kalerkantho


কঠিন সময়েও স্বপ্ন দেখেন মারিয়া-আঁখিরা

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কঠিন সময়েও স্বপ্ন দেখেন মারিয়া-আঁখিরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যে টুর্নামেন্ট দেশের মহিলা ফুটবলকে সম্ভ্রমের আসনে বসিয়েছে, সেই টুর্নামেন্টের মূল পর্বে পৌঁছাতেই এবার কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে অনেক। এটা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। থাইল্যান্ডে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দল আগামী শনিবার যাচ্ছে মিয়ানমারে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু এই টুর্নামেন্টে তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্বাগতিক মিয়ানমার, চীন ও ফিলিপাইনের বিপক্ষে।

তুলনায় আগের আসরটি বেশ সহজ ছিল। ২০১৬ ঢাকায় সব প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বাংলাদেশের কিশোরীরা বিজয় নিশান উড়িয়েছিল নারী ফুটবলের। সুবাদে মূল পর্বে উত্তরণ এবং পরের বছর থাইল্যান্ডে প্রথমবারের মতো নারী ফুটবলের অভিজাত দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ মিলেছিল। সেখানে কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও তা ছিল দেশের নারী ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন। এবার সেই মঞ্চে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ গত সেপ্টেম্বরে পার হয়েছে দেশের মাঠেই। গতবার যা ছিল না, মিয়ানমারে সেই দ্বিতীয় ধাপটি হয়ে গেছে বেশ কঠিন। গ্রুপের ওই তিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে এই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কখনো মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ। তবে অন্যান্য পর্যায়ের লড়াইয়েও ভালো ফল নেই। নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে মিয়ানমারের কাছে সিনিয়র দলের ৫-০ গোলে হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। অবশ্য অনূর্ধ্ব-১৪ বয়স বিভাগে চীনের কাছে হারের পাশাপাশি আছে জয়ের সুখস্মৃতিও। খেলার অভিজ্ঞতা নেই ফিলিপাইনের সঙ্গে।

তাই বলে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৬ দলকেও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। দলের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি তুলমূল্য বিচার করছেন এভাবে, ‘তিনটি প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, আমি মানছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মেয়েদের খেলার উন্নতি হয়েছে অনেক। এই টুর্নামেন্টে টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল লড়াই হবে দলগুলোর মধ্যে। আশা করি, মারিয়া-আঁখিরা এই টুর্নামেন্টে তাদের মানটা ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেবে।’ সত্যি বললে, এরাই দেশের মহিলা ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুখ। গত দুই বছরে যত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়েছে সবগুলোতেই খেলেছে অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সী ফুটবলাররা। তাদের ছাড়া সিনিয়র জাতীয় দলও কল্পনা করতে পারেন না জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘গত বছর জানুয়ারি থেকেই মেয়েরা প্রস্তুতির মধ্যে আছে। প্র্যাকটিসের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলেছে বিস্তর। জাতীয় দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলেও তারা খেলেছে। তাই এখন তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা মিয়ানমার যাচ্ছি মূল পর্ব নিশ্চিত করতে।’ তাই মিয়ানমারগামী ২৩ জনের সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দেশের সেরারাই যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট খেলতে। এর মধ্যে দুই বছর আগে এই টুর্নামেন্ট খেলা ১১ জন আছে এবারের দলে।

সংবাদ সম্মেলনেও দেখা গেল, দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে কোচ-কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। দ্বিধা নেই অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার মনেও, ‘আমরা সবাই প্র্যাকটিস ও ম্যাচের মধ্যেই আছি। অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছি, বেড়েছে নিজেদের আত্মবিশ্বাসও। এখানে সেরা দুইয়ের মধ্যে থেকে গতবারের মতোই আমরা থাইল্যান্ডে মূল পর্ব খেলব।’ দ্বিতীয় পর্যায়ের বাছাই পর্বে দুটো গ্রুপে খেলা হচ্ছে, প্রত্যেকটি গ্রুপ থেকে দুটো করে দল যাবে চূড়ান্ত পর্বে। ‘বি’ গ্রুপের সেরা দুইয়ে থাকা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের, ‘কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই এই টুর্নামেন্টে। তবে আমাদের লক্ষ্য সেরা দুইয়ে থেকে গ্রুপের খেলা শেষ করা।’ এটা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের টুর্নামেন্ট হলেও বাড়তি ১১ জন মিয়ানমার যাচ্ছে এই দলের সঙ্গে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এদেরকে নেওয়ার কারণ উল্লেখ করেছেন আসন্ন সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের কথা, ‘সামনে আমাদের সাফ আছে বলে দলের সঙ্গে এগারোজনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুরো কোচিং স্টাফ থাকবে ওখানে আর তাদের সঙ্গেই প্র্যাকটিস করবে তারা।’



মন্তব্য