kalerkantho

কম্বোডিয়া যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কম্বোডিয়া যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে

স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনাসহ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও শুরুর সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কম্বোডিয়া ফুটবল ফেডারেশন।

নামের সঙ্গে জুড়ে আছে অলিম্পিক যদিও, তবে অলিম্পিক আয়োজনের সুযোগ মেলেনি কখনো। মামুলি একটা প্রেসবক্সও নেই। একটি মিডিয়া রুম আছে বটে, তবে নিচতলার সেই রুমে বসে আবার খেলা দেখা যায় না। ওটা আসলে সংবাদ সম্মেলনকক্ষ। অনেক না থাকার এই স্টেডিয়ামকে ঘিরেই আবর্তিত কম্বোডিয়ার ফুটবল। নাম, নম পেন জাতীয় স্টেডিয়াম বা অলিম্পিক স্টেডিয়াম।

স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনাসহ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও শুরুর সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কম্বোডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। ফিফার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেছে ফুটবল একাডেমি, যেখানে পরিচর্যা করা হচ্ছে ভবিষ্যতের তারকাদের। এই একাডেমি তারা ছড়িয়ে দিয়েছে আঞ্চলিক পর্যায়েও। নিজেদের তৈরি করতে এগুলো ব্যবহার করেন শুধু ফুটবলাররাই। খেলোয়াড়দের ফিটনেস বাড়াতেও আছে নানা উদ্যোগ। সবচেয়ে বেশি জোরটা তারা দিচ্ছে বয়সভিত্তিক দল নিয়ে। কারণ বিশ্বমঞ্চ মাতাতে এই উদীয়মানদের দিকেই তাকিয়ে কম্বোডিয়ানরা।

সেই উজ্জ্বল আগামীর কথা ভেবেই কম্বোডিয়া ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জাপানের কেইসুকে হোন্ডার মতো এশিয়া ফুটবলের মহাতারকাকে। বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া ম্যাচের আগে কম্বোডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সারেথ কিউ বলছিলেন, ‘হোন্ডা আন্তর্জাতিক মানের তারকা। আমাদের এই অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়ও। তরুণরা ওকে আদর্শ মানে। তাই আমরা ওকে কম্বোডিয়া ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করেছি।’

এখনো খেলা ছেড়ে দেননি জাপানের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে সবকটিতেই গোলের রেকর্ড গড়া হোন্ডা। এশিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটাও সিএসকেএ মস্কো-মিলানের মতো ইউরোপিয়ান জায়ান্টে খেলা ডেড বল স্পেশালিট এই সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডারের। অস্ট্রেলিয়ার ‘এ লিগ’-এর দল মেলবোর্ন ভিক্টোরিয়ার খেলোয়াড় হয়েও দায়িত্ব নিয়েছেন একটি জাতীয় দলের। ক্লাবের দায়বদ্ধতা থাকায় কম্বোডিয়া দলকে বেশি সময়ও দিতে পারেন না। বাংলাদেশের ম্যাচেও তাই ডাগ আউটে ছিলেন তাঁর সহকারী। তবে তিনি যতটুকু সময় দেন সেটাও বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন কম্বোডিয়া ফুটবলের মহাসচিব, ‘হোন্ডা কোচদের নানা পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তাঁরা কাজও করছেন। ফুটবলারদের জন্য থাকে তাঁর বিশেষ উপদেশ।’

সত্তরের দশকে এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম সমীহ-জাগানিয়া দল ছিল কম্বোডিয়া। ১৯৭২ সালের এশিয়া কাপে হয়েছিল চতুর্থ। এরপর গৃহযুদ্ধ শুরু  হলে ফুটবল খেলাও বন্ধ হয়ে যায় ধীরে ধীরে, ঐতিহ্যও হারাতে থাকে তারা। খেমারুজদের পতনের পর ১৯৯৩ সালে আবার নতুনভাবে শুরু করে তারা ফুটবল। তবে পিছিয়ে গিয়েও তারা এখন ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ২০ ধাপ এগিয়ে। কম্বোডিয়া ১৭২ আর বাংলাদেশ ১৯২তম স্থানে।

সেই কম্বোডিয়াকেই শনিবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও আফগানিস্তানের মতো দলকে হারানোর তরতাজা সুখস্মৃতি আছে তাদের। অবশ্য ফিফা র‌্যাংকিংয়ে কম্বোডিয়া যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে, সেটা নাকি জানতেনই না ফুটবল ফেডারেশনের এই বড় কর্তা, ‘আমি জানি না। দাঁড়ান দেখে বলছি।’ এরপর ইন্টারনেট ঘেঁটে নিশ্চিত হলেন তিনি, ‘আমরা বেশি বেশি ম্যাচ খেলি বলেই হয়ত র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে।’

আরেকটি জায়গায় বাংলাদেশকে টেক্কা দিচ্ছে কম্বোডিয়া। বাংলাদেশে যেখানে একটা ফুটবল একাডেমি আলোর মুখ দেখেনি এখনো, সেখানে কম্বোডিয়া তাদের একাডেমি ছড়িয়ে দিচ্ছে আঞ্চলিক পর্যায়েও। নিজেদের এ সাফল্যের কথাটা গর্বের সঙ্গেই বলেছেন কিউ, ‘হ্যাঁ, আমাদের একটি একাডেমি আছে। ফিফার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত একাডেমি চালাচ্ছি আমরাই। আঞ্চলিক পর্যায়ে আছে আরো ২৫টি একাডেমি। এগুলো শুধু ফুটবলাররাই ব্যবহার করে।’ বিভিন্ন স্তরের ফুটবল হয় কম্বোডিয়ায়। সর্বোচ্চ আসর প্রিমিয়ার লিগে ১৪টি দল অংশ নেয় এবং প্রতিটি ক্লাবেরই আছে নিজস্ব মাঠ।

খেলোয়াড়দের শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার নানা প্রকল্পও আছে কম্বোডিয়ার। জাতিগত কারণে এখানকার ফুটবলাররা শারীরিক গঠনে কিছুটা খর্বাকায়। এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে কিভাবে তাদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায় সে জন্য খাবার তালিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ফেডারেশন। কিউ বলছিলেন, ‘আমাদের ফুটবলাররা আকার-আকৃতিতে খানিকটা ছোট। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে উঠে আসা তরুণদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। কিভাবে ওদের গঠন মজবুত ও শক্তিশালী হতে পারে সেভাবে খাবারের তালিকা তৈরি করছি। কোচিং নিয়েও কাজ করছি আলাদাভাবে। যাতে অগ্রগতির গতি আরো বাড়ে।’

এভাবে চলতে থাকলে সুদিন ফেরাটা হয়তো বেশি দূরের নয়। এত তাড়াতাড়ি অবশ্য এত বড় স্বপ্ন দেখতে চান না ফেডারেশনের মহাসচিব, ‘আমরা দলটাকে ওপরে তুলে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সত্তরের দশকে আমরা বেশ ভালো একটা দল ছিলাম। দেশের অস্থিরতা আমাদের পিছিয়ে দেয়। আবার উন্নতি শুরু করেছি। তবে শিগগির এশিয়া মানে পৌঁছাতে পারব বলে মনে করি না। চেষ্টা থাকবে দলকে যতটা সম্ভব উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।’

কিন্তু সরষেতে যদি ভূত থাকে! কম্বোডিয়া ফুটবল ফেডারেশনে নাকি দ্বন্দ্ব আছে। দুটি ভাগে বিভক্ত ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ম্যাচেও সভাপতি ও মহাসচিবকে একসঙ্গে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে স্বার্থের এই দ্বন্দ্ব থাকার কথা স্বীকার করেননি ফেডারেশনের মহাসচিব, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সব কিছুই তো ভালোভাবে চলছে।’

মন্তব্য