসলে সক্রিয় সহায়ক শক্তি।

স্বভাবতই সিরিয়া হয়ে উঠে অগ্নিগর্ভ, মৃত্যুর লীলাভূমি। আঞ্চলিক যুদ্ধ হলেও এর ক্ষয়ক্ষতির চরিত্র বৈশ্বিক যুদ্ধের মতোই। ঘটনার ট্র্যাজিক উদাহরণ টেনেছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। তাঁর হিসাব মতে, যুদ্ধের শুরুতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। বেসামরিক মানুষসহ মৃতের সংখ্যা হাজার তিনেক। এখন সেখানে মৃতের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর ভাষায় সিরিয়া বর্তমান পৃথিবীর বৃহত্তম মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্র, সবচেয়ে উত্তপ্ত ভূমি।

আসলে বাশারবিরোধীদের ধারণা হয়েছিল যে গাদ্দাফির মতোই বাশারেরও পতন ঘটবে দ্রুতই। কিন্তু বাদ সেধেছে বিরোধীদের বিরোধী শক্তিগুলো। সর্বোপরি ভ্লাদিমির পুতিনের বিমানবাহিনীর সক্রিয় আকাশি উপস্থিতি। সিরিয়া রাশিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে রুশ স্বার্থর ক্ষার প্রশ্নও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে রক্তে-আগুনে-ধোঁয়ায় কালো যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। প্রায় এক কোটি মানুষ জান বাঁচাতে উদ্বাস্তু।

পূর্বোক্ত লেখকের মতে, সিরীয় সহিংসতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষ আন্তর্জাতিক আইনের হিসেবে গুরুতর যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী। কিন্তু কে তাদের বিচার করবে, যেখানে স্বয়ং পরাশক্তি অপরাধীর তালিকায়। প্রত্যেকের স্বার্থ রয়েছে এ যুদ্ধে বাশারের স্থায়িত্বে বা পতনে। ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী ও সিরীয় বিদ্রোহীদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যের কথা বাদ দিলেও দেখা যায় তুরস্কের নিহিত উদ্দেশ্য এ যুদ্ধের মাধ্যমে যদি তাদের পূর্বতন সাম্রাজ্যের অংশবিশেষ পাওয়া যায়, মন্দ কী। কুর্দিরা এরই মধ্যে তুরস্ক সীমান্তসংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে সিরিয়ায় ইরাকের মতো তাদের অনুগত পুতুল সরকার। ইরান ও লেবাননি যোদ্ধাদের একটাই লক্ষ্য—বাশারকে যথারীতি ক্ষমতায় রাখা। আইএস চাইছে ইরাকের মতো সিরিয়ার একাংশ নিয়ে হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠা। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা চাইছে সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সুন্নি শাসন। এতগুলো শক্তির সহিংস আকাঙ্ক্ষায় যুদ্ধের আগুনে বিপর্যস্ত সিরিয়া।

যুদ্ধটা তাহলে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক তাত্পর্য বিচারে শিয়া-সুন্নি সংঘাতে পরিণত সম্রাজ্যবাদী স্বার্থের লড়াই বললে খুব একটা ভুল হবে না। আর বৈশ্বিক বিচারে আমেরিকা-রাশিয়া প্রাধান্যের দ্বন্দ্ব। এতদসত্ত্বেও এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না যে সিরিয়ার যুদ্ধটা রাশিয়া শুরু করায়নি, করেছে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে সমর্থক রাষ্ট্রে পরিণত করতে, মধ্যপ্রাচ্যে রুশ ও ইরানি প্রভাব কমিয়ে ফেলতে। তা ছাড়া তেল স্বার্থ তো আছেই।

তাই সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ গোলযোগে মাথা গলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চক্রান্তকারী নোংরা শক্তি সিআইএ। যেমনটা তারা করে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কায়দাটা  আফগানিস্তানের মতোই। জিহাদি যোদ্ধাদের মূল ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে বিদ্রোহীদের শক্তি বৃদ্ধি ঘটানো। ইরান, লেবানন যে যোদ্ধা পাঠিয়ে বাশার বাহিনীকে সহায়তা দেবে, এটা তাদের হিসাবে ছিল না। এমনকি রাশিয়া যে প্রত্যক্ষভাবে এতটা সংশ্লিষ্ট হতে পারে, সেটাও বোধ হয় তাদের হিসাবে ছিল না। এখন ঘটনাক্রমে যুদ্ধ প্রলম্বিত, মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া জয় এখন একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ চার বছরে খরচ ডলারের পরিমাণে তো কম নয়। তাই এ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির কথা উঠছে। দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত, অর্থনীতি মুহ্যমান। তাই ক্লান্ত বাশারও তাতে রাজি। দু-একটা যুদ্ধরত গ্রুপ তা না চাইলেও সিরীয় বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত তাতে নিমরাজি। তবে তাদের নানা প্রশ্ন লাখ লাখ হতাহত ও উদ্বাস্তুর দায়দায়িত্ব নিয়ে। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মার্কিন মদদে সহিংসতার দায়ই বা তারা অস্বীকার করবে কিভাবে। দায় কমবেশি সবারই।

তবু ভালো যে যুদ্ধবিরতির দাবি উঠেছে। কারণ এ যুদ্ধে কয়েক লাখ উলুখাগড়ার মৃত্যু ঘটেছে। যুদ্ধ বন্ধ না হলে আরো প্রাণ যাবে। দুস্থ সাধারণ মানুষ অনশনে অপুষ্টিতে শেষ হবে। তাই ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ চলতে দেওয়া যায় না। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা শান্তিকামী মানুষের দাবি।

কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব। এতগুলো বিভিন্ন স্বার্থের শক্তি এ যুদ্ধে জড়িত, বিশেষত দুই পরাশক্তির উপস্থিতিতে যুদ্ধবিরতিও এক কঠিন ও জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দরকার সব পক্ষের সদিচ্ছা, দুই বৃহৎ শক্তির তো বটেই। শেষোক্ত ক্ষেত্রেই রয়েছে শান্তির চাবিকাঠি। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। কিন্তু এ যুদ্ধ বন্ধ না হলে সিরিয়াবাসীর যন্ত্রণা বাড়বে বৈ কমবে না। এই মানবিক বোধ যদি সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর চেতনা প্রভাবিত করে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা বাস্তবে ফলপ্রসূ হতে পারে।

এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে হবে দুই পরাশক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে। তাদের সক্রিয় সহযোগিতায় কায়েমি স্বার্থের গোপন আঁতাত, লেনদেন, স্বার্থের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে পারলে তবেই সিরিয়ায় যুদ্ধের বদলে শান্তি নিশ্চিত হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আশার আলো এখনো নিশ্চিত নয়।

আরেকটি কথা, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় কুর্দিদের জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার উপলক্ষে তাদের জাতিরাষ্ট্রের সম্ভাবনার দিকটিও উঠে আসা উচিত। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষে যদি ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে, তাহলে কুর্দিদের জন্য জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নয় কেন? ওদের অবস্থাও তো ফিলিস্তিনিদের মতো, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবরবৃত্তি। ইরাক-তুরস্ক-সিরিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুর্দি জনগোষ্ঠী। জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে লড়াইরত কুর্দিরা রাষ্ট্রশক্তির প্রবল দমননীতির মুখে দলিত, পীড়িত ও নির্যাতিত। তাদের মুক্তির দাবিতে জাতিসংঘের এগিয়ে আসা উচিত; সমর্থন জানানো উচিত বিশ্বের গণতন্ত্রী মানুষের।

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী


মন্তব্য