kalerkantho


গতির ভয় উড়িয়ে দিলেন মাশরাফি

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গতির ভয় উড়িয়ে দিলেন মাশরাফি

ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

সিলেট থেকে প্রতিনিধি : প্রশ্নটি আবার শুনতে চাইলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের বলা কথাটি শুনে ভ্রু কুঁচকে ওঠে কিছুটা। অহমে লাগে হয়তো বা! এখনো যদি ফাস্ট বোলারদের নিয়ে হুংকার ছোড়েন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক, তাহলে মাশরাফি বিন মর্তুজা কিছুটা বিরক্ত হবেন না কেন!

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রস্তরযুগে ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখিতে থরহরিকম্প অবস্থা হতো ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু বিশেষত ওয়ানডে ফরম্যাটে সেই দিন আর নেই। মাঝেমধ্যে তা ফিরে আসে ব্যতিক্রমের খোলসে, নিয়ম হয়ে কিছুতেই নয়। আর ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারদের শৌর্য-বীর্যও কালের গর্ভে বিলীন। সেই দলের অধিনায়ক কিনা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে দুর্বলতা কাজে লাগানোর কথা বলেন! সেই প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফির কণ্ঠে ঝাঁজ থাকাটাই তো প্রত্যাশিত।

‘এটি সত্য যে বাংলাদেশ ফাস্ট বোলিং খেলতে পছন্দ করে না। এ জায়গাটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব আমরা। আশা করছি, কাল তা করতে পারব’—নিজেদের সংবাদ সম্মেলনে বলে গিয়েছিলেন পাওয়েল। তা মনে করিয়ে জানতে চাওয়া পেস বোলিংয়ের দুর্বলতা কিভাবে সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ। কিন্তু নিজেদের সেই দুর্বলতা আর ওভাবে মানতে চান না মাশরাফি, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে আমরা পেস বোলিং ভালোই সামাল দিয়েছি। এটা ঠিক যে শুরুতে একটা-দুইটা উইকেট পড়েছে। কিন্তু শেষ ম্যাচেও যদি দেখেন, মুশফিক ও তামিমকে ওরা পেস বোলিং দিয়ে খুব একটা ভোগাতে পারেনি। রিয়াদকেও না। সাকিবও খুব স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছে এবং শটও খেলতে পেরেছে। আমার তাই মনে হয় না, ওরা পেস বোলিং দিয়ে খুব একটা কিছু করতে পেরেছে।’ পরের বাক্যেই তাঁর ঝাঁজ সবচেয়ে বেশি, ‘আগে একটা সময় ছিল, এই ব্যাপারগুলো অনেক প্রভাব ফেলত। এখন আর ব্যাপারগুলো সেই জায়গাতে নেই।

তবে সত্যিকারের ফাস্ট বোলিংয়ের মুখোমুখি হতে যে সব ব্যাটসম্যানেরই সমস্যা হয়, তা অস্বীকার করেননি মাশরাফি। পাশাপাশি সতীর্থদের তা সামলানোর উদাহরণও তাঁর মুখস্থ, ‘অতিরিক্ত পেসের কথা যদি বলেন, তাতে তো পৃথিবীর সব ব্যাটসম্যানেরই সমস্যা হয়। কিন্তু ১৪০, ১৪২/১৪৩ গতির বল আমাদের অনেক ব্যাটসম্যান সহজে সামলাতে পারে। তামিম চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউডদের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করেছে। আমরা আসলে ওই পর্যায়টা পার করে এসেছি।’ আগের দুই ওয়ানডেতেও যে গতি দিয়ে ক্যারিবিয়ানরা খুব সুবিধা করতে পারেনি, তা আরেকবার মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আগের ম্যাচে ওই সময় যদি তামিম আউট না হতো, চিত্রটা ভিন্ন হতো। সাকিব যদি শেষ তিন ওভারের দুই ওভার ব্যাটিং করতে পারত, তাহলে সহজেই আরো ২০ রান যোগ হতে পারত। এগুলো যে গতির জন্য হয়েছে, তা না। আমাদের আসলে মাঠে গিয়ে ঠিকঠাকভাবে খেলতে হবে। সেটি কিভাবে সামাল দিচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। আর অতিরিক্ত গতি পৃথিবীর সব ব্যাটসম্যানের জন্যই অস্বস্তির। এ ক্ষেত্রে শুধু আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই।’

সেই অতিরিক্ত গতির বোলার তো এখন ক্রিকেটবিশ্বে বিরল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওশেন থমাসের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে ঠিক। গতি দিয়ে দুই ওয়ানডেতেও কখনো-সখনো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খানিক অস্বস্তিতে ফেলেছেন সত্য। কিন্তু ক্যানভাসটি আরো বড় করে দেখায় চিন্তার কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না মাশরাফি, ‘দুই দিনই ও ওভারপ্রতি ছয়ের বেশি রান দিয়েছে। থমাসের বলে রান করাটা তাই সমস্যা না। ওদের সেরা বোলারের বিপক্ষে যদি ওভারপ্রতি ছয় রান করে নিতে পারি, তাহলে তা আমাদের জন্য স্বস্তির। একই সঙ্গে ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দু-একটা উইকেট নিয়ে নিচ্ছে। এটি কমিয়ে আনতে পারাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ থমাসের গতির ঝড়ের পরও বাংলাদেশ প্রবলভাবে ম্যাচে থাকায় এ নিয়ে আলাদা দুশ্চিন্তার কারণ দেখেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘ও উইকেট নেওয়ার পরও কিন্তু আমরা ম্যাচে ছিলাম। রিয়াদ, সাকিব ৪১তম ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করেছে। দলের তখন তিন উইকেট পড়েছে মাত্র। পরে সৌম্য, লিটনও ব্যাটিং করেছে। এসব সত্ত্বেও শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৪ রান নেওয়ার কথা ভাবাই যায় না। যদিও সেটিই হয়েছে। তবে তা পেসের জন্য হয়নি। ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতিতে বল করা থমাসের ওভারেই কিন্তু সাকিব ১৬ রান নিয়েছে।’

ফাস্ট বোলিংয়ের ক্ষয়িষ্ণু জমিদার ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাই এখন আর গতির চোখরাঙানি দিতে পারে না বাংলাদেশকে। মাশরাফির কথায়, তার চেয়েও বেশি করে তাঁর বিরক্তিতে সেটি স্পষ্ট।



মন্তব্য