kalerkantho


লন্ডন-আমস্টারডামে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



লন্ডন-আমস্টারডামে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

ঘোরাঘুরির জগতে একটা প্রবাদ আছে, ‘ভালো ছেলেরা স্বর্গে যায় আর খারাপ ছেলেরা আমস্টারডামে’। নিশিঠেক আর মাদক দুটোই নেদারল্যান্ডসের এ শহরে সহজলভ্য বলেই হয়তো এমন প্রবাদের জন্ম। সান্তিয়াগো সোলারির শিষ্যরা কতটা ভালো আর কতটা মন্দ, সেটা অবশ্য বোঝা যাবে আজ মাঝরাতের পর। আমস্টারডাম অ্যারেনায় রিয়াল যদি হারিয়ে দেয় আয়াক্সকে, তাহলে বিনা দোষেই স্থানীয় দর্শকদের কাছে ‘খারাপ ছেলে’ হয়ে যাবেন সের্হিও রামোসরা। লন্ডনে টটেনহামের মাঠে খেলতে আসছে বুন্দেসলিগার শীর্ষ দল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।

নক আউট পর্ব থেকেই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে যোগ হচ্ছে ভিএআর প্রযুক্তি। তাতে মাঠের খেলা নিয়ে বিতর্ক বাড়বে না কমবে, সেটা বলা মুশকিল। কারণ রাশিয়া বিশ্বকাপে দেখা গেছে মুদ্রার দুটো পিঠই। গেল মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালটা জিতেছিল বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে ভর করে। এবার থেকে হয়তো তেমনটা আর হবে না। ঐতিহাসিকভাবে আয়াক্সের সঙ্গে সম্পর্কটা রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গেই বেশি গভীর। কাতালানদের ফুটবল দর্শনের ভিত্তিটা তো গড়ে দিয়েছেন ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ। বার্সেলোনায় যাওয়ার আগে ও পরে আয়াক্সেই খেলেছেন ক্রুইফ, ছিলেন কোচও। সেই ক্রুইফের নামেই নিজেদের স্টেডিয়ামের নামকরণ করেছে আয়াক্স, ওই মাঠেই রিয়াল খেলবে ক্রুইফের উত্তরসূরিদের বিপক্ষে।

মাদ্রিদ থেকে আমস্টারডামে পৌঁছে গেছেন রিয়ালের ফুটবলাররা। আজ মাঠে নামার আগে হয়তো তাদের মনে কাজ করবে দারুণ এক স্বস্তি। লিগে অনেক সাপলুডুর পর যে শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রায় ধরেই ফেলেছে ‘লস ব্লাংকোস’! ব্যবধানটা মাত্র ৬ পয়েন্টের। অথচ ১০ রাউন্ড শেষে বার্সেলোনা যখন শীর্ষে, তখন রিয়াল ছিল পয়েন্ট তালিকার ৯ নম্বরে। সেই ফারাক ঘুচিয়ে রিয়াল এখন দুইয়ে। টানা তিনবারের শিরোপাজয়ীরা পরের বছর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারবে কি না, এই নিয়ে টীকাটিপ্পনী কাটার দিনও ফুরিয়েছে।

রিয়াল ও আয়াক্স মুখোমুখি হয়েছে ১২ বার। তাতে রিয়ালের জয় ৭ ম্যাচে, আয়াক্স জিতেছে ৪টি আর ড্র হয়েছে ১ ম্যাচ। ২০১২-১৩ মৌসুমে গ্রুপ পর্বেই দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল ও আয়াক্স। দুটো ম্যাচেই রিয়াল জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে। প্রথম লেগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ‘সিআরসেভেন’ অবশ্য এবার আর নেই মাদ্রিদের অভিজাতদের সঙ্গে, জার্সি বদলে তিনি নাম লিখিয়েছেন জুভেন্টাসে। তবে বেনজেমা আছেন, কিন্তু নতুন নায়ক হয়ে উঠতে পারেন ভিনিসিয়াস। তরুণ এই ব্রাজিলিয়ানের চলতি মৌসুমে ৪ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। তবে এখনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় কোনো গোল নেই ভিনিসিয়াসের। ১৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান নাকি বাবাকে বলে রেখেছেন, এ ম্যাচে গোল করলেই শরীরে নতুন উল্কি আঁকাবেন! কোচ সান্তিয়াগো সোলারি অবশ্য এখনই খুব বেশি প্রত্যাশা করছেন না ভিনিসিয়াসের কাছ থেকে, ‘সে খুবই কম বয়সী আর মাত্রই তো ইউরোপে এলো। শিখতে খুবই আগ্রহী, তবে তাকে একটু সময় দিতে হবে। এটা সব খেলোয়াড়েরই দরকার হয়।’ লোপেতেগি বরখাস্ত হওয়ার পর পর দায়িত্ব পাওয়া সোলারি ভরসা রাখছেন তারুণ্যে। ভিনিসিয়াস, ইয়োরেন্তে, সেবোইয়াস রেগুলোঁকে নিয়মিত সুযোগ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘তারা হচ্ছে রিয়ালের ভবিষ্যৎ, এ জন্যই তাদের বর্তমানের অংশ করতে হবে।’ সোলারির এই তরুণ দল রিয়ালের প্রথাগত তারকাপুঞ্জ নয়। ভিনিসিয়াসরা তারা হয়ে জ্বলবেন নাকি ধূমকেতু হয়ে হারিয়ে যাবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

টটেনহাম-ডর্টমুন্ডের এর আগে দেখা হয়েছে ৪ বার। ২ বার জিতেছে স্পাররা, ২ বার ডর্টমুন্ড। লন্ডনে তাই আজ এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। দুই দলেই সেরা দুই তারকার অনুপস্থিতি। টটেনহামে নেই হ্যারি কেইন, ডর্টমুন্ডে মার্কো রয়েস। দুজনই যে চোটগ্রস্ত। লন্ডন ও আমস্টারডাম—দুই জায়গাতেই ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফুটবলার এমিলিয়ানো সালার স্মরণে। উয়েফা, এএফপি



মন্তব্য