kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রঙ্গব্যঙ্গ

সু চির কাল্পনিক সাক্ষাৎকার

মোস্তফা কামাল

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সু চির কাল্পনিক সাক্ষাৎকার

অং সান সু চি। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। ১৫ বছর তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কিন্তু সে দেশের সেনাবাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যায়নি। সে দেশে আইন করে সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই সংকটে পড়েছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

সু চি : আর বলবেন না। বড়ই পেরেশানিতে আছি।

প্রশ্ন : কেন?

সু চি : কেন আবার? দেখছেন, সামরিক জান্তারা কী সব ঝামেলা পাকাচ্ছে! আমাকে প্রেসিডেন্ট হতে দেবে না। ছলেবলে কৌশলে আমাকে আটকে রাখার ব্যবস্থা। চিন্তা করেন, আইন করে আমার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছে।

প্রশ্ন : সে কারণেই কি আপনি আপনার বিশ্বস্ত ড্রাইভারকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছেন?

সু চি : কী সব বলছেন আপনি!

প্রশ্ন : কেন, ভুল কী বললাম? পত্রিকায় এমন খবরই তো দেখলাম!

সু চি : এসব সামরিক জান্তার মিডিয়ার অপপ্রচার। কিয়াও আমার ড্রাইভার হতে যাবে কেন? সে আমার বন্ধু। ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিপদের সময় সে-ই আমার পাশে ছিল। সে আমাকে সংকটের সময় ড্রাইভ করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। অনেক সময় থাকে না, ড্রাইভারকে নিয়ে যাওয়া রিস্ক। তাই আমি কিয়াওকে নিয়ে যেতাম। সেটাকেই ওরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরা তো দেখছি খুব খারাপ? এই প্রচারণা ঢাকাতে আছে নাকি?

প্রশ্ন : তাহলে আর বলছি কী! সে জন্যই তো কথাটা বললাম। আচ্ছা, আপনি যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। ওরা আসলে কী চায়? ওদের দাবি কী?

সু চি : ওরা কোনো অবস্থাতেই আমাকে প্রেসিডেন্ট দেখতে চায় না। আমাকেই ওদের ভয়। আমি প্রেসিডেন্ট হলে ওদের নাকি সমস্যা হবে। কী সমস্যা হবে আমি নিজেও বুঝতে পারি না। আর ওরা আমাকেই বা এত ভয় পায় কেন, তাও বুঝি না।

প্রশ্ন : হয়তো তারা ভাবে, আপনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন!

সু চি : সেটা কি সম্ভব? আমি ইচ্ছা করলেই কি কিছু করতে পারব?

প্রশ্ন : কেন সম্ভব নয়? প্রেসিডেন্টের তো অনেক ক্ষমতা! সেনাবাহিনীরও সর্বাধিনায়ক!

সু চি : সেটা ঠিক। কিন্তু সেনাবাহিনীকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, সেটা ভাঙা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। শোনেন, সব কিছুরই একটা বয়স থাকে। এই ৭০ বছর বয়সে ঝুঁকি নেওয়া কি সম্ভব? মুখে যা-ই বলি, ওদের সঙ্গে আপস করেই তো চলতে হবে। তা না হলে ক্ষমতায় থাকতে পারব না। বুড়ো বয়সে ওদের ঘাঁটাতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই। কিন্তু ওরা এটা বুঝতে চায় না। ওদের ধারণা, আমি প্রেসিডেন্ট হলেই ওদের সমস্যা হবে। বলুন তো, ওদের আস্থা ফেরানোর পথ কী? অনেক ভেবেছি। কিন্তু কিছুই বের করতে পারছি না। চিন্তা করেন, কতটা বছর ধৈর্য ধরলাম। তারপর নির্বাচন হলো। সেই নির্বাচনে আমার দল বিজয়ী হলো। এখন নতুন বাহানা, আমি প্রেসিডেন্ট হতে পারব না।

প্রশ্ন : আপনি বলতেন, ওদের জন্য ক্ষতিকর কিছু করবেন না!

সু চি : বলেছি তো! ওই যে বললাম, আস্থা নেই আমার ওপর।

প্রশ্ন : সে কারণেই কি আপনার আস্থাভাজন কিয়াওকে মনোনয়ন দিলেন?

সু চি : উপায় কী?

প্রশ্ন : তার মানে নাটাই আপনার হাতে থাকবে?

সু চি : অবশ্যই। নাটাই ছাড়া যায়? আমি যা বলব তা-ই করতে হবে। তা না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আর্মি যদি ঝুঁকি নিতে না পারে, আমি কেন নেব!

প্রশ্ন : তার মানে আপনি আর প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না?

সু চি : এখনো সে সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি।

প্রশ্ন : যেমন?

সু চি : কিয়াও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনিই তো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন। পার্লামেন্টে আমার দল যা বলবে তা-ই হবে। কাজেই কিয়াও এবং আমার দল চাইলে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে।

প্রশ্ন : তখন সামরিক বাহিনী বাধা দেবে না?

সু চি : বাধা দিলে কী হবে? মানা না-মানা আমার ব্যাপার। বুঝতে পারছেন?

প্রশ্ন : গুড আইডিয়া। তার মানে আমরা আসলে মিয়ানমারে অনেক কিছুই দেখতে পাব?

সু চি : ওয়েট অ্যান্ড সি! আর্মি যেমন অনেক খেলাধুলা করছে। আমরা রাজনীতিবিদরাও খেলাধুলা কম জানি না। আমিও শেষ খেলাটি দেখিয়ে দেব। এবার গুড বাই।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক  


মন্তব্য