kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ম্যুরাল হলে মুন্নার সম্পর্কে জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ম্যুরাল হলে মুন্নার সম্পর্কে জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম

আজ মোনেম মুন্নার চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকী। বিয়ের ১২ বছর পর স্বামীর মৃত্যুতে ইয়াসমিন মোনেম সুরভীর জীবনে শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে তিনি কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়েছেন

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আরেকটি খারাপ লাগার দিন সামনে চলে এসেছে।

ইয়াসমিন মোনেম সুরভী : এই দিন তো এড়ানো যাবে না। প্রতিবছর অনেক বিষাদ নিয়ে হাজির হয় এই দিনটি। আমরা নারায়ণগঞ্জে মাদরাসায় টাকা-পয়সা দিয়ে দিই, ওখানে মিলাদ হয়। এ ছাড়া মুন্না স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে মুন্নার কবরে ফুল দেওয়া হবে।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মুন্নার কথা মনে রেখেছেন। আপনাদের একটা ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন তিনি।

সুরভী : প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি খুব স্নেহ করতেন মুন্নাকে, সুবাদে তিনি তাঁর ছেলে-মেয়েদের কথা ভোলেননি। এখানে হারুন ভাইয়েরও অনেক অবদান আছে। কিন্তু ধানমণ্ডি ৮ নম্বর রোড ধরে গেলে আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়।

প্রশ্ন : সেটা কেন?

সুরভী : রাস্তাটা মোনেম মুন্নার নামে করা হয়েছিল, ওখানে নামফলকও লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই রাস্তা দিয়ে গেলে কিছুই দেখা যাবে না। ফলকটা আদৌও আছে কি না জানি না। থাকলেও লেখা সব মুছে গেছে, কারণ তার ওপর কাপড় শুকাতে দেয় ছিন্নমূল মানুষরা। ফলক বাদ দিয়ে ওখানে একটা ম্যুরালও হতে পারে, তাতে লেখা থাকবে মুন্নার ফুটবল জীবনের সারসংক্ষেপ। নতুন প্রজন্ম তাঁর সম্পর্কে জানতে পারবে।

প্রশ্ন : আপনার ছেলে তো বাবার মতো ফুটবলার হওয়ার পথে হাঁটেনি, লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়েছে।

সুরভী : না। ছেলে ফুটবল খেলে না, বোধহয় ফুটবল সাংবাদিক হবে (হাসি)। সে এখন ইউল্যাবে জার্নালিজম নিয়ে পড়াশোনা করছে। মেয়ে অনার্স শেষ করে দেশে ফিরে এখন একটা চাকরি করছে।

প্রশ্ন : ১৪ বছর পার করে দিলেন স্বামীকে ছাড়া। দিনগুলো নিশ্চয়ই খুব কঠিন ছিল!

সুরভী : এখন অনেক সুস্থির অবস্থায় আছি। কিন্তু পেছনের দিকে তাকালে আমার ভয় হয়। ও যখন মারা যায়, তখন জীবনটা কী সেটাও ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। তাঁকে ছাড়া ছোট দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত লড়াই করেছি। আমার মা-বাবার দোয়া, শ্বশুরবাড়িসহ অনেকের সহযোগিতায় আজ একটা অবস্থানে এসেছি।



মন্তব্য