জান্নাতেও সালামের প্রচলন থাকবে-332374 | উপ-সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২১ জিলহজ ১৪৩৭


পবিত্র কোরআনের আলো

জান্নাতেও সালামের প্রচলন থাকবে

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জান্নাতেও সালামের প্রচলন থাকবে

১০. সেখানে (সুখময় জান্নাতে) তাদের প্রার্থনা হবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি মহান, পবিত্র!’ এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হবে এভাবে : ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০)

তাফসির : আগের আয়াতে মুমিনদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে জান্নাতবাসীদের বিশেষ অবস্থা ও আচরণের কথা বলা হয়েছে। আয়াতে জান্নাতবাসীদের তিনটি বিশেষ অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমত, জান্নাতে পৌঁছার পর জান্নাতবাসীরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। তারা বলবে, ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ অর্থাত্ হে আল্লাহ! তুমি মহান, পবিত্র! তাফসিরে ইবনে জারিরে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে : জান্নাতবাসীদের যখন কোনো বিষয়ের প্রয়োজন কিংবা বাসনা হবে, তখন তারা ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ বলবে। বাক্যটি শুনে ফেরেশতারা কাঙ্ক্ষিত বস্তু এনে দেবেন। সুতরাং ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ বাক্যটি জান্নাতবাসীদের একটি বিশেষ পরিভাষা হবে, যা দিয়ে তারা মনের বাসনা প্রকাশ করবে। (রূহুল মাআনি)

দ্বিতীয়ত, জান্নাতেও সালামের প্রচলন থাকবে। সালামের মাধ্যমে জান্নাতবাসীদের অভ্যর্থনা জানানো হবে। এ সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকেও হতে পারে। যেমন—ইরশাদ হয়েছে : ‘সালাম, পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সম্ভাষণ।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৫৮) আবার সালাম ফেরেশতাদের পক্ষ থেকেও হতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘জান্নাতের রক্ষীরা (ফেরেশতারা) তাদের বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ করো স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৭৩)

জান্নাতবাসীদের তৃতীয় অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের সর্বশেষ দোয়া হবে ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ অর্থাত্ সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ইবনে জুরাইজ (রহ.)-কে উদ্ধৃত করে ইবনে কাসির (রহ.) এই তিনটি দোয়ার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন : “কোনো কিছু আহার বা ভোগ করার বাসনা হলে জান্নাতবাসীরা ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ বলবেন। তারপর ফেরেশতারা কাঙ্ক্ষিত বস্তু নিয়ে হাজির হয়ে তাঁদের সালাম দেবেন। তাঁরা সালামের জবাব দেবেন। অতঃপর আহার থেকে অবসর হয়ে তাঁরা ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলবেন।’’ অর্থাত্ দুনিয়া থেকে বের হয়ে সুখৈশ্বর্যময় জান্নাতে প্রবেশ করেই ইমানদাররা বুভুক্ষের মতো ভোগসামগ্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না। মাদকতা ও অশ্লীলতায় গা ভাসিয়ে দেবে না। সেখানেও তাঁরা পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখবে। দুনিয়ায় আল্লাহর যে প্রশংসা ও পবিত্রতা তাঁরা বর্ণনা করত, জান্নাতেও সেটি হবে তাঁদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ।

জান্নাতে সালামের প্রচলন : মানব সভ্যতার শুরু থেকেই একে অন্যের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সময় পরস্পর ভাব বিনিময়ের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন জাতি নিজেদের সভ্যতা-সংস্কৃতি, আদর্শ ও রুচি অনুযায়ী বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য বেছে নিয়েছে। ‘সালাম’ একটি অভ্যর্থনামূলক, শান্তিময় ইসলামী অভিবাদন। পরস্পর সালাম বিনিময় ইসলামের নিদর্শন। ‘সালাম’ আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি আদি পিতা আদম (আ.)-এর আমল থেকে। এই শান্তির বাণী সামাজিক জীবনে অসামান্য ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন আকর্ষণীয় শক্তি, যা মনের কালিমা ও অনৈক্য দূর করে সবাইকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে। সালাম এমন ইবাদত, জান্নাতেও যার প্রচলন থাকবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মন্তব্য