পাবলিক এমনিতেই বোকা হয়-331092 | উপ-সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


পাবলিক এমনিতেই বোকা হয়

আবদুল মান্নান

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাবলিক এমনিতেই বোকা হয়

দিল্লি একসময় মোগলদের রাজধানী ছিল। এখন ভারতের। দিল্লির বয়স কত তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ছয় শতাব্দী আগেও এখানে মানুষ বসবাস করেছে। মহাকাব্য মহাভারতের মতে, দিল্লি একসময় পাণ্ডবদেরও রাজধানী ছিল। তখন এর নাম ছিল ইন্দ্রপ্রস্থ। মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর রাজধানী হিসেবে দিল্লির গোড়াপত্তন করেন ১৬৩৮ সালে। ইংরেজ শাসনামলে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম রাজধানী ছিল কলকাতা। পলাশীর যুদ্ধের পর একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে প্রথমে বঙ্গের পরে ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। যেহেতু কলকাতায় বন্দর আছে তাতে লুটপাটের সুবিধা বেশি। ব্যবসার নামে লুটপাটে জগত্জুড়ে ইংরেজদের খ্যাতি আছে। ১৯১১ সালে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় দিল্লিতে। রাজধানী হিসেবে সাহেবদের আদি বনেদি দিল্লি তেমন একটা পছন্দ হয়নি। ব্রিটেন থেকে নিয়ে আসা হলো স্থপতি স্যার এডউন লুথইয়েনস ও স্যার হার্বাট বেকারকে। আধুনিক নকশায় নির্মিত হলো নতুন দিল্লি। ১৯৩১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের নতুন রাজধানী হিসেবে দিল্লির দ্বার উন্মোচিত হলো। সেই থেকে দিল্লি ভারতের রাজধানী। তবে এখনো দিল্লির প্রাণ হচ্ছে আদি দিল্লি। সেই দিল্লির রাত-দিন সমান। একসময় দিল্লি অনেক কিছু নিয়ে গর্ব করত। সাহিত্য-সংস্কৃতি, আসর গুলজার করা বাইজি নাচ আর গ্লাস ভর্তি সুরা, শাস্ত্রীয় সংগীত আর মোগল স্থাপত্য। এখন এসবের কোনো কিছুই আর দিল্লির বাসিন্দাদের পুলকিত করে না। দিল্লি এখন ধর্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই প্রথম পৃষ্ঠার খবর কোন কোন স্থানে গত রাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিদেশি পর্যটক, কেনাকাটা করতে আসা নারী, রাতে বাড়ি ফেরা অফিস কেরানি থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব বুড়ি, বাদ যাচ্ছে না কেউই। মহিলারা নিজ দায়িত্বে রাতে ঘর থেকে বের হয়। যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে, তাদের কথা আলাদা।

পেশাগত কাজে আমাকে কয়েক মাস পরপর দিল্লি যেতে হয়। বছরে তিন থেকে চারবার। প্রথম দিল্লি দর্শন হয়েছিল ১৯৮২ সালে। সেই দিল্লি আমাকে অভিভূত করেছিল। এখন তেমন একটা করে না। শহরের চাকচিক্য বেড়েছে ঠিক, কিন্তু সব কিছুতেই কেমন যেন একটা মেকি ভাব, অনেকটা নিষ্প্রাণ। আর হবেই না কেন? দিল্লি তো এখন বিশ্বের একটি উঠতি অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ারের রাজধানী। আর ২০ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের পরই হবে ভারতের অবস্থান। অর্থনীতিবিদরা তেমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। দিল্লির মানুষের হাতে এখন কাঁচা টাকা। ২০১৫ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে অলিম্পিক গেমস। ফলে দিল্লির চেহারা অনেকটা পাল্টে গেছে। চালু হয়েছে মেট্রো রেল। গেঁড়ে বসেছে বড় বড় শপিংমল। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তবে বিমানবন্দরের কর্মদক্ষতা বাড়েনি তেমন একটা। কী এক রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসার আমার নাম আর পাসপোর্ট নিয়ে বেশ সময় নিয়ে প্রায়ই বিরক্তিকরভাবে গবেষণা করেন। এবার তো আমার লাল পাসপোর্ট। মনে করেছিলাম, তেমনটা বুঝি হবে না। আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। আমার পেছনে লাইনে দাঁড়ানো বিমানযাত্রী উঁকিঝুঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কেন এত দেরি? পেছনে ফিরে বলি, আমার নাম নিয়ে দিল্লি ইমিগ্রেশনে কোনো একটা সমস্যা আছে, তাই একটু সময় নিচ্ছে। বছর কয়েক আগে তো বিরক্ত হয়ে আমাকে বলতে হয়েছিল, সমস্যা থাকলে আমি নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি, পাসপোর্টটা দিয়ে দিন। ইমিগ্রেশন অফিসারের বারবার প্রশ্ন, আমার নামের সঙ্গে ভূঁইয়া নেই তা কী আমি নিশ্চিত? তাকে বলি, ওই নামে বাংলাদেশে একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি বর্তমানে প্রয়াত। ভালো মানুষ ছিলেন। সেবার আধা ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়েছিলাম। সেদিক থেকে কলকাতার ইমিগ্রেশন অফিসাররা অনেক বেশি কর্মদক্ষ। দিল্লি বিমানবন্দরটা ভারতের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশন পর্যন্ত হাঁটতে হলো প্রায় এক কিলোমিটারের কাছাকাছি। ভেতরে চলাচলের জন্য ইলেকট্রিক গাড়ি আছে। তবে তাদের সেবা মিলল না। বয়স্কদের বেশ অসুবিধা ও কষ্টই হচ্ছিল ইমিগ্রেশন পর্যন্ত পৌঁছতে।

দেশে থাকতেই পত্রপত্রিকা পড়ে জেনেছিলাম, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভাপতি কানাইয়া কুমারের গ্রেপ্তার নিয়ে সে দেশে বেশ আন্দোলন হচ্ছে। ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৭২৫। কোনোটি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে, আবার কোনোটি কেন্দ্রের। জেএনইউ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখানকার ছাত্র-শিক্ষকদের অধিকাংশই উদার মনোভাবাপন্ন। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতাকে তাঁরা ধারণ করেন। এই ক্যাম্পাসে এখনো মার্ক্সবাদ চর্চা হয়। বিজেপি সরকার এই ক্যাম্পাসকে তাদের পশ্চাৎমুখী ধ্যান-ধারণা প্রচার ও প্রসারে বাধা মনে করে। বিজেপি ও তাদের পিতৃসংগঠন আরএসএসের অনেক নেতা লোকসভা ও লোকসভার বাইরে প্রচার করেন, জেএনইউ হচ্ছে রাজ্যের যত রকমের অনাচারের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতকে হিন্দু ভারতে রূপান্তরে বড় বাধা। তাঁরা মনে করেন, এখানকার ছাত্রছাত্রীদের অবাধ মেলামেশা দেশটাকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। এই নেতারা স্বীকার করতে নারাজ এটি একটি অত্যন্ত উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয়, যা নিয়ে যেকোনো ভারতবাসী গর্ব করতে পারেন। 

জেএনইউর বর্তমান সংকট শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখে। ছাত্র সংসদ ঘোষণা দিয়েছিল ক্যাম্পাসের ভেতর একটি রেস্টুরেন্টে বিকেলে কবিতা পাঠের আসর বসবে। এমন অনুষ্ঠান আমাদের দেশে সমাজতন্ত্রে দীক্ষিত ছাত্ররা একসময় করত। এখন তারা অন্য অনেক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথারীতি অনুমতিও দিয়েছিল কানাইয়া ও তাঁর বন্ধুদের। গোল বাধল আসরের শুরুতে। পেছনের দিকের কিছু ছাত্র হঠাৎ করে সরকার ও কারো কারো মতে, ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। কয়েকজন ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী মাকবুল বাট ও আফজাল গুরুর পক্ষে স্লোগানও দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। কেউ কেউ নাকি ভারত ভাঙার স্লোগানও শুনেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ কানাইয়া কুমারকে গ্রেপ্তার করে। কানাইয়া সরাসরি বলেন, এসব স্লোগানের সঙ্গে তাঁরা মোটেও জড়িত নন। কারা এ ধরনের স্লোগান দিয়েছে তা তাঁদের জানা নেই। তার পরও কানাইয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি অভিযুক্ত চারজন পালিয়ে যান। পরে তাঁদের দুজন উমর খালিদ ও অনির্বাণ চ্যাটার্জি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সবার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ। এর মধ্যে কানাইয়া কুমারকে আদালতে হাজির করা হলে বিজেপিপন্থী আইনজীবীরা তাঁকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব ঘটনার প্রতিবাদে এখন তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছে। জেএনইউর আগে দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিম্নবর্ণের দলিত ছাত্র রোহিত বার্মুলা আত্মহত্যা করে। বলা হচ্ছে, রোহিত একজন দলিত হওয়ার কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত নানাভাবে হয়রানি করতেন। সেই অপমানেই রোহিত আত্মহত্যা করেছে। গত বছর কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অচল ছিল বহু দিন। এসবের বাইরে আরএসএস গোমাংস খাওয়ার অভিযোগে উত্তর ভারতের বেশ কয়েক স্থানে মুসলমানদের ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিবাদেও পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক জায়গায় গোমাংস খাওয়ার উৎসব চলে। কয়েক দিন আগে দিল্লির কাছের রাজ্য হরিয়ানার হিসার গ্রামেও জাঠ সম্প্রদায় আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি, অনুন্নত সম্প্রদায় ঘোষণা করে যেন তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়। এই দাবিতে তারা দিল্লিতে প্রবেশের অনেক রাজপথ বন্ধ করে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, দিল্লির পানি সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। মূল কথা, ভারতের একেক স্থানে একেক ধরনের সংকট পাখা মেলছে।

সবার প্রশ্ন, এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী করছেন? প্রশ্নটা আরো বেশি করে দেখা দিচ্ছে, কারণ পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে আর কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। এসব ঘটনা তো নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। অনেকের সঙ্গে আলাপ করে আর পত্রপত্রিকা পড়ে মনে হলো, এসব বিষয় নিয়ে মোদি তেমন একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। বস্তুতপক্ষে তিনি এখন পর্যন্ত এসব বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি। অনেকের মতে, তিনি কথা বলার দায়িত্বটা ছেড়ে দিয়েছেন দলের কিছু অর্ধশিক্ষিত নেতা-নেত্রীর ওপর। মোদির মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী (শিক্ষাও তাঁর দায়িত্বে) স্মৃতি ইরানি। একসময় ছোট পর্দার বড় অভিনেত্রী ছিলেন (কিঁউ কি সাস ভি ক্যাভি বহু থি)। ২৪ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় তিনি রোহিতের আত্মহত্যা নিয়ে সে কী এক নাটকীয় গলাবাজিই না করলেন! দলের মধ্যে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। অন্যরা বললেন, একজন অশিক্ষিত মহিলা এ ছাড়া আর কিই-বা করতে পারেন! স্মৃতি নাকি উচ্চ মাধ্যমিক পাস! সমালোচকরা বলেন, তাঁর সনদ শতভাগ জাল। স্মৃতির লোকসভা কাঁপানো এই নাটকের এক দিন পর রোহিতের মা সাংবাদিকদের ডেকে সাফ জানিয়ে দিলেন স্মৃতি তাঁর ছেলেকে নিয়ে পুরোটাই মিথ্যাচার করেছেন। অন্যদিকে জেএনইউর ঘটনা নিয়ে ভারতের বুদ্ধিজীবী মহল বেশ সোচ্চার। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একটি মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা। অনেকে জেএনইউ চত্বরে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এসেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এরই মধ্যে জেএনইউর আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে মোদি বেশ ফুরফুরে মেজাজে কৃষকদের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে গিয়ে এক জনসভায় কৃষকদের মনে করিয়ে দিয়েছেন শহীদ ভগত সিং আন্দামানে জেল খেটেছেন! আসলে ভগত সিংয়ের ফাঁসি হয়েছিল লাহোরে। ‘ম্যাঙ্গো পাবলিক’ এমনিতে বোকা হয়। রাজনীতিবিদরা তাদের সহজে বোকা বানাতে পারেন। তা না হলে মোদি যখন বলেন সেই বৈদিক যুগে ভারতে হাওয়াই জাহাজ ছিল, তারা তা কিভাবে বিশ্বাস করে? বাংলাদেশের ‘ম্যাঙ্গো পাবলিক’ আর ভারতের ‘ম্যাঙ্গো পাবলিক’-এর মধ্যে তেমন কোনো তফাত নেই। এ দেশেও তো সাঈদীকে চাঁদে দেখা যায়! সেই ঘটনা নিয়ে সারা দেশে আগুন লাগে।

কলকাতার বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, এসব ঘটনায় আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনে মমতার তেমন একটা ক্ষতি হবে না; তবে তাঁর অনেক আসন হাতছাড়া হবে। এরই মধ্যে সিপিএম ও কংগ্রেস নির্বাচনী জোট বাঁধবে তেমনটি শোনা যাচ্ছে। যদিও তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে তেমন একটা নেই। তবে রাজ্যে বিজেপির ভোট কমবে বলে অনেকেই মনে করেন। এই রাজ্যের সাধারণ মানুষ অনেক বেশি রাজনীতিসচেতন। তারা বিজেপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বেজায় নাখোশ। অনেকের মতে, বিজেপির অদ্ভুত সব তত্ত্ব এই রাজ্যে অচল। কলকাতা এখনো ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী। কেন্দ্রে মোদির ক্ষমতা হারানোর তেমন একটা আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তাঁর বড় পুঁজি কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্য-মেধার নেতৃত্ব, যা পশ্চিমবঙ্গের বেলায়ও সত্য। বিশাল ভারতবর্ষে এখন আর নেহরু, আজাদ বা প্যাটেলের মতো নেতা জন্মগ্রহণ করেন না। কলকাতা হয়ে ঢাকা ফেরার পথে বন্ধুদের বলি, যোগ্য নেতৃত্বের আকাল সর্বক্ষেত্রে। ভারতও তার বাইরে নয়। বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাগাড়ম্বরসর্বস্ব। ‘ম্যাঙ্গো পাবলিক’ই তাঁদের ভরসা। মনে হলো, এদিক দিয়ে ভারত বাংলাদেশ থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে। এক কথায় আমার কাছে দিল্লি এখন আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। তার পরও দিল্লি ভারতের রাজধানী। পাওয়া যায় সেই বিখ্যাত লাড্ডু। না খেলে যে কেউ খেয়ে আসতে পারেন।

 

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক 

মন্তব্য