kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

সাঁতারের ইমেজটা নষ্ট হয়ে গেছে

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সাঁতারের ইমেজটা নষ্ট হয়ে গেছে

দুই বছর পর হতে যাচ্ছে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ। সাঁতারুদের অপেক্ষা অবশেষে ফুরাচ্ছে। এসএ গেমসের সোনাজয়ী সাঁতারু মাহফুজা আক্তারের জন্যও এ আসরটা বিশেষ কিছু। সেই প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন তিনি কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে।

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : দুই বছর ধরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ না হওয়ার কী প্রভাব পড়েছে সাঁতারুদের ওপর?

মাহফুজা আক্তার : আমাদের খেলা তো এমনিতেই কম। ঘরোয়া পর্যায়ের সারা বছরে এই একটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়, সেটাও বছরে একবার। কিন্তু সেই সুযোগ পায় কয়জন সাঁতারু। সবাই এই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের জন্যই তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকে। এই সময়ে সংস্থাগুলো থেকেও কিছু আয় করতে পারে সাঁতারুরা। তা ছাড়া আগ্রহেরও তো একটা ব্যাপার আছে। প্রতিযোগিতাই না হলে সারা বছর চর্চা ধরে রাখাটা কতটা কঠিন বলুন! আর এসএ গেমসে সোনা জয়ের পর সাঁতারের যে একটা ইমেজ তৈরি হয়েছিল ক্রীড়াঙ্গনে, এই দুই বছরে সেটাও তো নষ্ট হয়ে গেল।

প্রশ্ন : লন্ডন থেকে এসে যে মেয়েটা একের পর এক রেকর্ড গড়েছিল, তার আগ্রহটাকেও তো পুঁজি করা গেল না...

মাহফুজা : জোনায়নার কথা বলছেন, ওর কথা ভাবলে আমার কষ্টই হয়। জুনিয়র সাঁতারে ও কিন্তু প্রায় সব সিনিয়র রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল, অথচ ওকে আমরা কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেখিনি। দেশে আবার ফিরবে, সেই ঘরোয়া আসরই তো নেই। ও যে আগ্রহ নিয়ে এসেছিল, সত্যি সেই সম্ভাবনার প্রতিদান আমরা দিতে পারিনি।

প্রশ্ন : এই মুহূর্তে আপনার নিজের পারফরম্যান্সের কী অবস্থা?

মাহফুজা : বাকুতে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে আমি আমার সাফ রেকর্ড ভাঙলাম। অথচ গত বছর আমাকে আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেই পাঠানো হলো না। এশিয়ান, কমনওয়েলথ গেমসে এমন সাঁতারুরা গেছে, যাদের সাফে কোনো সম্ভাবনাই নেই। অথচ ফেডারেশন কর্মকর্তারা বলেছেন আমাকে নিয়ে তাঁরা আর কোনো আশা দেখেন না। সে কারণে আমিও জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর কত নিজেকে প্রমাণ করব। সব কিছুরই তো একটা সীমা থাকে। আমি এখন নৌবাহিনীর এই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েই শুধু ভাবছি।



মন্তব্য