kalerkantho

মোহামেডানকে উড়িয়ে দিল আবাহনী

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোহামেডানকে উড়িয়ে দিল আবাহনী

জহুরুলের ৯৬ রান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠের সবুজ ও আকাশের নীলের মাঝে ওরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়। পাখির সংখ্যা গোনার তাই সাধ্যি কার! কিন্তু কাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকসংখ্যা প্রেস বক্সে বসে গোনা গেছে সহজেই। আড়মোড়া ভাঙা সকাল, তপ্ত দুপুর কিংবা পড়ন্ত বিকেল—কখনোই তা ১০০ পেরোয় না যে!

অথচ কাল ক্রিকেটমঞ্চে ছিল আবাহনী-মোহামেডানের লড়াই!

এ দুই দলের মুখোমুখিতে একসময় দেশ দুই ভাগ হয়ে যেত। সেটি ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট। অনেক দিন ধরেই এ মহারণ পরিণত ঐতিহ্যের কঙ্কালে। নানাবিধ কারণ রয়েছে, তবে হালফিলে সবচেয়ে কারণ বোধ করি মোহামেডানের করুণ দশা। এমন দল তৈরি করে, যারা চ্যাম্পিয়নশিপের রেসে থাকবে কী, অবনমন এড়াতে পারলেই যেন খুশি! এই যখন অবস্থা, তখন আবাহনীর বিপক্ষে নতজানু আত্মসমর্পণই তো নিয়মিত ছবি। ছবিটা পাল্টায়নি কালও। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মোহামেডানকে সহজেই ৬ উইকেটে হারায় আবাহনী।

ছয় ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ‘যথারীতি’ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ধানমণ্ডির ক্লাবটি। আর প্রথম লিগের প্রথম তিন ম্যাচ জয় যে নিতান্তই তালেগোলে, তা যেন কাল টানা তৃতীয় ম্যাচ হেরে বুঝিয়ে দিল মতিঝিলপাড়ার দল। অতীত সাফল্যের জাবর কাটা ছাড়া যাদের আর কিছু করার নেই।

অথচ আবাহনীর আমন্ত্রণের ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডানের শুরুটা তো মন্দ ছিল না। ২৩ ওভারে ১ উইকেটে ৮৭—একটু ধীরগতির হলেও হাতে উইকেট থাকায় বড় স্কোরের আশা ছিল। শেষ পর্যন্ত ২৫০-ও করতে পারেনি। ইরফান শুক্কুর (৫৭), রকিবুল হাসানরা (৫১) ৭ উইকেটে ২৪৮ রান পর্যন্ত নিতে পারেন দলকে। যা হাসিখেলায় টপকে যায় আবাহনী, ১৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে। জহুরুল ইসলাম-সৌম্য সরকারের ১০৫ রানের ওপেনিং জুটিতে ম্যাচের ফল নিয়ে ন্যূনতম অনিশ্চয়তা দূর হয়ে যায়। এমন বিস্ফোরক জয়ে একটাই হতাশা থাকতে পারে। জহুরুল ইসলামের ৯৬ রান করে আউট হয়ে যাওয়া।

আবাহনীর এই ওপেনার অবশ্য ম্যাচ শেষে দলের জয় নিয়ে আনন্দের কথাই জানিয়ে যান, ‘আবাহনী জিতেছে—এ জন্য অনেক খুশি। আর সেঞ্চুরি মিস হয়েছে—দ্বিতীয় স্পেলে এসে রাজীব (শাহাদাত হোসেন) অনেক ভালো বল করে ফেলেছে।’ জয়ের আনন্দেও অবশ্য দর্শকহীনতার দুঃখ ভুলতে পারেন না জহুরুল, ‘আমি মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে এর আগেও খেলেছি। তখন এর থেকে আরো বেশি দর্শক থাকত। অন্তত সমর্থক গোষ্ঠীর প্রায় ৫০-৬০ জন তো থাকতই। এখন দিন দিনই তা কমে আসছে। আমি অবশ্যই চাই, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে যেন আরো দর্শক আসে।’

আবাহনীর মতো লিগের ষষ্ঠ ম্যাচে কাল পঞ্চম জয় পেয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জও। মেহেদী মারুফের সেঞ্চুরিতে খেলাঘরকে হারায় তারা ৫ উইকেটে। আরেক খেলায় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৪৩ রানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। লিগে এটি শেখ জামালের তৃতীয় জয়, গাজী গ্রুপের চতুর্থ হার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

আবাহনী-মোহামেডান : মোহামেডান : ৫০ ওভারে ২৪৮/৭ (ইরফান ৫৭, রকিবুল ৫১; নাজমুল ৩/২৯, সাইফউদ্দিন ৩/৩১)। আবাহনী : ৪৭.৩ ওভারে ২৫৪/৪ (জহুরুল ৯৬, সৌম্য ৪৩; শাহাদাত ২/৫৯)। ফল : আবাহনী ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : জহুরুল ইসলাম।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-খেলাঘর : খেলাঘর : ৫০ ওভারে ২৬৪/৩ (মানেরিয়া ৮৭*, মাহিদুল ৭৭, রবিউল ৫৩; মুক্তার ১/৪২)। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৪৯.২ ওভারে ২৬৮/৫ (মারুফ ১০৮, নাঈম ৭২; মইনুল ৩/৪২)। ফল : লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মেহেদী মারুফ।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স : শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব : ৫০ ওভারে ২৭৭/৬ (নুরুল ৮১*, গুণারত্নে ৭৯; পারভেজ ৩/৩৭)। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স : ৪৭ ওভারে ২৩৪ (শামসুর ৮১, মেহেদী ৬০; খালেদ ৩/৩১, সালাউদ্দিন ৩/৪৭)। ফল : শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৪৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আসেলা গুণারত্নে।

মন্তব্য