kalerkantho


দুজনের ব্যাটে রান

হারে সফর শুরু বাংলাদেশের

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



হারে সফর শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বহুবার তাঁরা দুজন ব্যাটিং বিপর্যয়ে দলের ‘ত্রাতা’ হয়ে উঠেছেন। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদ উল্লাহ আবারও হাল ধরলেন বলে বিপর্যয় ঘনীভূত হয়নি আরো। তাঁদের দুজনের ফিফটির সঙ্গে সাব্বির রহমানেরও একটি সময়োপযোগী ইনিংস যোগ হওয়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ আড়াই শর কাছাকাছি গেল বটে, কিন্তু তাতে শেষরক্ষা হলো না। ১১ বল বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড একাদশ ৮ উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের ২৪৭ রান তাড়া করে ফেলল। তাই ২ উইকেটের হার দিয়েই সফর শুরু করল বাংলাদেশ।

লিঙ্কনের বার্ট সাটক্লিফ ওভালে এক দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে যে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তামিম ইকবালদের পাওয়া যাবে না, সেটি জানাই ছিল। কারণ আগের রাতেই মাত্র রওনা দিয়েছেন তাঁরা। ওদিকে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য একাদশ গড়াই মুশকিল হয়ে যাবে বলে টেস্ট স্কোয়াডের কয়েকজনকে আগাম উঁড়িয়ে নেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। তাঁদের একজন মমিনুল হকও খেললেন প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে শুধু মমিনুলই নন, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ হলেন লিটন কুমার দাশ, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুনরাও। স্কোরবোর্ডে ৩১ রান জমা হতেই যে এই চারজনের বিদায়! 

দুই পেসার ইয়ান ম্যাকপিক ও হ্যাজেলডাইনের জোড়া শিকারে বেশ বিপদে পড়ে যায় সফরকারীরা। ড্রাইভ খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের (৩) ক্যাচ হওয়া দিয়ে শুরু। শর্ট বলে পুল করতে যাওয়া মমিনুলও (৬) পারেননি দুই অঙ্ক ছুঁতে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে উইকেট দিয়েছেন সৌম্য (১) ও মিঠুনও (১)। প্রথমজন ধরা পড়েছেন কাভারে, পরেরজন স্লিপে। মুশফিক-মাহমুদের প্রতিরোধের শুরুটা চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মিঠুন আউট হতেই। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের দুজনের ১০৮ রানের পার্টনারশিপেই ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।

থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে মুশফিকের ফিরে যাওয়াতে ভাঙে জুটি। এর আগে ৬১ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৬২ রানের ইনিংস খেলে যান এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এরপর অবশ্য বড় কোনো জুটিও হয়নি আর। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়া মাহমুদ উল্লাহ ৮৮ বলে খেলেন ৭২ রানের ইনিংস। যেটি সাজানো ছিল ১০ বাউন্ডারিতে। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ (৭) দলের সংগ্রহে তেমন কোনো অবদান রাখতে না পারলেও ৬ বাউন্ডারিতে ৪১ বলে সাব্বিরের ৪০ রানের ইনিংসে অবলীলায় দুই শ পার করে দল। শেষ দিকে নাঈম হাসান (২৩ বলে ১৭*) ও মুস্তাফিজুর রহমানের (১৪ বলে ১২) ব্যাটে আড়াই শর কাছাকাছি যায় বাংলাদেশ। একটি বাউন্ডারির পাশাপাশি বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটিও আসে মুস্তাফিজের ব্যাট থেকেই। তবে পুরো ওভারও খেলতে পারেনি সফরকারীরা। ২৩ বল বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় তারা। ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ড একাদশের সেরা বোলার ইয়ান ম্যাকপিক।

জবাবে অ্যান্ড্রু ফ্লেচারের সঙ্গে অধিনায়ক জিত রাভালের ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটিই জয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। অফস্পিনার নাঈমকে সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রাভাল (৬৩ বলে ৫২) ফিরলেও ফ্লেচার কক্ষপথেই রাখেন দলকে। তৃতীয় উইকেটে রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে গড়েন ৫০ রানের আরেকটি পার্টনারশিপ। তবে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে মুস্তাফিজ ফ্লেচারের (১১২ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৯২) সেঞ্চুরির স্বপ্নও ভাঙেন। ফ্লেচারের বিদায়ের পর লড়াইয়ে ফেরার একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে বাংলাদেশ। তবে ওই পর্যন্তই। জয় যখন প্রায় হাতের মুঠোয়, তখন দ্রুত ৩ উইকেট খোয়ায় স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করেনি তারা। মুস্তাফিজ (২/৩৩), মাহমুদ (২/৩৭) ও মিরাজ (২/৪৬) নেন দুটো করে উইকেট। এ ছাড়া নাঈম ও সৌম্য নেন একটি করে। প্রস্তুতি ম্যাচে হারের অস্বস্তি নিয়েই নেপিয়ারে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ওয়ানডের জন্য অপেক্ষা এখন বাংলাদেশের।



মন্তব্য