kalerkantho


অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে বিস্ফোরক রাসেল

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে বিস্ফোরক রাসেল

ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

সিলেট থেকে প্রতিনিধি :  চোট এবং চোটপাট, একই ম্যাচে দেখা গেল দুটোই।

নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে হাঁটুর চোট নিয়ে বেরিয়ে যেতে হলো ঢাকা ডায়নামাইটসের অফস্পিনার আলিস আল ইসলামকে। আর চোট নিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে আরেকবার নিজের ছাপ রেখে যেতে চাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে সিলেট সিক্সার্সের ৮ উইকেটে ১৫৮ রান তাড়ার শেষে দেখা গেল চোটপাটও। ঢাকা ডায়নামাইটসের ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল তা করলেন বিশাল বিশাল সব ছক্কায়।

তাসকিন আহমেদকে মারা টানা দুই ছক্কায় বল নিয়ে ফেলেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের বাইরে। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার বলই খুঁজে পাওয়া যায়নি আর। রাসেল আরো দুটো ছক্কা হাঁকিয়েছেন সিলেটের পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফানকেও। যার শেষটি গিয়ে পড়েছে স্টেডিয়ামের গ্রিন গ্যালারির ওপরিভাগে। সেটি আবার ছিল উইনিং স্ট্রোকও। রাসেলের ২১ বলে ২ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৪০ রানের হার না মানা ইনিংসে ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ ম্যাচে তাদের পঞ্চম জয়টি পেয়ে যায় ৩ ওভার হাতে রেখেই।

তবে ৬ উইকেটের এই জয়ে বোঝারই উপায় নেই যে জেতার লড়াইয়ে প্রবলভাবেই ছিল সিলেটও। কারণ তারা ৩৭ রানের মধ্যেই তুলে নিয়েছিল ঢাকার ওপেনার মিজানুর রহমান (১), সুনীল নারিন (২০) ও রনি তালুকদারকে (১৩)। শুরুর সেই বিপর্যয় থেকেই ছয় ম্যাচে সিলেটকে চতুর্থ হারের রাস্তা চেনান সাকিব আল হাসান। বল হাতে প্রতিপক্ষের দুই সর্বোচ্চ স্কোরার ডেভিড ওয়ার্নার (৪৩ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬৩) ও লিটন কুমার দাশকে (১৪ বলে ৪ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ২৭) ফেরানো ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক চলতি বিপিএলে তুলে নেন তাঁর প্রথম ফিফটিও।

তাঁর এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দলের জয়ের পথ প্রশস্ত হওয়ার পর মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন রাসেল। ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন আগে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যান হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের জায়গায় খেলার সুযোগ পাওয়া আরেক আফগান ক্রিকেটার দারবিশ রাসুলিকে। তাঁকে নিয়েই চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রান যোগ করে ফেলেন সাকিব। দারবিশকে (১৫ বলে ১৯) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙা ইরফান যেন সিলেটের বিপদ ডেকে আনেন আরো। কারণ এর পরই তো শুরু রাসেলের সেই চোটপাট।

ওয়ার্নার ও রাসেলের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মধ্যেও ম্যাচের কেন্দ্রীয় চরিত্র শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল সাকিবই। চোট এবং চোটপাটের ম্যাচের সেরাও!



মন্তব্য