kalerkantho


অ্যাতলেতিকোর উৎসব

রোমাঞ্চের রাতে রোনালদোদের হার

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রোমাঞ্চের রাতে রোনালদোদের হার

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে বল পেলেই দুয়ো শুনছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। মেজাজটা হারালেন একেবারে ম্যাচের শেষে মাঠ ছাড়ার সময়। হাত দিয়ে একবার দেখালেন পাঁচ আঙুল আরেকবার শূন্য। মিক্সড জোনে দিলেন এর ব্যাখ্যাও, ‘আমি পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি, অ্যাতলেতিকোর একটিও নেই।’

কোনো চ্যাম্পিয়নস লিগ না জেতা সেই অ্যাতলেতিকোই শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারিয়েছে রোনালদোর জুভেন্টাসকে। ভিএআরে অ্যাতলেতিকোর একটি গোল ও পেনাল্টি বাতিল না হলে ব্যবধান বাড়তে পারত আরো। এই হারে জুভেন্টাসের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেলো রোনালদোর। অন্য ম্যাচে শালকের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ১০ জন নিয়ে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয় ম্যানচেস্টার সিটির। পরতে পরতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে ম্যানসিটি ৬৫ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায় নিকোলাস ওতামেন্দি লাল কার্ড দেখলে। দুই পেনাল্টি গোল হজম করে তখন তারা ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে। ৮৫ মিনিটে লিরয় সানে সমতা ফেরানোর পর শেষ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের গোলে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার দল।

মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে নবম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত জুভেন্টাস। ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া রোনালদোর ফ্রি কিক শেষ বেলায় এক হাত লাগিয়ে কোনো রকমে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। ২ ডিসেম্বরের পর প্রথমবার মাঠে নামা ডিয়েগো কস্তা ফাউলের শিকার হলে প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। কিন্তু ভিএআরের সাহায্য নিয়ে দেখা যায়, মাতিয়া দ্য শিকলিয়ো ফাউল করেছিলেন বক্সের বাইরে, পেনাল্টিটা তাই হয়ে যায় ফ্রি কিক। ৫০ মিনিটে এই কস্তাই গোলরক্ষককে একা পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে নষ্ট করেন সোনালি সুযোগ। ৭০ মিনিটে আলভারো মোরাতার হেড জড়িয়েছিল জালে। কিন্তু আবারও প্রযুক্তির কারণে বাতিল হয় অ্যাতলেতিকোর গোল! ভিএআরে দেখা যায় হেড নেওয়ার আগে মোরাতা ফাউল করেছিলেন জর্জিয়ো কিয়েল্লিনিকে।

৭৮ মিনিটে শেষ হয় গোলের অপেক্ষা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মোরাতার হেড ঠেকিয়েছিলেন মারিও মানজুকিচ। কিন্তু আলগা বল আট গজ সামনে পেয়ে জালে জড়াতে ভুল করেননি হোসে মারিয়া গিমিনেস। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে গোলটা উদ্‌যাপন করেন কোচ ডিয়েগো সিমিওনি। ৮৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিয়েগো গোদিন। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের ফ্রি কিক জুভেন্টাস রক্ষণ বিপদমুক্ত করতে না পারায় পেয়ে যান উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডার। দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া তাঁর শট রোনালদোর গায়ে লেগে জড়ায় জালে। ম্যাচের শেষ দিকে ডি-বক্সে উঁচু করে পাওয়া বলে রোনালদো ভালোভাবে মাথা ছোঁয়াতে না পারায় মূল্যবান অ্যাওয়ে গোল পায়নি জুভেন্টাস। পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে রোনালদো পোস্টে সাতটি শট নিলেও লক্ষ্যে ছিল মাত্র একটি। সিরি ‘এ’তে ১৯ গোল করা এই পর্তুগিজ এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় ম্যাচে করেছেন মাত্র এক গোল। তিনি নিষ্প্রভ থাকায় সিমিওনির অধীন নিজেদের মাঠে অ্যাতলেতিকো চ্যাম্পিয়নস লিগ নক আউটে না হারার রেকর্ডটা ধরে রাখল গত পরশুও। তবে ফিরতি লেগে ছাড় দিতে রাজি নন রোনালদো, ‘দেখা হবে দ্বিতীয় লেগে।’

অন্য ম্যাচে শালকের মাঠে ১৮ মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলে সের্হিয়ো আগুয়েরো এগিয়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটিকে। গোলের আগে শালকের এক ফুটবলার ফাউলের শিকার হয়েছিলেন কি না—জানতে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। ফাউল না হওয়ায় বাতিল হয়নি গোলটি। ৩৮ মিনিটে ডি-বক্সে নিকোলাস ওতামেন্দির হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় জার্মান বুন্দেসলিগায় ধুঁকতে থাকা শালকে। হ্যান্ডবল ইচ্ছাকৃত ছিল না বলে রেফারি প্রথমে দেন কর্নার, তবে ভিএআর বদলে দেয় সেই সিদ্ধান্ত। নাবিল বেন্তালেবের সফল স্পট কিকে সমতা ফেরায় তারা। বিরতির ঠিক আগে আরো একটি পেনাল্টি পেয়ে শালকেকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন বেন্তালেব। সালিব সানেকে ডি-বক্সে ফের্নান্দিয়ো ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।

৬৮ মিনিটে গুইদোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ওতামেন্দি মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দল হয়ে যায় সিটি। এর পরও লিরয় সানের ৮৫ মিনিটের ফ্রি কিকে সমতা ফেরায় গার্দিওলার দল। ৯০ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের গোলে রোমাঞ্চকর ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। গোলরক্ষক এদেরসনের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জালে জড়ান তিনি। ম্যাচ শেষে পেপ গার্দিওলার স্বস্তি, ‘ওদের আমরা দুটি পেনাল্টি দিয়েছি, একটি লাল কার্ড দেখেছি। তবু এই ফলটা এককথায় অসাধারণ। শেষ দিকে লড়াই করার প্রস্তুতি ছিল না আমাদের, এটাই বাস্তবতা। এত কিছুর পরও ফলটা দুর্দান্ত।’ ইএসপিএন, বিবিসি



মন্তব্য