kalerkantho


এশিয়ার প্রথম শ্রীলঙ্কা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



এশিয়ার প্রথম শ্রীলঙ্কা

পোর্ট এলিজাবেথে নতুন ইতিহাস শ্রীলঙ্কার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, এশিয়ার কোনো দলই পায়নি টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ। শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড়দের ভারত, ইনজামাম উল হক-ওয়াসিম আকরামদের পাকিস্তানও ব্যর্থ। কঠিন সেই দুর্গে বিজয় নিশান ওড়াল দিমুথ করুণারত্নের দল। পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কে তারা জিতল ৮ উইকেটে।

গতকাল শেষ দিন জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১৩৭ রান আর দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ উইকেট। জিততে পারত যে কেউ। কিন্তু কুশল মেন্ডিস আর ওশাদা ফার্নান্দোর দৃঢ়তায় লাঞ্চের আগেই ঐতিহাসিক জয় লঙ্কানদের। মেন্ডিস ৮৪ ও ফার্নান্দো অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে। তাতে এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ জিতল। আর নিজেদের ঢেরাতেই ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবল ফাফ দু প্লেসিসের দল। এমন সাফল্যে লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার টুইট, ‘শ্রীলঙ্কা এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ায় অভিনন্দন রইল।’

অথচ সিরিজ শুরুর আগে মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ধুঁকছিল লঙ্কানরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার আগে বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে। সব শেষ ৭ টেস্টে হার ছয়টিতে ও ড্র এক ম্যাচ। তাই কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব হারান দীনেশ চান্ডিমাল। কমানো হয় কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের ক্ষমতা। চোটের জন্য ছিলেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজসহ আরো কয়েকজন। এমন দল নিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়টাকে বলা হচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম অঘটন। তবে ইতিহাস গড়ে খুশি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে, ‘আমরা সব সময়ই পিছিয়ে ছিলাম। বোলাররা ম্যাচে ফিরিয়েছে ঠিক সময়ে। তরুণ ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছে তাদের দৃঢ়তা। নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার কঠিন সফরে অনেক কিছু শিখেছি আমরা। এই জয়টা উৎসর্গ করছি দুঃসময়েও যারা সমর্থন করে গেছেন দলকে তাঁদের।’

পোর্ট এলিজাবেথে এর আগে টানা ১১ বছর টেস্ট হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের মাটি সব সময়ই শক্ত ঘাঁটি তাদের। নিজেদের মাঠে জিতেছিল টানা ৭ সিরিজ। সব শেষ ১৯ টেস্টে জয় ১৬টি। সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হারল ০-২-এ! এমন ব্যর্থতায় হতাশাটা লুকালেন না অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিস, ‘আমার সবচেয়ে বাজে সিরিজ হার এটা। সিরিজজুড়ে বাজে ব্যাটিং করেছি আমরা। পোর্ট এলিজাবেথে প্রথম দুই দিন উইকেট গেছে ৩১টি, অথচ এটা ব্যাটিং উইকেট। তবে সামনে বিশ্বকাপ। এর আগে ঘুরে দাঁড়াতে হবে আমাদের।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ২২২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ১৫৪-তে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১২৮ রানে অল আউট প্রোটিয়ারা। জয়ের জন্য ১৯৭ রানের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় দিন শেষ করে ২ উইকেটে ৬০ রানে। তৃতীয় উইকেটে অবচ্ছিন্ন ১৬৩ রানের জুটিতে লঙ্কানদের ঐতিহাসিক ৮ উইকেটের জয় এনে দেন কুশল মেন্ডিস আর ওশাদা ফার্নান্দো। ১১০ বলে হার না মানা ৮৪ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরার পুরস্কার কুশল মেন্ডিসের। ডারবানে রূপকথার ১৫৩ রানের ইনিংসে সিরিজ সেরা কুশল পেরেরা। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২২২ ও ৪৪.৩ ওভারে ১২৮ (দু প্লেসিস ৫০*, আমলা ৩২, মারক্রাম ১৮; লাকমল ৪/৩৯, সিলভা ৩/৩৬, রাজিথা ২/২০)।

শ্রীলঙ্কা : ৩৭.৪ ওভারে ১৫৪ ও ১৩ ওভারে ৬০/২ (মেন্ডিস ৮৪*, ফার্নান্দো ৭৫*, করুণারত্নে ১৯; রাবাদা ১/৫৩, অলিভিয়ের ১/৪৬)।

ফল : শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : শ্রীলঙ্কা ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কুশল মেন্ডিস।

ম্যান অব দ্য সিরিজ : কুশল পেরেরা।



মন্তব্য