kalerkantho


হারেও অমলিন হোপের আভিজাত্য

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হারেও অমলিন হোপের আভিজাত্য

অপরাজিত ১০৮

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : হেডিংলিতে তত দিনে হয়ে গেছে ৭৫টি টেস্ট ম্যাচ। পরিধি বাড়িয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ বিবেচনায় নিন। ৫৩৩ ম্যাচ খেলা সারা। কিন্তু এর মধ্যেও দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান। অথচ সেই মাঠেই কিনা গেল বছর আগস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে করেন ১৪৭; দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১১৮। শাই হোপের কীর্তির ক্যানভাসটা বোঝা গেল!

হেডিংলিতে ৫৩৪তম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন। এর পাশে বাংলাদেশের বিপক্ষে পর পর দুই ওয়ানডের সেঞ্চুরিও তা ছাড়াতে পারছে না নিশ্চিত। কিন্তু এ দুটো ইনিংসে নিজের জাত আরো একবার চেনান হোপ। জানান দেন, ফুরিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসেননি তিনি। বরং আরো অনেক দিন রাজত্ব করবেন এই আঙিনায়।

শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামেও হোপ ব্যাটিং করেন ইনিংসের আদ্যন্ত। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২৫৬ রানের লক্ষ্যে নামেন ওপেনিংয়ে। ১৪৪ বলে ১২টি চার এবং তিন ছক্কায় অপরাজিত ১৪৬ রান করে জেতান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই ইনিংসকে দারুণ এক স্বীকৃতি দেন পরাজিত দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ও একদম শেষ পর্যন্ত নিজের ওপর আস্থা রেখেছে। এটা খুব বড় ব্যাটসম্যানের গুণ। পুরোটাই ওর কৃতিত্ব। শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত ও একা পুরো ম্যাচটা টেনে নিয়ে গেছে। এটা অবশ্যই অসাধারণ ইনিংস। হয়তো হোপই বলবে এটা ওর অন্যতম সেরা ইনিংস।’

হোপের সেই অন্যতম সেরা ইনিংসের তালিকায় যোগ হলো কালকের ইনিংসও। পার্থক্য বলতে, এবার দলকে জেতাতে পারেননি। কিন্তু ক্যালিপসো সুরের যে ঝংকার ওঠে তাঁর ব্যাটে, দর্শকদের তা মনে থাকবে অনেক দিন।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলের ২৫৬ রানের মধ্যে অপরাজিত ১৪৬ রান আসে হোপের ব্যাট থেকে। দলের মোট রানের যা ৫৭.০৩ শতাংশ। কাল দলের ১৯৮ রানে হোপের অপরাজিত ১০৮। দলের মোট রানের যা ৫৪.৫৪%। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাঁর ১৪৬ রানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ড্যারেন ব্রাভোর ২৭। আর কাল হোপের ১০৮ রানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারলন স্যামুয়েলসের ১৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কতটা একা একা টেনেছেন, এসব পরিসংখ্যানই বলছে তা।

মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কয়ার ড্রাইভে চার মেরে কাল রানের খাতা খোলেন হোপ। সাকিব আল হাসানের ফুল টসে তো আর বাউন্ডারির সুযোগ হাতছাড়া করতে পারেন না। মেহেদী হাসান মিরাজের বল ডাউন দ্য ট্র্যাকে গিয়ে মিড অফের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন চারের গন্তব্যে। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে এক ওভারে মারেন দুই বাউন্ডারি, পুল করে মারা দ্বিতীয়টি তো অসাধারণ। আর সাকিবকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ হোপের। ৯টি চার মারলেও সেটি ছিল হোপের ইনিংসের প্রথম ছক্কা। মাত্র ১২১ বলে জাদুকরী তিন অঙ্কে যান পৌঁছে।

আর কী জাদুকরী এই ইনিংসটি! অন্য প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল, তবু হোপ নির্বিকার। রানের জন্য বাকি সবার হাঁসফাঁস, তবু তিনি কী স্বাচ্ছন্দ্য। আভিজাত্যমাখা রাজসিক এ ইনিংস হোপকে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের আশা আরো বাড়াবে নিঃসন্দেহে। অবশ্য হেডিংলিতে অমন জোড়া সেঞ্চুরি যিনি করতে পারেন, তিনি যে বিশেষ প্রতিভা, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে আর কিভাবে!



মন্তব্য