kalerkantho


ওয়ানডের তৃপ্তির সঙ্গে টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ওয়ানডের তৃপ্তির সঙ্গে টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : পরাজিত দলের অনুশীলনের তাড়না থাকে বেশি। ওয়ানডে সিরিজ হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাই কালও সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চলে যায় টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি নিতে। আর জয়ের আনন্দে ফুরফুরে মেজাজে বিশ্রামেই দিন কাটায় বাংলাদেশ। তবে তৃপ্তির ফেঁকুড় না তুলে স্বাগতিকরাও জানে, কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে আছে!

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবার ওয়ানডে সিরিজে হারানোটা খুব স্পেশাল। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে তা আগেভাগে সারতে না পারাটা ছিল হতাশার। এরপর তৃতীয় ওয়ানডেতে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। অবশ্যই আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। তবে ছেলেরা যেভাবে বোলিং করেছে এবং তামিম, সৌম্য, লিটনরা ব্যাটিং করেছে; সেটি দুর্দান্ত ব্যাপার’—হোটেলের লবিতে বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডসের বলা কথাগুলোয় তৃপ্তির রেশ। সৌম্য সরকারের তিনে নেমে খেলা দুর্দান্ত ইনিংসটিও মন জয় করে নিয়েছে তাঁর, ‘ব্যাটসম্যানদের নির্দিষ্ট খোপে আটকে না রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। ওরা ব্যাটসম্যান, একদিন হয়তো ওপেন করবে, আরেক দিন করবে না। ওরা দারুণ ব্যাটসম্যান এবং যেকোনো জায়গায় খেলতে পারে। সৌম্য তা করে দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ও দুর্দান্ত ক্রিকেটার—বোলিং করে, ভালো ফিল্ডিং করে এবং যেকোনো জায়গায় ব্যাটিং করতে পারে। ইমরুল হয়তো মূলত ওপেনার; কিন্তু এশিয়া কাপে তো ৬ নম্বরে নেমে সত্তোরোর্ধ্ব ইনিংস খেলে দেখিয়েছে। একজন ব্যাটসম্যানের বিভিন্ন পজিশনে খেলার সামর্থ্য আমি পছন্দ করি।’

অন্যদের মতো রোডসও মুগ্ধ বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবে। তবে বাকিদের কথাও ভুলছেন না তিনি, ‘আমি জানি লোকে কেন বিগ ফাইভের কথা বলে। কিন্তু আমরা তো একটি দল, একটি স্কোয়াড। মিরাজের ফর্ম অবিশ্বাস্য। সব ফরম্যাটে ভালো করছে। সৌম্য ফিরে খুব ভালো করেছে। লিটন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান, বড় ম্যাচে ভালো করেছে। মুস্তাফিজের কথা কেউ বলে না। কিন্তু ওয়ানডেতে কী দুর্দান্ত সে! বিশ্বের সেরা ডেথ বোলারদের একজন। সে কি বিগ ফাইভের অংশ? আমি নিশ্চিত নই।’ বাংলাদেশ দলের গভীরতা বাড়ার আনন্দ কোচের, ‘মিডিয়ারও এটা বোঝা জরুরি যে আমরা ১১ জনের দল। ১৫-১৬ জনের স্কোয়াড। আমরা স্রেফ পাঁচজন নই, আমরা ১১ বা এমনকি ১৫-২০ জন। আমার মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমাদের গভীরতা বাড়তে শুরু করেছে। এটা ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’

সেই এগিয়ে চলার পথে পরের ধাপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এখানে কাজটি যে কত কঠিন, তা জানা রোডসের, ‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবচেয়ে শক্তিশালী। ওরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং এই ফরম্যাটে ওদের হারানো কঠিন। অ্যাওয়ে সিরিজে ওদের আমরা যেভাবে হারিয়েছি, সেটি তাই বিশেষ কিছু। তা হয়তো কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল; কিন্তু ফ্লোরিডায় শেষ ম্যাচ আমরা দারুণ খেলে জিতেছি। অবশ্যই এতে ভীষণ আহত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আসছে সিরিজে তাই আমাদের ওপর ওরা ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইবে। আমরাও নিজেদের সেরাটা দেব।’ দুই দলের সর্বশেষ সিরিজের শেষ ম্যাচের মতো খেলার তাগিদ তাঁর, ‘ফ্লোরিডায় আমরা যেমন খেলেছি, তেমন খেলতে পারলে আমাদের জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ওখানে শেষ ম্যাচে লিটনের ইনিংসটি ছিল খুব স্পেশাল। আরো অনেক ভালো ভালো ব্যাপার ঘটেছে সেই সিরিজে। যেমন সাকিবের অধিনায়কত্ব। ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনেক ম্যাচ খেলেছে, বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও খেলে। এ ফরম্যাটে ও তাই খুব অভিজ্ঞ। বাংলাদেশ দলে মাশরাফি ও সাকিব দুজন দারুণ অধিনায়কের সঙ্গে আমি কাজ করছি।’

এই মাশরাফি অনেক দিন ধরে নেই টি-টোয়েন্টি দলে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে কালই তিনি সিলেট থেকে ফিরে গেছেন ঢাকায়। এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কিছুটা হলেও সুবিধা দেবে বলে মনে করেন দলটির স্পিন বোলিং পরামর্শ মুশতাক আহমেদ, ‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মাশরাফির না থাকাটা অবশ্যই আমাদের সুবিধা দেবে। কেননা ও দুর্দান্ত এক দলনেতা। তবে আমরা নিজেদের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো দলের বিপক্ষে জিততে পারব আমরা।’ কাল সিলেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুশীলনের সময় কথা বলেন পাকিস্তানের এই সাবেক লেগস্পিনার। ‘ফরম্যাট যত ছোট, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ততই শক্তিশালী’—এমন কথায় সাজানো প্রশ্নে আশার গান তাঁর কণ্ঠে, ‘অবশ্যই, এটি ভালো শিরোনাম। কেননা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ ব্র্যান্ডের ক্রিকেটই খেলে। দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি দল, যারা ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেটেও উন্নতি করছে। তবে এটি নতুন দল, অনেক তরুণ ক্রিকেটার আছে এখানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দলের হয়ে ওরা পারফরম করবে বলে আমি আশাবাদী।’

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশের আশার আকাশটাই যে এখন বড়! কুয়াশা এবং ফ্লাডলাইট সমস্যার কারণে দুই দফা এগিয়ে কাল দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওই আশাবাদী, আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে দেখার প্রত্যাশায় বাড়াবাড়ি নেই কোনো।



মন্তব্য