kalerkantho

বৃষ্টিতেও উপভোগ্য ফুটবল

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃষ্টিতেও উপভোগ্য ফুটবল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচ শুরুর ২৭ সেকেন্ডে গোল। তখন ঝলমলে রোদ। পরের ৯০ মিনিটে এই ম্যাচ আর আবহাওয়া যে এমন রং বদলাবে কে ভাবতে পেরেছিল! শেখ জামালের বিপক্ষে ২৭ সেকেন্ডে সেই গোল হজম করা আবাহনী এরপর টানা ৪ গোল দিয়েছে। গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি, জামাল আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ৩-৪ করেছে। তাতে শেষ কয়েক মিনিট হয়েছে রুদ্ধশ্বাস ফুটবল। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে না পয়েন্ট হারিয়ে বসে আবাহনী! এমন শঙ্কা শেষ পর্যন্ত অবশ্য মিথ্যা বানিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আকাশি-নীলরা।

প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটের খেলা বাকি থাকতেই কালবৈশাখীর হানা, তুমুল বৃষ্টি। খেলোয়াড়দের মাঠে থাকার কোনো উপায়ই ছিল না। ঘণ্টাখানেক পর যখন তাঁরা ফিরেছেন তখন মাঠ স্বাভাবিকভাবেই আর আগের মতো নেই। শট নিলেই বোঝা যাচ্ছিল ঘাসের নিচে থইথই পানি। তাতে প্রথম আধঘণ্টার সঙ্গে পরের এক ঘণ্টার খেলার কোনো মিলও নেই। বৃষ্টিতে ভেজা মাঠে স্বাভাবিক খেলা সম্ভবও নয়। তখন মূলত জোরের লড়াই। বৃষ্টি আসার আগেই সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ ২-১ করে ফেলা আবাহনী সেই লড়াইয়েও লড়ছিল ভালো। ৭০ মিনিটে তারা ৪-১ করে। শেষ ২০ মিনিটে জামাল যে ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থা তৈরি করে ফেলেছিল তার জন্য কোচ মারিও লেমোসও বৃষ্টি নয়, নিজেদের ‘মনোযোগ হারানো’কেই দায়ী করেছেন।

এই অমনোযোগিতা ছিল আবাহনীর কিক অফের পরপরই। সলোমন কিং ডান প্রান্তে যখন বল পাঠিয়েছেন, আবাহনী ডিফেন্ডার মাসি সাইঘানি তখন নিজের পজিশনেই। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন বল নিয়ে যে ক্ষিপ্রতায় মুভ করেছেন, মাসিহ তা পারেননি। সাখাওয়াতের ক্রসের সময় জামালের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লুসিয়ানো পেরেসকে আগলে রাখা টুটুল হোসেনও প্রতিক্রিয়া দেখালেন ধীরে। তাতে লুসিয়ানোর পা ছুঁয়েই বল জালে। জামাল এই লিডটা অবশ্য মিনিট দশেকের বেশি ধরে রাখতে পারেনি। নাবিব নেওয়াজের ৩৫-গজি এক ফ্রিকিকে লাফিয়ে মাসিহই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন, তাঁর ব্যাক হেড সোজা জড়ায় জালে। ২৮ মিনিটে রায়হান হাসানের লং থ্রোতে তেমনি আরেক ব্যাক হেডে বল নিজের পোস্টেই ঠেলেছেন জামাল ডিফেন্ডার মঞ্জুরুর রহমান। ম্যাচে তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার রং ছড়িয়েছে পুরোপুরি। বৃষ্টির হানা এমন সময়ে। ফের খেলা শুরু হলে প্রথমার্ধে অন্তত আর ছন্দ পায়নি কোনো দলই। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যক্তিগত ঝলক। সানডে চিজোবার সঙ্গে ওয়ান টু খেলে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে কেরভেন্স বেলফোর্ট করেন ৩-১। এই মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা নাবিব উপোস করবেন তা কি হয়! সানডেরই হেডে আবারও জামালের অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার করেছেন এবারের লিগে নিজের অষ্টম গোলটি। ৪-১ এ এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচটি সেখানেই শেষ মনে হচ্ছিল। কিন্তু জামাল লড়াই ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধেই বদলি নামা জাকির হোসেন জিকু তাদের আশা দেখান। প্রথমে সলোমন কিংয়ের শটে শহীদুলের হাত ফসকে বেরিয়ে আসা বলটি জালে ঠেলে করেন ৪-২, এরপর মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলে আবাহনী গোলরক্ষককে হারান ওয়ান অন ওয়ানে। ৩-৪ করা এই তৃতীয় গোলটি ৮৯ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়টুকু আবাহনী যে ভালোভাবে পার করতে পেরেছে সেটিই তাদের জন্য স্বস্তির। জয়ে প্রথম লেগটা শেষ করতে পারাটাও। লিগে এ পর্যন্ত দুটি ম্যাচ হেরেছে তারা বসুন্ধরা কিংসের পর শেখ রাসেলের কাছে। রাসেলের কাছে হারের পর টানা চতুর্থ জয় এটি তাদের। লিগ টেবিলে তাতে বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে ১ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে অবশ্য প্রথম পর্বেই ব্যবধানটা ৪ পয়েন্টে নিতে পারবে কিংস। নোয়াখালীর শহীদ ভুল স্টেডিয়ামে কাল দিনের অন্য ম্যাচে তলানির দুই দল ব্রাদার্স ও টিম বিজেএমসি নিজেদের ড্র করেছে গোলশূন্যভাবে।

মন্তব্য