kalerkantho


ভুটানি প্রতিরোধ ভেঙে সেমিতে বাংলাদেশ

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



ভুটানি প্রতিরোধ ভেঙে সেমিতে বাংলাদেশ

সিনিয়র দলের হয়ে গোলের খাতা খুলতে পেরে ভীষণ খুশি মৌসুমী, ‘সিনিয়র দলে আগে থেকে খেললেও এটা আমার প্রথম গোল। আমার গোলে দল লিড নিয়েছে এবং ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। খুব আনন্দের।’ প্রথমার্ধ গোলশূন্যে কঠিন হয়ে পড়া ম্যাচটি তাঁর গোলেই সহজ হতে শুরু করে। পরে সাবিনার অনিন্দ্যসুন্দর আরেক গোলে ভুটান ম্যাচ ‘সহজ পাঠ’ হয়েই থাকে বাংলাদেশের জন্য। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা পঞ্চম সাফে চমৎকার শুরু করে পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে।

তবে আগের সেই ভুটান নেই। বিরাটনগরে এসে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, কাড়ি কাড়ি গোল খাওয়ার দিন ফুরোতে চলল। চ্যালেঞ্জটা যেন নীল-সবুজের মেয়েরাও ভালো অনুভব করেছে। যে দলের ফরোয়ার্ড লাইনে বিপুল সম্ভাবনা, গোলে যাদের কখনো অরুচি ধরে না সেই দলকে তারা ঠেকিয়ে রেখেছে পুরো প্রথমার্ধ। ভুটানের রক্ষণাত্মক ফুটবলে রীতিমতো আটকে ছিলেন সাবিনা-স্বপ্নারা। এর মধ্যেও স্বপ্নার সামনে ছিল গোলের হাতছানি। ১৩ মিনিটে লং বলটি তাঁর সামনে পড়লেও আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে তুলে দিয়েছেন পোস্টের ওপরে। অসমান শক্ত মাঠে বলের বাউন্স বড় বেশি। এ জন্য বল পায়ে রেখে খেলা খানিকটা কঠিনই ছিল। তাই বলে এত দাপটের মধ্যেও প্রথমার্ধ গোলহীন থাকবে! সেটার পেছনে গোল মিসও একটা কারণ। ২৯ মিনিটে মারিয়া মান্ডার কর্নার কিক থেকে অনায়াসেই গোল হতে পারত। স্বপ্না ও মৌসুমী চেষ্টা করেও পা ছোঁয়াতে পারেনি, পোস্টের সামনে দিয়ে বল চলে যায় বাইরে। এরপর সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন ভুটানি গোলরক্ষক সাবিনার শটে। ৩৫ মিনিটের ওই শট ঠেকিয়ে তারা বিরতিতে যায় গোল না খাওয়ার স্বস্তি নিয়ে।

তাতে খুশি নেপালের বিরাটনগরও। ভুটানের লড়াইকে তারা স্বাগত জানিয়েছে হাততালি দিয়ে, উজ্জীবিত করেছে চেঁচিয়ে। তারা তো আর জানে না ভুটান যে বাংলাদেশের ‘সহজ পাঠ’। একসময় এই প্রতিরোধ ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। গোলমুখের বাঁধ একবার ভাঙলেই গোলের তোড়ে ভেসে যাবে ভুটান। বিরতির প্রথম মিনিটেই সেই প্রতিরোধ ভাঙা গোল নিয়ে হাজির হন মৌসুমী, ‘বিরতির সময় কোচ বলেছিলেন, আক্রমণের চাপ অব্যাহত রাখলেই হবে। একসময় গোল হবেই।’ ৪৬ মিনিটে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মনিকার কর্নার কিকে এই মিডফিল্ডারের হেড ভুটানি পায়ে লেগে গোলে পৌঁছে গেলে লাল-সবুজের সব চাপ উড়ে যায় গোলের আনন্দে। রক্ষণে সেই যে ফুটো হয়েছে, তাতে আরো গোলের হাতছানি ছিল। অফসাইডের ফাঁদে মিলিয়ে গেছে অনেক সম্ভাবনা, তার বেশির ভাগই নষ্ট করেছেন স্বপ্না। আরেকটা খামতি ছিল ডান প্রান্তে। ‘ডানপন্থী’ সানজিদার পায়ে নেই আগের সেই ভেলকি, তাঁর পায়ে বল দিলে সেটি আর কেউ ফেরত পায় না। সেদিক থেকে কোনো চাপই ছিল না প্রতিপক্ষের রক্ষণে। ইনজ্যুরড কৃষ্ণার অভাবটা বারবার মনে পড়েছে কোচের। তাই একসময় সানজিদাকে তুলে নামান তহুরাকে। বাঁ দিকে অবশ্য দুর্দান্ত খেলেছেন শামসুন্নাহার, লিকলিকে গড়নের এই ডিফেন্ডার সারাক্ষণ উইং ধরে আক্রমণে উঠে বলের জোগান দিয়েছেন ফরোয়ার্ড লাইনে।

ম্যাচের দৃষ্টিনন্দন গোলটির উৎস এই শাসমুন্নাহার। ৮৫ মিনিটে তাঁর বাড়ানো বল ধরে সাবিনা বডি-ডজে দুজনকে পরাস্ত করে চমৎকার ফিনিশ করেন। ব্যবধান হয়েছে মাত্র ২-০। নেপাল ৩-০তে হারিয়েছে ভুটানকে। গোল গড়ে নেপালকে ছুঁতে লাগবে আরো এক গোল। সেটিও প্রায় হয়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। ডিফেন্ডার শিউলির পায়েও যে ফুটবলের এত সুরভি কে জানত! ঘরে থাকা তিন ভুটানির মধ্য দুপায়ের সংগতে বলটা এত সুন্দর বের করেছেন, সেটি গোল হলে হতো ম্যাচের সেরা মুভ। তাঁর বের করে দেওয়া বলটি তহুরা ধরে দু-কদম এগিয়ে দূরের পোস্টে রাখতে চেষ্টা করে পারেননি। পোস্ট ঘেঁষে বল বাইরে চলে গেলেও ২-০ গোলের জয়ে আগেরবারের রানার্স-আপদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়। তবে রয়েই গেল গোলগড় বাড়ানোর আক্ষেপটা। মৌসুমীর কণ্ঠেও সেই আক্ষেপ, ‘তহুরার গোলটি হয়ে গেলে সেরকম আক্ষেপ থাকত না। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, তবে ভুটানও এগিয়েছে।’ সেটা ঠিক, রক্ষণে তাদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এই ভুটানি প্রতিরোধ ভেঙেই লাল-সবুজের সেমিফাইনালে উত্তরণ। 

বাংলাদেশ দল : রূপনা, শিউলি, শামসুন্নাহার, আঁখি খাতুন, মাশুরা পারভীন, মনিকা চাকমা, সানজিদা (তহুরা), মৌসুমী, স্বপ্না, সাবিনা, মারিয়া মান্ডা।



মন্তব্য