kalerkantho


অথচ প্রথম সেঞ্চুরি সেই ইভান্সের

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অথচ প্রথম সেঞ্চুরি সেই ইভান্সের

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন অনেকেই। তাই বলে এভাবে! যে লরি ইভান্সকে এত আশা করে নিয়ে আসে রাজশাহী কিংস, তিনি কিনা বিপিএলের প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেন ১০, ১*, ০, ২ ও ০ রান। বিদেশি ক্রিকেটারের এমন পারফরম্যান্স বিস্ময়কর বৈকি!

এর চেয়ে কম বিস্ময়কর নয় সেই ক্রিকেটারের ব্যাট থেকে এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি আসা। ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, থিসারা পেরেরা, রাইলি রুশো—টুর্নামেন্টের আকাশে তারকার অভাব নেই। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানরাও তো রয়েছেন। অথচ সবাইকে ছাপিয়ে কাল বিপিএলের এ আসরের প্রথম সেঞ্চুরি করেন ইভান্স। প্রথম পাঁচ ম্যাচে সাকল্যে ১৩ রান করে যিনি বাদ পড়েছিলেন একাদশ থেকে!

অথচ এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ইনিংসের অনেকটা সময়জুড়ে তা বোঝা যায়নি। একাদশে ফিরে ওপেনিংয়ে নামা ইভান্স দেখেন, স্কোরবোর্ডে ২৮ রান তুলতেই প্যাভিলিয়নে ফেরত গেছেন তিন সতীর্থ। ফর্মের সঙ্গে আড়ি চলছে নিজের, সঙ্গে দলের কোণঠাসা অবস্থা—রাজশাহী কিংসের এই ক্রিকেটারের রয়েসয়ে খেলা ছাড়া উপায় ছিল না। অন্য প্রান্তের রায়ান টেন ডশাটের সঙ্গে মিলে বিপর্যয় ঠেকান ধৈর্য নিয়ে। ১৩ ওভারে তাই ওই ৩ উইকেট হারিয়ে ৭০ রানের বেশি তুলতে পারে না রাজশাহী। ৩৬ বলে তখন ৩৭ রান ইভান্সের।

এরপরই হঠাৎ গিয়ার বদল। ইভান্সের ব্যাটে ওঠে ঝড়; সমর্থন পান ডশাটের কাছ থেকেও। প্রথম ১৩ ওভারে ৭০ রান করা রাজশাহী কিংস তাই শেষ সাত ওভারে তোলে ১০৬ রান! প্রথম ৩৬ বলে ৩৭ রান করা ইভান্সের ব্যাট থেকে শেষ ২৬ বলে আসে ৭৭ রান! থিসারা পেরেরার করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অফে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পান তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬২ বলে ১০৪ রানে।

প্রথম পাঁচ ম্যাচে মোটে ১৩ রান করা ব্যাটসম্যানের এমন রূপান্তরের রহস্য কী? ম্যাচ শেষে হাসিমুখে জবাব দেন ইভান্স, ‘আমি জানি না। কাল অনুশীলন করছিলাম যখন, তখন খুব ভালো অনুভব করছিলাম। বাংলাদেশে আসার পর এই প্রথম এমনটা হলো। এপিএল এবং টি১০ খেলার পর বিরতিতে ছিলাম। তখন বিয়ে করলাম। এ কারণেই বিপিএলে কোনো ফর্ম নিয়ে আসতে পারিনি। ইংল্যান্ডের উইকেটের তুলনায় এখানকার উইকেট বেশ আলাদা এবং বেশ কঠিন। আজ টপ অর্ডারে ভালো সুযোগ পেয়েছি। আর রূপান্তরের কারণ হিসেবে বলতে পারেন কঠোর পরিশ্রম।’ এ ফরম্যাটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি স্বাভাবিক কারণেই তাঁর কাছে বিশেষ কিছু, ‘অবশ্যই এটি স্পেশাল। আগেও একবার সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েছিলাম। আজ একাদশে সুযোগ দেওয়ার জন্য কোচ এবং মালিকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ সত্যি বলছি, ভাবিনি যে আজকের সুযোগটা আমার প্রাপ্য। কারণ এর আগে টুর্নামেন্টে তেমন কোনো রানই করতে পারিনি। তবু আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ বিপিএলের অন্য তারকাদের ভিড়েও নিজে প্রথম সেঞ্চুরি করায় তৃপ্তি ইভান্সের, ‘এই খেলাটি উত্থান-পতনে ভরপুর। আমার জন্য এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত সময়টা ছিল খুব কঠিন। আবার এখানে সেঞ্চুরি করার পরের ম্যাচে প্রথম বলে আউট হয়ে যেতে পারি। এ কারণেই যতটা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কঠিন সময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। তবে সত্যি বলতে কি, ভাবিনি যে আজ আমি সেঞ্চুরি করব।’

ইনিংসের অনেকটা সময় জুড়েও তা ভাবতে পারেননি। পরে দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনার ব্যাখ্যা করেন ইভান্স, ‘ওদের সিমাররা যখন আক্রমণে ফেরে, তখনই দ্রুত রান করার কথা ভাবি। কেননা রানরেটে প্রত্যাশার চেয়ে একটু পিছিয়ে ছিলাম। আমি ও ডশাটে এ নিয়ে কথা বলি। ঠিক করি, আমাদের আরো দ্রুত রান করতে হবে। এর পরও চেয়েছি, নিজেদের শক্তির জায়গায় যেন খেলতে পারি। এটি দারুণভাবে কাজ করেছে। আর অন্য প্রান্তে ডশাটেও খেলেছে খুব ভালো।’ রাজশাহী কিংসের জন্য এ জয়টিকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘এ জয়টা অনেক বড়। প্লে-অফে খেলার জন্য সেরা চারের আশপাশে থাকছি আমরা। আগের মুখোমুখিতে কুমিল্লা আমাদের সহজেই হারায়; ওদের দুর্দান্ত কিছু ক্রিকেটার আছে। আর আমাদের অনেকে ভুগছিলাম আত্মবিশ্বাসের অভাবে। নিজেদের সেরা দল এখনো খুঁজে পাইনি। তবে আমাদের বোলাররা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ করছে। ব্যাটসম্যানদের ওপর দায়িত্ব ছিল, স্কোরবোর্ডে ভালো রান জড়ো করে বোলারদের তা ডিফেন্ড করার সুযোগ দেওয়া। এমন এক ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে জয় পাওয়াটা তাই দারুণ ব্যাপার।’

রাজশাহী কিংসের জন্য যতটা, তার চেয়ে কম দারুণ নিশ্চয়ই নয় ইভান্সের জন্য। এটি বরং আরো চমকপ্রদ। কারণ কুমিল্লার বিপক্ষে রাজশাহীর জয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার লোক হয়তো ছিল, কিন্তু সে ম্যাচে ইভান্সের সেঞ্চুরির পূর্বানুমান করার মতো ছিল না একজনও।



মন্তব্য