kalerkantho


ভিনিসিয়াসের গোলে কিংসের শুভ সূচনা

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ভিনিসিয়াসের গোলে কিংসের শুভ সূচনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেষমেশ ফয়সাল আহমেদ শীতলের গোলে ঠাণ্ডা হয় ঢাকা আবাহনী। লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে নোফেলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সেই তুলনায় পরের ম্যাচে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এটি শেষ হয়েছে শেখ জামালের বিপক্ষে স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ১-০ গোলের কাঙ্ক্ষিত জয়ে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক বসুন্ধরা কিংস। স্বাধীনতা কাপজয়ী দলটির সর্বাঙ্গে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। শুরুর ২৫ মিনিট এমন চাপে রাখে শেখ জামালকে গোল হয় যেকোনো মুহূর্তেই। কিন্তু গোল আর হয় না, পোস্টের এপাশ-ওপাশ দিয়ে চলে যায় বল। ৯ মিনিয়ে নাসির উদ্দিনের ভলিটি দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে না গেলে তখনই এগিয়ে যায় প্রিমিয়ারে নবাগতরা। মিনিটি চারেক বাদে ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের শটটিও থাকেনি পোস্টে। এ রকম আরো কয়েকটি সুযোগ নষ্টের পর ২৫ মিনিটে শেখ জামালের সলোমন কিংয়ের পায়ে তৈরি শেখ জামালের সেরা সুযোগটি। ডান দিক ধরে ওঠা এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল সেন্টার করেন ফাঁকায় দাঁড়ানো লুসিয়ানো পেরেজের কাছে। কিন্তু এই আর্জেন্টাইনের শটে না ছিল জোর, না ছিল প্লেসিং।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে কিংস। ওই একটু গোলের তোড়জোড় ছিল শেখ জামালের। কিন্তু তাদের সেই তৎপরতায় জল ঢেলে দেন ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। ৬৯ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে দারুণ এক মুভের জন্ম হয় এই কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের পায়ে। তিনজনকে পরাস্ত করে তিনি বলটা বক্সের মাঝে এত সুন্দর ঠেলেছেন ভিনিসিয়াসের গোল না করে উপায় ছিল না। আসলে তাঁর আশপাশে ছিল না কেউ, সুবাদে এই ব্রাজিলিয়ানের বাঁ পায়ের শটে লিগে কিংসের শুভ উদ্বোধন হয়। গোলের পর আবার সেই চেনা কিংস এবং আরো গোলের সম্ভাবনা। দু-দুটি কাউন্টারে কলিনড্রেসের পাশে অন্তত একটি গোল থাকলে ভালো মানাত। কিন্তু দুবারই তাঁকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন জামাল গোলরক্ষক মাসুম। এর মধ্যে ইমন বাবুর একটি দুর্দান্ত শটও তিনি সেভ করেছেন। গোল ব্যবধান বড় না হলেও শুরুতে কঠিন বাধা টপকে দারুণ খুশি কিংস স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন, ‘আমাদের শুরুটা দারুণ ছিল, ব্যবধান আরো বড় হতে পারত। প্রথম ম্যাচ জেতা গুরুত্বপূর্ণ।’ 

দিনের প্রথম ম্যাচে আবাহনীরই আধিপত্য ছিল। তবে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও তারা পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়েছিল। ১-১ গোলের সমতায় আর কয়েক মিনিট কাটিয়ে দিলেই প্রিমিয়ারে নবাগত স্পোর্টিংয়ে হোঁচট খায় চ্যাম্পিয়নরা। এই শঙ্কা-চাপ মাথায় নিয়েই ৮২ মিনিটে ফয়সাল নামেন মামুনুলের বদলি হয়ে। ৫ মিনিট বাদেই হেডে লক্ষ্য ভেদ করে আবাহনীকে জয় উপহার দেন। ‘দলের জয়ে আমি দারুণ খুশি। কোচ যে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন  তার জন্য ধন্যবাদ। সুযোগ পেলে ভালো করে এর প্রতিদান দিতে চাই’—ম্যাচ শেষে বলেছেন আবাহনীর এই দেশি ফরোয়ার্ড। এর আগে স্বাধীনতা কাপেও বদলি নেমে দুই গোল করে দলকে জিতিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে। সুবাদে এই মুহূর্তে আকাশি-নীলের দুর্দান্ত ‘সুপার-সাব’ ফয়সাল আহমেদ শীতল।

তবে ম্যাচ শুরু হয় বিতর্ক দিয়ে। সপ্তম মিনিটে নোফেলের এলিটা বেঞ্জামিন গোললাইন থেকে হাতে বল ফেরালেও রেফারি ভরত চন্দ্র গৌর ছিলেন নিশ্চুপ। আবাহনীর খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জোর দাবি তুলেও রেফারির সাড়া পায়নি। পরের মিনিটেই সেই বিতর্কে খানিক ভাটা পড়ে চ্যাম্পিয়নদের গোলে। মিডফিল্ডার সোহেল রানার বাড়ানো বলে রুবেল মিয়ার শট ঠিকানা খুঁজে পেলে তারা এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তা শোধ করে নোফেল ম্যাচে ফিরে এলে চাপে পড়ে আবাহনী। ইনজুরি টাইমে তাদের রক্ষণের ভুলেই গোলটা হজম করে। জটলায় কেউ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে নোফেলের কামরুল হাসান জালে পৌঁছে দেন বল। বিরতির পর আবাহনী গোলের জন্য মরিয়া হয়েও বারবার দুর্বল ফিনিশিংয়ে গোল পায়নি। ৭৬ মিনিটে জুয়েল রানার ক্রসে জায়গামতো ছিল না কেউ। মিনিট চারেক বাদে রায়হানের লম্বা থ্রো-ইনে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডের হেড ক্রসবারে বাতাস লাগিয়ে যায় বাইরে। শেষে ৮৭ মিনিটে বদলি ফয়সাল আহমেদ শীতলে হয় চাপমুক্তি। রুবেলের ক্রসে তাঁর হেড নোফেল গোলরক্ষক প্রথম দফায় বল গ্রিপে নিয়েও ভারসাম্য রাখতে না পেরে গোললাইন ক্রস করে নোফেলের হারের দুর্ভাগ্য ডেকে আনেন।



মন্তব্য