kalerkantho


ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চতুর্থ সিরিজ জয়

দেশের প্রস্তুতি সেরে এবার বিদেশে চোখ

নোমান মোহাম্মদ, সিলেট থেকে   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের প্রস্তুতি সেরে এবার বিদেশে চোখ

ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

ক্রিকেটের সিরিজ; কিন্তু ঠিক যেন ক্রিকেটীয় সিরিজ না। রাজনীতির এক অদৃশ্য কালির সিলমোহর বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বৈরথের আবহে লেগেই ছিল। আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজার কারণে।

কাল সিরিজ শেষে এ নিয়ে করা প্রশ্নে স্পষ্ট বিরক্তি বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘এমন প্রশ্নের জন্যই সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। খেলার ভেতর এমন প্রশ্ন আশা করিনি।’ এরপর বিরক্তি সামলে নিতেও সময় নেননি, ‘আপনাদের ধন্যবাদ যে এই ৮-১০ দিনের ভেতর এসব নিয়ে কথা তোলেননি। এটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

রাজনীতি নিয়ে যেমন অনেক কথাবার্তা হয়েছে, তেমনি দেশের মাটিতে মাশরাফির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ নিয়েও। বরাবরই অবশ্য বলে আসছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবু কাল যে টস করতে নামলেন, ৯ ওভার বোলিং করলেন, ৫০ ওভারজুড়ে থাকলেন মাঠে—কখনো কি মনে হয়নি, দেশের মাটিতে এটিই শেষ ম্যাচ হয়ে যেতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাব অবশ্য হাসিমুখেই দেন মাশরাফি, ‘সত্য বলতে, ২০১১ থেকেই প্রতি ম্যাচে এমন মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, যদি আবার হাঁটুতে লেগে যায়, যেটা আগেও হুট করে হয়েছে। তবে আপনি যে অর্থে প্রশ্ন করেছেন, তাতে মনের কথাই বলেছি যে কখনো এত গভীরভাবে ভাবিনি। বিশ্বকাপের পর কী করব, সেটা বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলার পর ঠিক করব।’ সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধও তাঁর, ‘বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের পর যদি মনে হয় খেলব না, সেটি দেশে ফিরে বলব। আর যদি মনে হয় খেলতে পারব, সেটিও জানাব। আপনারা তাই বিভ্রান্ত হবেন না।’

সম্ভাব্য শেষ নিয়ে আমজনতায় ছিল হাহাকার আর রাজনীতির ময়দানে নামা নিয়ে সমালোচনার স্রোত। সেসব সামলেই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছেন মাশরাফি। দলকে জিতিয়েছেন, যেখানে প্রথম খেলায় নিজে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। সব মিলিয়ে বাড়তি তৃপ্তি তো পেতেই পারেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য এটিকে গোনায় ধরতে রাজি নন, ‘দলের মধ্যে বাইরের কিছুর প্রভাব পড়ার কথা নয়। নিজের কথা বলি, এসবে কান দিলে তো খেলা যায় না। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, নিজের মতো চেষ্টা করেছি। আর কারো কথার নিয়ন্ত্রণ তো আপনার হাতে নেই।’ তবে সেসবের পরোক্ষ প্রভাব যে রয়েছে, সেটি পরোক্ষে স্বীকার করে নেন মাশরাফি, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি যে হবে, তা তিন মাস আগেই জানি। তিন মাস কেন, এক বছর আগেই জানি। প্রত্যেক ক্রিকেটারের আলাদা পরিকল্পনা থাকে। আমারও ছিল। মূল সমস্যা যেটি হয়, হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি খুব ভোগাচ্ছিল। হয়তো এ রকম পরিস্থিতি তৈরি না হলে...হয়তো একটা ম্যাচে...আজকেও খুব কষ্ট হয়েছে খেলতে।’ শেষ দিকে দুটি বাক্য শেষ করেননি। গায়ে রাজনৈতিক তকমা সেঁটে না গেলে একটা ম্যাচে হয়তো বিশ্রাম নিতেন, সেটিই বলতে চেয়েছিলেন হয়তো মাশরাফি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের মনোযোগ যে পুরোপুরি ক্রিকেটেই ছিল, তা জোর দিয়েই বলেন অধিনায়ক, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আমার বিশ্রাম ছিল, আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সিদ্ধান্তের কথা যেটি বললেন, আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, মানুষের জীবনে যা ঘটে, সেটা কারো নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যেটি ঘটার, ঘটবেই। জন্মের পর থেকে সবার লিখিত থাকে। যে সিদ্ধান্তই নিন, সেসব আপনার পক্ষে আসবে বা বিপক্ষে, সেটার নিয়ন্ত্রণ আপনার থাকে না। আমি কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে পরিকল্পনা ছিল, সেটিতেই ছিলাম। আজকের পর হয়তো অন্য কিছু চিন্তা করতে পারি। আজকে পর্যন্ত পুরো মনোযোগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে।’

গত বিশ্বকাপের আগে আগে দলের নেতৃত্বে ফিরেছেন মাশরাফি। দলের তখন যাচ্ছেতাই অবস্থা। কিন্তু এ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলে ভীষণ চাঙ্গা ভাব। ২০১৫ আসরের পর ১২টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মধ্যে অষ্টমটি যে জিতল দল! তাতে দলের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকার কথা জানিয়েছেন মাশরাফি, ‘১২ সিরিজের মধ্যে ৮টি জিতলে আত্মবিশ্বাস ভালো থাকে। পাশাপাশি আমাদের অগ্রগতিও পরিষ্কার। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজ আছে। আমাদের জন্য সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে কিছুটা হলেও ভালো হবে।’

জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পর পর দুটি হোম সিরিজও বাংলাদেশের সেই প্রস্তুতি এগিয়ে রাখল অনেকটা।



মন্তব্য