kalerkantho


মিলছে না কোনো আশার আলো

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মিলছে না কোনো আশার আলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমি জানি না।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের যেমন আত্মসমর্পণ, তেমনি অসহায়ত্ব হাবিবুল বাশারের কণ্ঠে। সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করা দলটি কী কারণে তিন ম্যাচের কোনোটিতেই ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারল না, সেই উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না কিছুতেই। সে কারণেই তাঁর ওই হতাশার উচ্চারণ—‘আমি সত্যিই জানি না।’

আট উইকেট, আট উইকেট ও ৮৮ রান—তিন ওয়ানডেতে পরাজয়ের ব্যবধান। কোনো ম্যাচের কোনো সময়ই কিভাবে ম্যাচে থাকল না বাংলাদেশ, সেটি ভীষণ অবাক করছে হাবিবুলকে, ‘সত্যি আমি অবাক হয়েছি। আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশের সবাইকেই এমন হার অবাক করেছে। এবার গ্রীষ্মের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলাম। শীত তুলনামূলক কম, বাতাস কম। কন্ডিশন অতটা বিরূপ না, উইকেটগুলো তো দুর্দান্ত। তবু কেন যে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলাম না!’ সে না পারায় ব্যাটসম্যানদের দায়ই দেখেন তিনি বেশি করে, ‘বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান কবে এভাবে ধারাবাহিক ব্যর্থ হয়েছে, বলুন তো? আমার তো মনে পড়ছে না। তামিম বলেন, লিটন বলেন, সৌম্য বলেন, মুশফিক বলেন, রিয়াদ বলেন—সবাই ব্যর্থ। এর কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, একটি সিরিজের তিনটি ম্যাচ খারাপ গেছে বলে ওরা খারাপ ক্রিকেটার হয়ে যায়নি। বাংলাদেশও খারাপ দল হয়ে যায়নি।’

ওই বিশ্বাসটাই এখন ভরসা। নইলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিন টেস্টে সিরিজে কোন আশায় খেলবে বাংলাদেশ! শুধু ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ড ছেড়েছেন, শুধু টেস্ট স্কোয়াডে থাকারা যোগ দিয়েছেন। হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টের আগে আজ থেকে লিংকনে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা। ওয়ানডের হতাশা পিছু ফেলে টেস্টের প্রস্তুতির জন্য এটিই শেষ সুযোগ।

এমনিতে নিউজিল্যান্ডে আগের চার সফরেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। এবার সেই অধরা জয় মুঠোবন্দি করার স্বপ্নটা মূলত আবর্তিত হচ্ছিল ওয়ানডে ঘিরে। সেখানে অমন বিপর্যয়। তবু অতীত মনে রেখে আশা ভরা চোখে নিউজিল্যান্ডের দিকে তাকিয়ে আছেন হাবিবুল, ‘গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শুরুতে টেস্টে আমরা যাচ্ছেতাই খেলেছি। ক্যারিবিয়ানরা তো টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতে ভালো, ওয়ানডের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে। তা টেস্টেই ওভাবে হারার পর বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী লোক খুব বেশি ছিল না। আমরা কিন্তু ঠিকই ওই সিরিজ দুটি জিতি। নিউজিল্যান্ডেও তাই টেস্ট সিরিজে ভালো কিছু করা অসম্ভব না।’ ভালো কিছু মানে জয়? সরাসরি কিছু বলতে রাজি নন এ নির্বাচক, ‘ওয়ানডে সিরিজে এভাবে হারের পর টেস্টে জিতে যাব—এ মুহূর্তে অমনটা বললে বাড়াবাড়ি মনে হবে। তবে নির্বাচক হিসেবে জানি, এ দলটির সামর্থ্য আছে সবাইকে চমকে দেওয়ার। না হয় সফরের শুরুটা ভালো হয়নি। তাই বলে শেষটাও ভালো হবে না—অমনটা আমি বিশ্বাস করি না।’

কিন্তু সাকিব আল হাসান নেই যে! এ জায়গায় এসে কঠোর বাস্তবতা যেন আরো ভালো করে বোঝেন হাবিবুল, ‘সাকিবের না থাকাটা বড় এক সেটব্যাক। ওয়ানডে সিরিজেও সেটি হয়েছে। টেস্ট সিরিজের শুরুতেও তাই। কিন্তু সেই সেটব্যাকের কথা ভেবে বসে থাকলে তো চলবে না। ভালো দলের বৈশিষ্ট্য এই যে তারা কারো জন্য বসে থাকে না। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশও সাকিবকে ছাড়া ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ নেবে।’ এ ক্ষেত্রেও অতীত উদাহরণ আশার সলতে উসকে দিচ্ছে তাঁর, ‘সাকিব-তামিম দুজনকে ছাড়াও তো বাংলাদেশ আগে ভালো করেছে। ম্যাচ জিতেছে। আমাদের দলের সামনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ওদের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলার চেয়ে টেস্ট খেলা আরো কঠিন। কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ নেওয়া ছাড়া এখন আমাদের উপায় নেই।’

সেই চ্যালেঞ্জের শুরুতে সাকিব নেই। তবে তিন টেস্ট সিরিজের পুরোটা থেকে এখনো ছিটকে পড়েননি টেস্ট অধিনায়ক। বিপিএল ফাইনালে ইনজুরির পরপরই সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার যে সময়সীমা দেওয়া হয়, তাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টন এবং ৮ মার্চ থেকে ওয়েলিংটনে শুরু হওয়া সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে তাঁর খেলা অসম্ভবপ্রায়। যা কিছুটা সম্ভাবনা ১৬ মার্চ থেকে ক্রাইস্টচার্চে শুরু হওয়া টেস্ট খেলার। এরই মধ্যে সাকিবের বিকল্প হিসেবে ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে রেখে দেওয়া হয়েছে সৌম্য সরকারকে। নতুন আর কাউকে নেওয়া হবে না বলে কাল জানান হাবিবুল, ‘টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী সৌম্যকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কাউকে পাঠাচ্ছি না। আর সাকিব তো টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েনি পুরোপুরি। দেখা যাক, ও খেলতে পারে কি না!’

সাকিব খেললেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা নেবে। আর খেলতে না পারলে তা যে রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষা হবে, তা আর বলতে!



মন্তব্য