kalerkantho


ফুটবল লিগহীন বর্ষপূর্তির পরও টালবাহানা!

১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ফুটবল লিগহীন বর্ষপূর্তির পরও টালবাহানা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আরেক দিন পার হলেই প্রিমিয়ার ফুটবল লিগহীন বাংলাদেশ ফুটবলের বর্ষপূর্তি হবে! এটা ফুটবলের জন্য সুখবর কি না কে জানে। তবে এভাবেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ফুটবল উন্নয়নের ছক কষছে। ক্যালেন্ডার তৈরি করছে।

গত ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়েছিল সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ। এরপর একটা মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন ওঠে এবং সব সময় ওঠে। পরের লিগটা কবে শুরু হবে? সত্যি বললে এই প্রশ্নের উত্তর আগেও কেউ জানত না। এখনো জানে না। জানে না ফুটবল ফেডারেশনও। কারণ ফুটবল মৌসুমটা তারা নির্দিষ্ট করতে পারেনি। বছরের পর বছর এভাবেই অনির্দিষ্ট পথচলা আমাদের ফুটবলের। কয়েকবার পেছানোর পর শেষ পর্যন্ত একটা সময় যে লিগ শুরু হয়, এটাই ফুটবলের ভাগ্য। সেই তরিকাতে এবার লিগ শুরুর কথা ছিল ৩০ নভেম্বর, সে অনুযায়ী সব ক্লাবের কাছে লিগের সূচিও পাঠিয়ে দিয়েছিল বাফুফে। পরে যথারীতি পিছিয়ে দেওয়া এবং বাফুফে সভাপতির সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি থেকে লিগ শুরুর কথা। সে নিয়েও নাকি সংশয় তৈরি হয়েছে। আজ লিগ কমিটির সভায় এই লিগের ভাগ্য নিয়েই আলোচনা হবে।

১৮ জানুয়ারি লিগ শুরুর কথা বলে ক্লাবগুলোকে যে সূচি পাঠানো হয়েছিল, সেটি শেষ হবে ১০ আগস্ট। এটি দেখেই মাথায় হাত পড়েছিল অনেক ক্লাবের। কারণ ক্লাবগুলোর সঙ্গে লিগ কমিটির যেমন কথা হয়েছিল তার কোনো প্রতিফলন নেই সূচিতে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মৌসুম সংস্কারের কথা বলে এপ্রিল-মের মধ্যে লিগ শেষের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাফুফে। এটা আগস্টে শেষ হওয়ার অর্থ আবার ভরা বর্ষায় ফুটবল এবং খেলার নামে হবে তামাশা। বর্ষা এড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বাফুফে। তাহলে মৌসুমের সংস্কার কী হলো? বাফুফের সেই প্রতিশ্রুতি ধরে বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবগুলো চুক্তি করেছিল এপ্রিল-মে পর্যন্ত। এরপর আগস্ট পর্যন্ত চলা মানে আরো তিন মাসের বেতন গুনতে হবে। ক্লাবগুলোর জন্য এটা অসহনীয় চাপের এবং ভালো খেলোয়াড়রা এই তিন মাসের চুক্তিতে যায় না।

এই চাপ যেন অনুভব করতে শুরু করেছে বড় দলগুলো। এই মৌসুম উপলক্ষে দীর্ঘকালীন ট্রেনিং এবং ক্যাম্প খরচে তাদের নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল কাল স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘আমাদের দলটি সাত মাস ধরে ট্রেনিংয়ে আছে। প্রতি মাস গেলে ৩৫/৪০ লাখ টাকা গুনতে হয় আমাদের। আগস্ট পর্যন্ত খেলা মানে অনেক খরচ। এরপর আবার লিগ পেছানোর চেষ্টা করলে আমরা সাফ জানিয়ে দেব, আমাদের পক্ষে এই মৌসুমে পেশাদার লিগ খেলা সম্ভব হবে না।’ এরপর এই সংগঠক বাফুফের সিদ্ধান্তগুলোকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, ‘বিশ্ব ফুটবলে যারা উন্নতি করছে, আমাদের আশপাশের দেশগুলোতেই দেখেন, কোথায় এক বছর পর লিগ হয়। তারপর সেটি নিয়ে আবার টালবাহানা হয়। এভাবে করে ফুটবলের উন্নতি করা যায় না।’

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতীয় ফুটবলের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। মাঠের পারফরম্যান্সের উন্নতিটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাদের র‌্যাংকিংয়ে (৯৭)। গত মৌসুমে তাদের লিগ ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয়েছে গত বছর ৮ মার্চে। এবার শুরু হয়েছে ২৬ অক্টোবরে। প্রত্যেকবার অক্টোবর-নভেম্বরে শুরু হয়। এবং শেষ হওয়ার পর পাঁচ-ছয় মাসের বিরতি থাকে, তখন অবশ্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চলে। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের কোচ সাইফুল বারীর বিশ্লেষণে ফুটবল উন্নতির জন্য একটা পরিকল্পিত পঞ্জিকা খুব জরুরি, ‘আমাদের ফুটবল পঞ্জিকা স্থিতিশীল নয় বলেই বিশ্ব ফুটবলে আমাদের অবস্থান এত নিচের দিকে। ২০১৪ সালে যেই ভারতের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ সেই ভারত এখন এশিয়ান কাপে খেলছে, থাইল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারাচ্ছে। আমরা কোথায় পড়ে আছি। ফুটবলের উন্নয়ন চাইলে একটা স্থিতিশীল পঞ্জিকা বড় প্রয়োজন।’ বাফুফে নতুন পঞ্জিকার ধুয়া তুলে, মৌসুম সংস্কারের কথা বলে বরং আরো অধঃপাতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছে!



মন্তব্য