kalerkantho



পূজারার সেঞ্চুরিতে ভারতের স্বস্তি

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পূজারার সেঞ্চুরিতে ভারতের স্বস্তি

খেলার বয়স ঘণ্টা পেরিয়েছে মাত্র। ততটুকু সময়েই ভারত ৪১ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে। ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া সেই চারজনের মধ্যে আবার রয়েছেন বিরাট কোহলিও, বাইশ গজে যাঁর ব্যাটে ভবিতব্য লেখা ভারতের! তাতে উপমহাদেশের বাইরে দেশটির বিখ্যাত ব্যাটিং অর্ডারের আরেকটি ভরাডুবির আশঙ্কা জেগেছিল। তখনই বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু চেতেশ্বর পূজারার। তাঁর ১৬তম সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ২৯০ রানেই দিন শেষে ‘বিজয়’ মনে করছে ভারত।

দিনের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ২৩৬ বল খেলে নিজের পুরনো একটি রেকর্ড উন্নতও করেছেন পূজারা। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংসটি ছিল ১৩৫ বলের। তবে পুরো দলকে কাঁধে বয়ে বেড়ানোর বীরত্বই শুধু নয়, টেস্টের প্রতিকূল পরিবেশে যে মনঃসংযোগ নিয়ে খেলতে হয়—সেটির অনন্য ছবিও হয়ে থাকবেন পূজারা। তুলে মারতে না পারার অপবাদে শুধু টেস্ট এলেই ডাক পড়ে তাঁর। আর ডাক পেয়ে সে দাবি পূরণও করেন পূজারা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলেই ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন লোকেশ রাহুল। শিকারি জশ হ্যাজেলউড। সপ্তম ওভারে মুরালি বিজয়কে ফাঁদে ফেলে ফিরিয়েছেন নতুন বলে হ্যাজেলউডের সঙ্গী মিচেল স্টার্ক।

ততক্ষণে ক্রিজে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা পূজারা। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর সঙ্গে যোগ হন কোহলি, যাঁর উপস্থিতি বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিংসঙ্গীর মনেই ভরসা জোগাতে বাধ্য। কিন্তু ব্যাটিংয়ের ‘মি. ইন্ডিয়া’ও ১৬ বল খেলে চলে গেছেন সাজঘরে। আগের দুজনের মতো কোহলিও বিলিয়ে এসেছেন নিজের মহামূল্য উইকেটটি। এরপর সামান্য দম ফেলতেই আউট আজিঙ্কা রাহানে। তখন মাত্রই প্রথম ঘণ্টার খেলা শেষ হয়েছে। অ্যাডিলেডের সকালের উইকেটে বরাদ্দ সামান্য সুবিধা নিয়েই অস্ট্রেলীয় পেসাররা ভীতি ছড়িয়েছেন ভারতীয়দের মনে। ভীতিই তো, অন্তত পূজারা সেরকমই মনে করেন। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে ভারতের এ টেস্ট বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, ‘টেস্টে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাটসম্যান যদি শট খেলতে থাকে, তাহলে বুঝবেন যে সে ভয় তাড়াতে স্ট্রোক খেলছে। কিন্তু টেস্টে সেই ব্যাটসম্যানই ভালো যে কিনা ওরকম পরিস্থিতিতে কষ্ট করে রান করে।’

চেতেশ্বর পূজারার গতকালের ১২৩ রানের ইনিংসটি তেমনটি টেস্ট ব্যাটসম্যানশিপের নিখাদ সোনায় মোড়ানো। টস হারার পর স্বাগতিক অধিনায়ক টিম পেইনও আফসোস করেছিলেন, ‘আমিও ব্যাটিং নিতাম।’ পরক্ষণে অবশ্য আশার আলো দেখেছিলেন সরু টানেলের ওপ্রান্তে, ‘তবে সকালে পেসাররা কিছু সুবিধা তো পাবেই।’ স্টার্ক-হ্যাজেলউড-প্যাট কামিন্সকে সে সুবিধার ওপর ‘উপরি’ও দিয়েছে ভারতীয়দের অকারণ আগ্রাসী ব্যাটিং। ব্যাটিং অর্ডারের চার শিখণ্ডীর বিদায় দেখা পূজারা এরপর একে একে পেয়েছেন রোহিত শর্মা ও ঋষভ পান্টকে—যাঁদের ক্রিকেটে ধৈর্য বলে কোনো শব্দ নেই। তাই চার-ছক্কায় কিছু রান করে ফিরে গেছেন তাঁরাও। সে তুলনায় লোয়ার অর্ডারে নামা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে পূজারার জুটিটাই হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি। টেস্ট বিশেষজ্ঞের ব্যাটে ভারতের প্রথম ইনিংসও পেয়েছে বাড়তি আয়ু। টেল এন্ডার ঈশান্ত শর্মাকে আড়াল দিতে গিয়ে মরিয়া হয়ে ছুটেছিলেন পূজারা। কিন্তু কামিন্সের নিখুঁত থ্রো রেহাই দেয়নি তাঁকে। আজ জসপ্রিস বুমরাহ আর শর্মার মধ্যকার শেষ জুটি থেকে খুব বেশি আশা করার কথা নয় ভারতীয়দের। তবে সকালের বিপর্যয় থেকে মুক্তির স্বস্তি নিয়ে হোটেলে তো ফিরতে পেরেছে সফরকারীরা! পূর্ণ কৃতিত্ব অবশ্যই চেতেশ্বর পূজারার। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর : ভারত ৮৭.৫ ওভারে ২৯০/৯ (পূজারা ১২৩, রোহিত ৩৭, পান্ট ২৫, অশ্বিন ২৫; স্টার্ক ২/৬৩, হ্যাজেলউড ২/৫২, কামিন্স ২/৪৯, লায়ন ২/৮৩)।



মন্তব্য