kalerkantho

চলে গেলেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মহসিন

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলে গেলেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মহসিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হকিতে আব্দুস সাদেক, মোহাম্মদ মহসিন আর ইব্রাহিম সাবেরের পরিচিতি ছিল ত্রিরত্ন হিসেবে। সাদেক সেন্টার হাফ, মহসিন রাইট হাফ আর সাবের ছিলেন লেফট হাফে। এই ত্রয়ী নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে নাস্তানাবুদ করে ছাড়তেন বিপক্ষকে। ঢাকা আবাহনীতে ক্যারিয়ারের বড় অংশ কাটানো মোহাম্মদ মহসিন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভীষণ প্রিয়। মহসিন নিজের পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গাড়িচালক’ হিসেবে। যদিও তাঁর চাকরিটা ছিল বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তারক্ষীর। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন তাঁর গাড়িটা চালাতে।

জাতির জনকের এই বিশ্বাস আর আস্থাই জীবনের সেরা পাওয়া বলে মনে করতেন মহসিন। বাংলাদেশ হকির সোনালি প্রজন্মের সেই মহসিন না ফেরার দেশে চলে গেছেন গতকাল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭১ বছর বয়সী জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া এই ক্রীড়াবিদ। নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। একটি কিডনি বাদ দিতে হয়েছে ১৯৮৬ সালে। ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হয়েছে ২০০২ সালে। ২০১২ সালে হয়েছিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। তখন থেকেই ছিলেন একপ্রকার শয্যাশায়ী। ছোট ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আরো। বেড়েছিল ডায়াবেটিসের মাত্রা। কিডনির ক্রিয়েটিনিন বাড়ায় গত ২৫ জানুয়ারি মহসিনকে বড় ছেলে তাহসিন আহমেদ গালিব ভর্তি করেন হাসপাতালে। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক কালের কণ্ঠে। এরপর মহসিনের চিকিৎসার সাহায্যে এগিয়ে আসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আর হকি ফেডারেশন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর বাড়ি ফেরা হলো না মহসিনের।

১৯৪৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন মহসিন। ১৯৬৭ ও ’৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান হকি একাদশের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করা জাতীয় হকি দলের হয়ে গিয়েছিলেন ভারতে। ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় এশিয়া কাপে বাংলাদেশ হকি দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেন মহসিন। ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া কৃতী খেলোয়াড় ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন হকি ও ফুটবল। কাল শেষবারের মতো এসেছিলেন প্রিয় ক্লাব প্রাঙ্গণে, কিন্তু নিথর দেহে। সেখানেই জানাজা শেষে সাবেক সতীর্থ, অনুজরা জানিয়েছেন শেষ বিদায়। আব্দুস সাদেকের কাছে এ শূন্যতা পূরণীয় নয়, ‘ও শুধু আমার সতীর্থই ছিল না, ছিল বন্ধু। সেই স্কুলবেলা থেকে একসঙ্গে খেলছি, প্রায় ৬০ বছরের সম্পর্ক। ওকে তাই ভোলা যাবে না।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর রাতে মহসিনের ডিউটি ছিল না। ঘটনা শোনার পর প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়ে নির্বাক হয়ে যান তিনি। কথা বন্ধ ছিল কয়েক মাস। বের হতেন না বাড়ি থেকেও। বঙ্গবন্ধুর সব খবর জানতেন বলে তাঁকে হত্যার জন্যও খোঁজা হচ্ছিল তখন। জীবন বাঁচাতে মহসিন চলে যান বিদেশে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ সময় কাটিয়েছেন মহসিন।

 

 

মন্তব্য