kalerkantho


কিশোরীরাই খুলবে নেপাল ম্যাচের গেরো!

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



কিশোরীরাই খুলবে নেপাল ম্যাচের গেরো!

কিশোরীদের পায়েই ছন্দোময় বাংলাদেশের নারী ফুটবল। সেই উন্মাতাল করা ফুটবল ছন্দের সামনে সেখানে কেউ টেকে না। অন্তত এই উপমহাদেশের কোনো প্রতিপক্ষই আর অজেয় নেই। কিশোরীদের সেই দলটিই এবার সিনিয়র মহিলা দলের নাম নিয়ে নেপালের মুখোমুখি হচ্ছে আজ বিরাটনগরে এক ঐতিহাসিক গেরো খুলতে।

খুললে বিরাটনগর থেকেই হবে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের নতুন ইতিহাসের শুরু। পেয়ে যাবে সাফের ফাইনালে ওঠার চাবিও। তার আগ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গেরোতে আটকে দেশের মহিলা ফুটবল। সেটা হলো, মূল জাতীয় দলের লড়াইয়ে কখনো নেপাল জয় হয়নি বাংলাদেশের। তাই আজ বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচটি শেষ গ্রুপ ম্যাচ হয়েও পেয়ে যাচ্ছে সেমিফাইনালের মর্যাদা। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনই দিচ্ছেন এই মর্যাদা, ‘সেমিফাইনালের আগে আমরা আরেকটি সেমিফাইনাল খেলতে নামব। নেপালের চেয়ে আমরা পিছিয়ে আছি বয়স আর অভিজ্ঞতায়, যে কারণে আমরা ম্যাচে ছোট ছোট ভুল করি। ভুটানের ম্যাচে রূপনা যেমন একটি ব্যাকপাস করে ভুল করেছিল। এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আমাদের শতভাগের বেশি দিতে হবে। তার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশের মেয়েরা।’ সাবিনা-মনিকারা মানসিকভাবে তৈরি ঐতিহাসিক গেরো খুলে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশকে প্রথম জয় উপহার দিতে। এই জয় তাদের দেবে গ্রুপ সেরার সম্মান। সুবাদে মহিলা সাফে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে এড়িয়ে বাংলাদেশ সহজতর প্রতিপক্ষ পাবে সেমিফাইনালে। 

অর্থাৎ গ্রুপে নেপালের বিপক্ষে এক জয়ই বাংলাদেশকে পৌঁছে দিতে পারে ফাইনালে। উল্টো করে দেখলে নেপালের জয় কিংবা ড্রয়ে স্বাগতিকদের ফাইনালের পথ সুগম হয়। এই অঙ্কে প্রথমবারের মতো শহীদ রঙ্গশালা স্থানীয় দর্শক-সমর্থকে জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস। গতকাল মাইকিং করে এই ঝাঁজালো ম্যাচে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। ফুটবলে হোম ভেন্যু এবং নিজেদের সমর্থক—ম্যাচের বড় দুটি নিয়ামক। সেই হিসাবেও এগিয়ে থাকে নেপাল। এসব যে মাঠের খেলায় তেমন প্রভাব দেখছেন না বাংলাদেশ কোচ, উল্টো বলছেন, ‘প্রতিপক্ষের দর্শক ঠাসা স্টেডিয়ামে গিয়ে আমার মেয়েদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ভুটানে দুটি টুর্নামেন্টে প্রতিকূল পরিবেশে ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে এই মেয়েদের। সর্বশেষ মিয়ানমারেও খেলেছে একই পরিবেশে। সুতরাং খেলায় মনোযোগী হলে তাদের পারফরম্যান্সে হেরফের হবে না।’ এই মেয়েদের খুব ভালো করে চেনেন কোচ। তাঁর হাতেই তাঁদের উত্তরণ বয়সভিত্তিক ফুটবলে, যেখানে গত কয়েক বছরে তাঁরা অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে নিজেদের নিয়ে গেছে এশীয় সেরাদের মঞ্চে। বাছাই পর্ব উতরে ২০১৭ সালে প্রথম এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের মূল পর্বে কোরিয়া, চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো সেরাদের সঙ্গে খেলেছে তারা। কদিন আগে মিয়ানমারে খেলে আগামী আসরটি নিশ্চিত করে ফিরেছে এই মেয়েরা। 

সেটা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কীর্তি। কিন্তু সেই দলের ৯ জন এবার নেপাল এসেছেন সিনিয়র জাতীয় দলের ঝাণ্ডা হাতে। একাদশে খেলছেন পাঁচজন। তাঁদের হাতেই জাতীয় দলের ভাগ্যবদলের জাদুর কাঠি। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচে কোনো জয় নেই। সাফে দুইবারের মুখোমুখিতে হার। তবে তৃতীয় ম্যাচে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়েছে, গত নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষমেশ ড্র করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সেই সুখস্মৃতিটকু যেন তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে চাইছেন মহিলা দলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি, ‘ওই ম্যাচটি দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাদের হার না মানা স্বভাবটা তৈরি হচ্ছে। তবে এখানে এক দিনের বিরতিতে আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে হচ্ছে, এ জন্য মেয়েরা একটু ক্লান্তও। তা ছাড়া গরম আবহাওয়ার মধ্যে নেপালের ম্যাচুরড দলের সঙ্গে লড়াই করাও বড় চ্যালেঞ্জ।’ এই কিশোরীদের কাছে চ্যালেঞ্জ নতুন কিছু নয়, তাঁদের পায়েই মহিলা ফুটবলের নব নব দিগন্তের উন্মেষ ঘটছে।    

সেই ধারায় মারিয়া-মনিকাদের জাতীয় দলে উত্তরণ এবং নেপালে এসেছেন সেই গেরো খুলতে! নেপালি কোচ হরি খড়কাও জানে বাংলার কিশোরীদের পায়ে ম্যাজিক আছে। কয়েকজন আলাদা করে চিহ্নিত করে তিনি পাল্টাহুংকার ছাড়ছেন, ‘এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফরোয়ার্ড লাইন আছে আমাদের। ভুটানের বিপক্ষে অনেক সুযোগ পেয়েও আমরা স্কোরলাইন বড় করতে পারিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে এ জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ তাদের বড় অস্ত্র সাবিত্রা-নীরার ফরোয়ার্ড লাইন। তবে লাল-সবুজের অধিনায়ক সাবিনা পঞ্চম সাফ শুরু করেছেন ভুটানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোলে। এর পরও বাংলাদেশ অধিনায়ক তারুণ্যেই ভাগ্যবদল দেখছেন, ‘এই দলে অনেক তরুণ ফুটবলার, যারা গত দুই বছর বয়সভিত্তিক ফুটবলে দুর্দান্ত খেলেছে। তারাই পারবে দুর্দান্ত কিছু করতে।’ বাংলাদেশের তরুণ দলটির কাছেই নেপাল ম্যাচের গেরো খোলার দাবি জানিয়ে রাখল সবাই!



মন্তব্য