kalerkantho


বড় হারে হোয়াইটওয়াশের মুখে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বড় হারে হোয়াইটওয়াশের মুখে

বিফলে গেল দ্বিতীয় ফিফটিও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গোলমাল নিউজিল্যান্ডও করল বেশ কিছু। তবে বাংলাদেশ করল এর চেয়েও বেশি।

এই যেমন রস টেলর প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে ছাড়লেন দু-দুটি লোপ্পা ক্যাচ। যার একটি আবার মুশফিকুর রহিমের। অবশ্য সেটিই এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের পাওয়া একমাত্র জীবন নয়। ইনিংসের শুরুতে দুইবার জীবন পেয়ে কোথায় নিজের ২০০তম ওয়ানডে খেলার উপলক্ষকে রাঙাবেন, তা না, উল্টো নেপিয়ারের প্রথম ওয়ানডের মতোই ক্রাইস্টচার্চেও অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে স্টাম্পে এনে বোল্ড হলেন।

এ রকম ক্যাচ পড়ল আরো কিছু। টেলরের ফেলা অন্য ক্যাচটি মোহাম্মদ মিঠুনের। তিনি অবশ্য এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে করলেন টানা দ্বিতীয় ফিফটি। তাঁর সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়া সাব্বির রহমান খেললেন ৪৩ রানের ইনিংস। দুয়েমিলে মুখরক্ষা হলো কিন্তু শেষরক্ষা কিছুতেই নয়। বরং পরিণতি হলো আরো খারাপ। নেপিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ বল বাকি থাকতে সফরকারীরা অল আউট হয়েছিল ২৩২ রানে। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ইনিংসের দৈর্ঘ্য একটু বেশি (৪৯.৪ ওভার) হলেও রান তার চেয়ে কম, ২২৬। আগের ম্যাচে কিউইরা ৮ উইকেটে জিতেছিল ৩৩ বল বাকি রেখে। মার্টিন গাপটিলের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ম্যাচের জয় আরো সহজ। এবার ৮৩ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ম্যাচই শুধু নয়, এক ম্যাচ হাতে রেখে ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিল কেন উইলিয়ামসনের দল। ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনের শেষ ওয়ানডে তাই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে ব্যাটিং ব্যর্থতার সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর লড়াইও।

সিরিজের শুরু থেকেই সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল নিউজিল্যান্ডের পেসারদের সামলানো। সেই কাজটিই হ্যাগলি ওভালে কঠিন হয়ে যায় আরো। কারণ সাত সকালের বৃষ্টির পর মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া আর কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ার মধ্যে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে যেতে হয় তাদের। এর মধ্যে ম্যাট হেনরি আর ট্রেন্ট বোল্টের নতুন বলের জুটির সামনে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জেও যথারীতি হার বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তবু সতর্ক ব্যাটিংয়ে শুরুর জড়তা কাটিয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার তাগিদ ছিল তামিম ইকবালের ব্যাটে। সে জন্যই ১৫তম বলে গিয়ে নিয়েছেন নিজের প্রথম রান। কিন্তু টিকে থাকার চেষ্টাও বিফলে যায় একসময়। হেনরির বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে শেষ হয় তামিমের ২৮ বলে ৫ রানের ইনিংস।

তামিমের তবু চেষ্টা ছিল, লিটন কুমার দাশের একদমই নয়। বোল্টকে বেরিয়ে এসে মারতে যাওয়ার অ্যাডভেঞ্চারে দুর্দান্ত ক্যাচ হয়েছেন লকি ফার্গুসনের। আগের ম্যাচের মতোই ১ রানের বেশি এগোয়নি তাঁর সংগ্রহ। প্রথম ওয়ানডের কার্বন কপি সৌম্য সরকারও। দারুণ কিছু শট খেলবেন এবং এরপর বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রেখে ২২ রানেই শেষ এই বাঁহাতির ইনিংস। মুশফিক উইকেটে গিয়েই হেনরির বলে ৫ রানে জীবন পেয়েছেন। তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন টড অ্যাস্টল। এরপর ১৩ রানে ফার্গুসনের বলে টেলরের সেই ক্যাচ মিসে বড় কিছু করার পথ আরো খুলে গেলেও মুশফিক ফিরেছেন ২৪ রান করে। ফার্গুসনেরই বাইরের বল টেনে স্টাম্পে নিয়েছেন। মাহমুদ উল্লাহও (৭) লেগস্পিনার অ্যাস্টলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে যেতেই ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে মিঠুন-সাব্বিরের পার্টনারশিপে কিছুটা প্রাণ আসে ব্যাটিংয়ে। অ্যাস্টলকে ছক্কা মেরে ফিফটিতে পৌঁছা মিঠুন অবশ্য এরপর আর টেকেননি বেশিক্ষণ, তাই সেই প্রাণও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি আর। ৬৯ বলে ৫৭ রান করে অ্যাস্টলের বলেই মিঠুন বোল্ড হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজকে (১৬) নিয়ে সাব্বিরের চেষ্টাও স্থায়িত্ব পায়নি। ১৩ রানে জীবন পাওয়া মিরাজ বাজে শটে আউট হওয়ার পরপরই সাব্বির শিকার হন ফার্গুসনের। শেষদিকে মাশরাফি বিন মর্তুজার ছক্কা ও মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্ডারিতে সংগ্রহ কিছুটা বাড়লেও গাপটিলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে তা অতি সামান্য বলেই প্রমাণিত হয়।

আগের ম্যাচে ১১৬ বলে ১১৭ রান করে অপরাজিত গাপটিল কাল হ্যাগলি ওভালে করেছেন তাঁর ১৬তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এবার করেছেন রীতিমতো আগ্রাসী ব্যাটিং। তাই ৩৩ বলে ফিফটির পর তিন অঙ্কে গিয়েছেন ৭৬ বলে। শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১৪ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ১১৮ রান করে মুস্তাফিজের (২/৪২) দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে আসার সময় জয় থেকে খুব দূরেও নয় কিউইরা। আগের ম্যাচে দলকে জিতিয়ে ফেরা গাপটিলের জায়গা এবার নিয়েছেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। সফরকারীদের আরেকটি অসহায় আত্মসমর্পণের দিনে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৬৫ রানে। নিজেরা বেশ কিছু গোলমাল করার পরও যে দিনটিতে আরো বেশি গোলমেলে ছিলেন মুশফিকরা!



মন্তব্য