kalerkantho


বিশ্বকাপ সম্ভাবনায় প্রশ্ন এঁকে দিল যে সিরিজ

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বিশ্বকাপ সম্ভাবনায় প্রশ্ন এঁকে দিল যে সিরিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৩০ মে আসতে এখনো কত দেরি! তিন মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে যে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজটিই ছিল তাই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ওই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশের সম্ভাবনার অডিশন।

তাতে কেমন ডাহা ফেলই না করল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল!

০-৩ ব্যবধানে সিরিজ হারই যা বলার বলছে। আবার বলছেও না তো। আট উইকেট, আট উইকেট এবং ৮৮ রানের পরাজয়ের ব্যবধান বলছে অনেকটা। কিন্তু সবটুকু নয়। তিন ওয়ানডের মধ্যে কোনো ম্যাচের কোনো পর্যায়ে ৫-১০ ওভারের জন্যও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে গত কয়েক বছরের দাপটের ছিটেফোঁটাও ছিল না। অথচ এই দলটি না ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে যাবে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে!

অধিনায়ক মাশরাফি এ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ—যাঁকেই জিজ্ঞেস করবেন, তিনিই শিরোপা সম্ভাবনার সলতে দেন উসকে। জিতবে কী জিতবে না, সেটি পরের কথা; কিন্তু ওই প্রবল বিশ্বাস ঠিকই সঞ্চারিত বাংলাদেশ দলের সদর-অন্দরে। সেই বিশ্বাসের খুঁটিতে কি ঘুণপোকা ধরল না নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই তিন ওয়ানডেতে!

কিউইদের দেশে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আগে কখনো কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। কোনো ফরম্যাটেই না। এবারের সফরে তিনটি করে ওয়ানডে-টেস্ট, কোনো টি-টোয়েন্টি নেই। জয়ের যা আশা, সেটি যে ওয়ানডে ঘিরে—তা বলাই বাহুল্য। সেই আশার পালে হাওয়া সর্বশেষ চার বছরে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের পরাশক্তি হয়ে ওঠা। নিউজিল্যান্ডে সর্বশেষ সফরের লড়াইগুলোও। কিন্তু সেগুলো পরিসংখ্যানের খাতায় রেখে মাঠে যে অমন ভঙ্গুর বাংলাদেশ দেখা দেবে, ভাবা যায়নি।

২০১৯ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে আরো অন্তত ছয়টি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। সাতটিও হতে পারে। আয়ারল্যান্ডে স্বাগতিক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই দলের বিপক্ষে দুটি করে খেলা, ফাইনালে উঠলে সেই চারের সঙ্গে যোগ হবে আরো একটি। এরপর টুর্নামেন্টের আগে দুটি গা-গরমের ম্যাচ। তবু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজকে সম্ভাবনার অকশন বলা হচ্ছে এ কারণেই যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ম্যাচগুলো। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ তাই শুধু দল হিসেবে বাংলাদেশের না, অনেক ক্রিকেটারের জন্যও ছিল অকশন।

তাতে মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরা উতরে গেলেও বড় প্রশ্ন রয়ে গেল স্কোয়াডের নিশ্চিত অনেককে নিয়ে।

যেমন লিটন দাশ। এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তাঁর সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। অমন এক ইনিংস খেলার পর কোথায় নিজের ব্যাটিং অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, তা না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচের ৮৩ বাদ দিলে লিটনের বাকি ইনিংসগুলো সেই হতাশার গল্পই। জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছয় ওয়ানডের তিনটিতে আউট হন এক অঙ্কে। আর কিউইদের বিপক্ষে তিন ইনিংসের রান ১, ১, ১। সৌম্য সরকারকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আশার বেলুন ওড়ে আকাশে। তিন ইনিংসে ৩০, ২২ ও শূন্য রানে এর প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। আর টপ অর্ডারের সবচেয়ে বড় আস্থা যে তামিম, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর স্কোর ৫, ৫ ও শূন্য।

তাতে টপ অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তার অবকাশ রয়েছে বৈকি। বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা বোলিং লাইনের বিপক্ষে ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনে লিটন-সৌম্যর মতো দুজন ব্যাটসম্যান কতটা ঝুঁকির! বিশেষত তামিমের ফর্মহীনতায় তো ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশকে চেপে ধরার সুযোগটা কী বেশি হয়ে যায় না! ৩ নম্বরে সাকিব আল হাসান অত সফল হওয়ার পরও তাঁকে নিচে নামিয়ে এখন লাল-সবুজের ওয়ানডে দলের রণকৌশল।

ইনজুরির কারণে সাকিব যেতে পারেননি নিউজিল্যান্ডে। মাশরাফির দলকে তা নিঃসন্দেহে ঠেলে দিয়েছে ব্যাকফুটে। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে তামিমের মতো মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহরাও ব্যাটিংয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ। প্রথম দুই খেলায় হাফসেঞ্চুরি করে নিজের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করেছেন মিঠুন। শেষ ম্যাচের সেঞ্চুরিতে সাব্বির এবং অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সাইফউদ্দিনও। ব্যাটসম্যানদের মতো না হলেও বোলারদের চক্করও ব্যর্থতার চক্রে। বিশেষত শেষ ওয়ানডেতে মুস্তাফিজুর রহমানের ১০ ওভারে ৯৩ রান দেওয়াটা বড্ড বেশি দৃষ্টিপীড়াদায়ক।

এমন ধবলধোলাইয়ের শিকার হওয়ার পর বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও এখন যেমন বিব্রতকর!



মন্তব্য