পল্লী রেশনিং প্রথার পুনঃপ্রবর্তন-332600 | উপ-সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


পল্লী রেশনিং প্রথার পুনঃপ্রবর্তন

এ এম এম শওকত আলী

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পল্লী রেশনিং প্রথার পুনঃপ্রবর্তন

শহর ও গ্রামাঞ্চলে রেশনিং প্রথা ব্রিটিশ আমলেই সীমিতভাবে শুরু হয়। তবে সব শহরে এ প্রথা চালু কখনো করা হয়নি। ওই সময় ও ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দু-তিনটি বড় শহরে রেশনিং প্রথা চালু করা হয়। এর প্রশাসনিক নাম ছিল বিধিবদ্ধ রেশনিং (Statutory Rationing)। শহরবহির্ভূত অঞ্চলে রেশনিংয়ের নাম ছিল সংশোধিত রেশনিং (Modified Rationing)। বড় শহরে বিধিবদ্ধ রেশনিং প্রথার পটভূমি ছিল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ। খাদ্যশস্য বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে শহরের ভোক্তাদের দেওয়ার নিয়ম ছিল। এর জন্য পরিবারপ্রতি রেশন কার্ড দেওয়া হতো। পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত পরিমাণ চাল অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিক্রি করা হতো। আশির দশকের শেষ ভাগে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ পল্লী রেশনিং প্রথা একটি আইনের মাধ্যমে চালু করেন। ওই সময়ের সংসদে খসড়া আইন নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনার পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করা হয়। সংসদের আলোচনায় দেখা যায়, দু-একজন বিরোধী বা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ বিলটি পাস করার আগে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বা জনমত গ্রহণের প্রস্তাব দিলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়। সংসদের এ রীতি পরবর্তী গণতান্ত্রিক আমলেও যে বিরল নয়, তার কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পল্লী রেশনিং প্রথা খুব একটা কার্যকর ছিল না। তবে বিধিবদ্ধ রেশনিং এলাকায় এ প্রথা চালু ছিল। এর জন্য সরকারের কত খরচ হতো, তা নিয়ে নব্বইয়ের দশকের আগে খুব একটা চিন্তা কারো ছিল না। তবে এ নিয়ে সরকার ও বিদেশি দাতাগোষ্ঠীদের মধ্যে খাদ্যনীতি সম্পর্কিত সংস্কারের চিন্তাও করা হয়। ১৯৭৫ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়। যেমন—কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি)। কাবিখা কর্মসূচি ১৯৪৭ সাল-পূর্ববর্তী সময়ের টেস্ট রিলিফ কর্মসূচির নামান্তর মাত্র। পার্থক্য শুধু এই যে টেস্ট রিলিফ খাদ্য নিরাপত্তাহীন অঞ্চলে সাময়িকভাবে চালু করা হতো। পরবর্তী সময়ে কাবিখা কর্মসূচি স্থায়ী হলেও টেস্ট রিলিফ বিলুপ্ত করা হয়নি।

বিধিবদ্ধ রেশনিং প্রথার কারণে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন ছিল তা হ্রাস করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে পরিকল্পনা কমিশন ধাপে ধাপে রেশনিং প্রথা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আশির দশকে সংশোধিত রেশনিং প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। বিকল্প হিসেবে পল্লী রেশনিং প্রথা চালু হয়। একই সঙ্গে রুরাল মেইটেন্যান্স কর্মসূচিও চালু হয়। ওই সময় পল্লী রেশনিং প্রথার ব্যয়ভার ও কার্যকারিতা নিয়ে এক বিদেশি সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, ভর্তুকির পরিমাণ ছয় কোটি ডলার এবং শতকরা ৭০ ভাগ খাদ্য গরিব জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না; বরং অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারই এ সুবিধা ভোগ করে। এক ডলারের সমতুল্য সুবিধার জন্য খরচ হয় সুবিধাভোগীপ্রতি ৬.৬ ডলার। অর্থাৎ খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে শুরু হয় খাদ্যনীতি সংস্কারের কর্মসূচি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধও রদ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—এক. খাদ্য আমদানি উন্মুক্ত করা এবং দুই. বেসরকারি খাতকে ব্যাংকঋণ দেওয়া, যা আগে ছিল না। তবে রেশনিং প্রথা বিলুপ্ত করার ফলে অন্য সমস্যাও দেখা দেয়। সমস্যাটি ছিল, বিলুপ্তির ফলে সরকারি খাদ্য গুদামে বিপুল মজুদ সৃষ্টি হয়। সরকারকে এ মজুদ দ্রুত হ্রাস করার চাপ ছিল। এর জন্য বিকল্প পন্থা নির্ণয়ের চেষ্টা হয়। ফলে সিদ্ধান্ত হয় যে বিকল্প হিসেবে খাদ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ব্যাপকতর করতে হবে। এর মধ্যে পুষ্টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায় যে পরে ও আগে কমপক্ষে ১৪ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়। বছরওয়ারি হিসাব হলো কাবিখা (১৯৭৫), টেস্ট রিলিফ (১৯৮০), রুরাল মেইনটেন্যান্স কর্মসূচি (১৯৮৩), ফুড ফর অ্যাসেট (২০০২), ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট বা ভিজিডি (১৯৭৫), পুষ্টিবিষয়ক প্রতিক্ষণ (২০০২), শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য (১৯৯৩), স্কুল ফিডিং (২০০২), প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি (২০০২), মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের জন্য অর্থসহায়তা (১৯৯৩), কমিউনিটি পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি (২০০২), ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ভিটামিন মিশ্রিত আটা (২০০২), গ্রাটুইসাস রিলিফ (১৯৮০), ভালনারেল গ্রুপ ফিডিং (১৯৮০)। উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত কর্মসূচির কয়েকটি নব্বইয়ের দশকের আগেও ছিল। আরো পরে কয়েকটি নগদ অর্থভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিধবা ও দুস্থ মহিলার ভাতা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা। অন্যদিকে কয়েকটি কর্মসূচি বিলুপ্ত করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষার জন্য খাদ্য অন্যতম। ২০১৬ সালের ২ মার্চ তারিখের এক দৈনিকের খবরের শিরোনাম ছিল, ‘সেই চার লাখ টন চাল-গম দিয়ে হচ্ছে পল্লী রেশনিং।’ অর্থাৎ আশির দশকে বিলুপ্ত প্রথা আবার চালু হবে।

৩ মার্চ আরেকটি দৈনিকে কিছুটা ভিন্নতর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পল্লী রেশনিং প্রথা পুনঃপ্রবর্তনের কথা বলা হয়নি। যা বলা হয়েছে তা হলো—এক. গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত বিক্রয় পদ্ধতির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে চাল বিক্রি করা হবে। এ জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর ন্যায্য মূল্যের কার্ড ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা করছে। জানা যায়, গত মাসে সরকার উন্মুক্ত পদ্ধতির চালের বিক্রয় মূল্য ২৫ শতাংশ হ্রাস করেছিল। খাদ্য অধিদপ্তর ভবিষ্যতে পল্লী এলাকার জন্য এ মূল্য আরো কমিয়ে ১০ বা ১১ টাকা করার বিষয়টি চিন্তা করছে। এর সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ও অধিদপ্তর চিন্তা করছে। তা হলো, কমপক্ষে এক লাখ টন মোটা চাল রপ্তানি করা হবে। এ ধরনের চিন্তাভাবনার প্রধান কারণ হলো, সরকারি মজুদের পরিমাণ হ্রাসকরণ। যুক্তি হলো, বোরো ধান কাটার মৌসুম আসন্ন। উল্লেখ্য, সরকারি গুদামে বোরো সংগ্রহ করে রাখার কোনো জায়গা পাওয়া যাবে না। যদি তা না হয়, তাহলে বোরোচাষিরাও ন্যায্য মূল্যে ধান-চাল বিক্রি করতে সক্ষম হবে না। কাজেই কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ উত্পাদনের সিংহভাগ চালই বোরো মৌসুমের। আউশ সবচেয়ে কম। তারপর আমন। আসন্ন বোরো মৌসুমের ধান-চাল সরকারিভাবে সংগ্রহ করার বিষয়টিই খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সংবাদে আরো বলা হয়েছে, ন্যায্য মূল্যের সরকারি কার্ড এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছিল। এ জন্য বিতরণকৃত কার্ডের সংখ্যা ছিল ৬৭ লাখ। এ কার্ডের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বিক্রয়যোগ্য চালের মূল্যও হ্রাস করা হয়। বর্তমানে অন্তত এক কোটি কার্ড বিতরণের চিন্তা খাদ্য অধিদপ্তর করছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল, এ ধরনের মূল্য হ্রাসের ফলে বোরো সংগ্রহ অভিযানে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবে কি না। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার উত্তর ছিল, গুদাম খালি না করলে বোরোচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ প্রসঙ্গে আরো বলা হয় যে পরিকল্পনামাফিক এক লাখ টন চাল রপ্তানি করা হলে চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি অনুমাননির্ভর। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিকল্পনা আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

মার্চের ২ তারিখে প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) ও পরীক্ষামূলক টিআর কর্মসূচির জন্য সরকার চার লাখ টন চাল-গম সংগ্রহ করে। সম্প্রতি সংসদ সদস্যরা ওই চাল-গম নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ জন্য বরাদ্দকৃত চাল-গম নগদায়নের সম্মতিও অর্থ মন্ত্রণালয় দিয়েছিল। এ খাতে সরকারি গুদামে আরো তিন লাখ টন খাদ্যশস্য রয়েছে। এর জন্য খসড়া নীতিমালা ২০১৬ অধিদপ্তর প্রণয়ন করে। এর আওতায় পরিবারপ্রতি রেশন কার্ড দেওয়া হবে। এ নীতিমালা গত ফেব্রুয়ারি মাসে করা হয়। সম্পূর্ণ বিষয়টিই ধোঁয়াশা। শেষ পর্যন্ত কী প্রথা সরকার গ্রহণ করবে তা বলার সময় আসেনি। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যায় তা হলো, আসন্ন বোরো মৌসুমে সংগৃহীতব্য বোরো চাল সরকারি গুদামে রাখা যাবে না। যদি না গুদাম খালি করা হয়। গুদাম খালি করাই এখন প্রধান সমস্যা। এ ধরনের পরিস্থিতি অতীতে হয়নি। ওই সব সময়ে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। খালি গুদাম ভর্তি করাই ছিল প্রধান সমস্যা। এ জন্য যে পরিকল্পিতভাবে চাল-গম সংগ্রহ করা হয়নি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় কে নেবে—খাদ্য অধিদপ্তর না খাদ্য মন্ত্রণালয়? ব্যর্থতার মূল কারণ নিবিড় পরিবীক্ষণ ও সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। প্রস্তাবিত পল্লী রেশনিং বা ন্যায্য মূল্যের কার্ড প্রবর্তনের ক্ষেত্রে একজন খাদ্য গবেষক বলেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রেশনের চাল সঠিক অর্থাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠী পেত না। যারা পেত তাদেরও সঠিক পরিমাণে দেওয়া হতো না, অর্থাৎ কম দেওয়া হতো। বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। কাবিখা বা টিআর প্রথার চাল-গম কেউ নিতে চায় না। অর্থাৎ অনেকটা জোর করেই এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে চাল-গম বিক্রির জন্য প্রয়োজন বাজার মূল্যের ভিত্তিতে তাদের কোনো কেনার আগ্রহ রয়েছে কি না তা যাচাই করা। চালের বাজার মূল্য গত কয়েক বছরে স্থিতিশীল ছিল। এখনো তাই আছে।

অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য মূল দর্শন হলো বাজার স্থিতিশীল ও কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। এটা যে সহজে করা সম্ভব নয়, তা অতীতে বহু খাদ্য গবেষক বলেছেন। নব্বইয়ের দশকে খাদ্যনীতি সংস্কার কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করার প্রথা বিলুপ্ত করার সুপারিশও করা হয়। কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। সংগত কারণেই তা গৃহীত হয়নি। এ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছু মতভেদও ছিল। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায় যে এশিয়ার প্রায় সব দেশেই সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করার প্রথা রয়েছে। এর কারণ দুটি—এক. সামাজিক; দুই. রাজনৈতিক। পরবর্তী এক গবেষণায় দেখা যায় যে সরকারি গুদামের খাদ্যশস্যের ৭৪ শতাংশ খাদ্যভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহূত হয়। এ ছাড়া আরো দেখা গেছে, সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদ কমলেই বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়।

ব্রিটিশ আমলে প্রণীত খাদ্যনীতির আওতায় উন্মুক্ত বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি করার রীতি তখনই সাময়িকভাবে চালু করা হতো যখন বাজার মূল্য বেড়ে যেত। এ কারণটি যুগে যুগে প্রমাণিত। বর্তমানে এমনতর পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও কেন এ পরিস্থিতি হলো সেটাই হচ্ছে মুখ্য প্রশ্ন। কেনই বা চার লাখ টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হলো?

লেখক : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

মন্তব্য