kalerkantho


স্বস্তির হাওয়া তুরিনে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



স্বস্তির হাওয়া তুরিনে

এক ম্যাচে একসঙ্গে অনেক কিছু পেল জুভেন্টাস। ফ্রোসিননের সঙ্গে ৩-০ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রস্তুতি সারা হলো। দলের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো গোল করলেন, করালেন, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে নিয়ে বিশ্রামেও রাখলেন মাসিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি। স্বস্তির হাওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আসলে। যখন পাউলো দিবালার নাম উঠেছে একাদশে।

গত দুই ম্যাচ তাঁকে বেঞ্চে ঠেলে আল্লেগ্রি আলোচনা উসকে দিয়েছিলেন, পারমার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সেই বেঞ্চ থেকেই দিবালা উঠে চলে গেলে ভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়। তুরিনে পা রেখেই রোনালদো যখন জ্বলছেন, জুভেন্টাসের গত কয়েক মৌসুমের অন্যতম সেরা তারকা দিবালা তখন নিষ্প্রভ। ফ্রোসিনোনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পুরো লিগে গোল করেছেন মাত্র দুটি। রোনালদো-দিবালার কি জমছে না, রিয়াল কি আর্জেন্টাইন তারকার দিকে হাত বাড়াচ্ছে—এমন গুঞ্জন পরশু হাওয়ায় মিলিয়ে গেল একরকম। ম্যাচের ৬ মিনিটেই ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক গোল করে দিবালা সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটালেন। গোলের উদ্‌যাপন করলেন রোনালদোর মতো করে। আগের গল্পটা যাঁরা জানেন, তাঁদের কাছে এর অর্থটাও সুন্দর। দিবালাকে নিয়ে যখন সংশয়ের দোলা, তখন রোনালদোই সাসুউলোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে গোল করে উদ্‌যাপন করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকারই জনপ্রিয় হওয়া ‘মাস্ক’-এর ভঙ্গিতে। দুঃসময়ে সতীর্থের পাশেই থাকতে চেয়েছেন রোনালদো। দিবালাও তা ভোলেননি। সব মিলিয়ে দারুণ স্বাস্থ্যকর এক হাওয়ায় ফ্রোসিননকে ৩-০তে হারিয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের জন্য তৈরি হয়ে গেছে আল্লেগ্রির দল। ৬ মিনিটে বাঁ পায়ে করা দিবালার গোলটিতেই ছিল রোনালদোর অ্যাসিস্ট। ম্যাচের বয়স ১৭ মিনিটেই ২-০তে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কর্নারে মারিও মান্দজুকিচের ডাইভিং হেডে গোললাইনের ওপর থেকে বল জালে ঠেলেছেন লিওনার্দো বোনুচ্চি। দ্বিতীয়ার্ধে মান্দজুকিচের কাটব্যাকেই বক্সের ভেতর থেকে রোনালদোর প্লেসিংয়ে ৩-০। এই জয়ে লিগ টেবিলে নাপোলিকেও ১৪ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছে সাদা-কালোরা। নাপোলি ব্যবধান কমাতে আজ তোরিনোর বিপক্ষে মাঠে নামছে।

বুন্দেসলিগায় লড়াই জমিয়ে তুলেছে বায়ার্ন মিউনিখ। পরশু অগসবার্গকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান নামিয়ে এনেছে তারা ২-এ। ম্যাচে দু-দুইবার পিছিয়ে পড়েও কিংসলে কোমানের জোড়া গোলে অসাধারণ এক জয়ই পেয়েছে বায়ার্ন। লিওনেল গোরেত্জকার আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল বায়ার্ন। ১৭ মিনিটে কোমান সমতা ফেরালেও ঘরের মাঠে অগসবার্গ ফের এগিয়ে যায় ২৩ মিনিটে জি ডং ওন লক্ষ্যভেদ করলে। বিরতির আগেই গোরেত্জকারই অ্যাসিস্টে কোমানোর সমতা ফেরানো দ্বিতীয় গোল। বিরতির পর দাভিদ আলাবা প্রথমবারের মতো এগিয়ে দেন বায়ার্নকে। সেই লিডটা ধরে রেখেই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে নিকো কোভাচের দল। মৌসুমের শুরুতে কোভাচ দায়িত্ব নেওয়ার সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়ের পর তাঁকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়েছিল অগসবার্গই। পরশু দ্বিতীয় লেগেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় দলটি। ৩-২ গোলের এই জয়টা তাই দারুণ স্বস্তিরও বাভারিয়ানদের জন্য। গোলডটকম



মন্তব্য