kalerkantho

হয়েও হচ্ছে না বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হয়েও হচ্ছে না বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা মানেই চমক। যার পিঠাপিঠি হাত ধরে হাঁটে বিতর্ক। কত বড় বড় নাম পড়েছে! ১৯৯৯ সালে মিনহাজুল আবেদীন, ২০০৩ সালে আকরাম খান, ২০০৭ সালে খালেদ মাসুদ, ২০১১ সালে মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো ক্রিকেটারদের ঠাঁই হয়নি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।

বিতর্কের এ আশ্চর্য পথচলার শুরু যে মিনহাজুলকে দিয়ে, তিনিই এখন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক। ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করবেন তিনি আজ। তাতে চমক কিংবা বিতর্ক থাকবে কতটা?

বিতর্কের বড় এক অনুষঙ্গ অবশ্য থাকছে না। কারণ আজ যে দল ঘোষণা করা হবে, সেটি চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড না। আইসিসি ২৩ এপ্রিলের মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রেখেছে, তবে ২৩ মে পর্যন্ত তাতে অদলবদলের জানালাও বন্ধ করেনি। ৩০ মে শুরু বিশ্বকাপের সপ্তাহখানেক আগ পর্যন্ত স্কোয়াডে অদলবদল করা যাবে। এরপর বদলানো যাবে শুধু ইনজুরিতে পড়া ক্রিকেটারদের, সে জন্য আইসিসি টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। ২৩ মে পর্যন্ত যখন কোনো নোটিশ ছাড়া খেলোয়াড় বদলানো যাবে, তাহলে আর ২৩ এপ্রিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কেন? ‘এটি তো আইসিসিকে জিজ্ঞেস করতে হবে’—হাসতে হাসতেই কাল বলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বিতর্কে সবচেয়ে বড় নাম বোধকরি মিনহাজুল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাঁকে না রাখাটা শুধু সমালোচনায় সীমিত থাকেনি, এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মিছিল হয়েছে পর্যন্ত। শেষে ব্যাটসম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে ইনজ্যুরড দেখিয়ে সে জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মিনহাজুলকে। এবার আপাতত অমনটা করার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ বিশ্বকাপের জন্য আজ ১৫ জনের নাম ঘোষণা করা হলেও স্কোয়াডটি আসলে ১৭ জনের। বাড়তি দুজনকে নিয়ে যাওয়া হবে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য। স্বাগতিক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সে সিরিজে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ; ফাইনালে উঠলে পাঁচটি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নড়বড়ে হয়ে যাওয়া নামগুলোর জন্য সেগুলো যেমন জায়গা পাকা করার চ্যালেঞ্জ; আবার অন্যদের জন্য সেখানে নিজেদের নাম ঢোকানোর অডিশনও।

আজ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা হয়েও তাই হচ্ছে না। চূড়ান্ত ১৫ ঠিক হবে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পরই।

বিশ্বকাপ শুরুর সপ্তাহখানেক আগ পর্যন্ত খেলোয়াড় রদবদলের তথ্যটি জানা ছিল না বিসিবির। সেটি জানার পর ঘোষণার জন্য বাড়তি সময় নেওয়ার পক্ষপাতী নয় তারা। দিন দুয়েক আগেও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল বলেছিলেন ১৮ এপ্রিল স্কোয়াড ঘোষণার কথা। সেটি দুই দিন এগিয়ে ঘোষণা হবে আজই। এর আগে কাল বিসিবিতে গিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। এরপর স্কোয়াডে অদলবদলের বাড়তি সময়সীমার কথা জানান তিনি, ‘আমার ধারণা ছিল যে ১৮ তারিখের মধ্যে দল ঘোষণা করতে হবে এবং কারো ইনজুরি না থাকলে তা বদলানোটা সহজ হবে না। এখন আমরা জানতে পারছি যে, সময় আছে। ২২ মে পর্যন্ত (আসলে ২৩ মে) সময় আছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হচ্ছে ১৮ মে (আসলে ১৭ মে)। নির্বাচকদের তাই বলেছি একটা স্কোয়াড দিয়ে দিতে।’

বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে গেল কিছুদিনে কম কথাবার্তা হয়নি। বিসিবি প্রধান ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের নাম বলেই দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে নির্বাচকরা তা পরিবর্তন করবেন, এমন ভাবনার কোনো কারণ নেই। তবে ওই ‘নিশ্চিত’ ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অফফর্ম নিয়ে চিন্তিত দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রকরা। ইনজুরি সমস্যাতেও ভুগছেন অনেকে। বিশ্বকাপের সপ্তাহখানেক আগ পর্যন্ত অদলবদলের খবরটি তাই স্বস্তি হয়ে এসেছে। সেটিই কাল নির্বাচকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল, ‘কয়েকটা কারণে সমস্যা হচ্ছে। অনেকের ফর্ম ভালো না। এটা একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইনজুরি একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক খেলোয়াড়কেই আমরা ধরেছিলাম বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকবে। কিন্তু এখনো তারা পুরোপুরি সুস্থ না। এখন যেহেতু হাতে সময় আছে, বিশ্বকাপের ১৫ জনের নাম ঘোষণা করে দেওয়া যায়।’ ত্রিদেশীয় সিরিজের বাড়তি দুজনের জন্য বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের নাম দিচ্ছি। ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য অন্তত ১৭ জন। এ বাড়তি দুজন তো থাকছেই। ওখান থেকেও বদলানোর সুযোগ থাকবে।’

আর এ নিয়মের কারণেই এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের অবকাশ নেই। স্কোয়াডটি যে এক অর্থে ১৫ জনের না, ১৭ জনের!

মন্তব্য