kalerkantho



ড্র করে শেষ আটে বসুন্ধরা কিংস

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ড্র করে শেষ আটে বসুন্ধরা কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মৌসুমে এখনো পর্যন্ত একমাত্র ফেডারেশন কাপ ফাইনালেই হেরেছে বসুন্ধরা কিংস। তবে কাল তৃতীয়বারের মতো ড্র করেছে তারা। শেখ রাসেলের বিপক্ষে গোলশূন্য এই ড্রয়েই অবশ্য স্বাধীনতা কাপের শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী দলটির।

তবে ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে রাসেলকেও পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠা কিংসকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত সামলে রাখাটাও তো কৃতিত্ব সাইফুল বারীর দলের। ম্যাচ শেষে দেখা গেল তিনিও অসন্তুষ্ট নন, ‘এই ড্রয়ে আমরাও সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। শেখ জামালের বিপক্ষে পরের ম্যাচ না হারলেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাব।’ স্বাধীনতা কাপে এটিই প্রথম ম্যাচ শেখ রাসেলের। দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারানো মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে ছাড়া এদিনই প্রথম খেলতে নেমেছিল তারা। খেলোয়াড়দের মনের ওপর সেই দুর্ঘটনার ছাপ না থেকে পারে না। মাঠে নামার আগে ওয়ার্ম আপে আবার চোট পান উজবেক মিডফিল্ডার আলিশার আজিমভ। মাঝমাঠে জোড়া ধাক্কায় সাইফুল বারীর দলের জন্য আক্রমণ সাজানো কঠিনই ছিল। সোহেলের জায়গায় সেন্টার ব্যাক আরিফুল ইসলামকে খেলিয়েছেন তিনি। তাতে অবশ্য পাঁচ ডিফেন্ডারে কিংসকে পাহারা দেওয়াটাও সহজ হয়েছে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে মতিন মিয়ার ক্রসে মাশুক মিয়া ঠিকঠাক সংযোগ ঘটাতে পারলে ম্যাচের গল্পটা আবার অন্য রকমও হতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ডেনিয়েল কলিনড্রেসের শট দারুণ ফিরিয়েছেন রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। সাকল্যে গোল হওয়ার মতো এই দুটি সুযোগই ছিল কিংসের। এমন ম্যাচে জেতা যায় না। শেখ রাসেল ডিফেন্স জমাট রেখে কাউন্টারে ওঠার চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বিপুল আহমেদ ইনসাইড কাট করে ঢুকেও শটটা পোস্টে রাখতে পারেননি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অ্যালেক্স রাফায়েলকে হতাশ করেছেন কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান। দুই দলের দুটি করে মোট চারটি সুযোগের ম্যাচে গোল না হওয়াটা অস্বাভাবিক না। কিংস কোচ ব্রুজন এর মধ্যেও ইতিবাচক দেখছেন। সেটা হলো মৌসুমে এই প্রথম টানা দুটি ম্যাচ ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে তারা।

ফেডারেশন কাপে বাজে ডিফেন্ডিং ভুগিয়েছে নামিদামি দলটিকে। স্বাধীনতা কাপের শুরু থেকেই তাই সেদিকে তাদের কড়া মনোযোগ। ফেডারেশন কাপে ১-১ গোলে ড্র করা শেখ জামালকে এই টুর্নামেন্টের শুরুতেই হারিয়েছে তারা ২-০ গোলে। কাল গোল করতে না পারলেও নিজেদের পোস্ট তারা ঠিকই অক্ষুণ্ন রেখেছে। সন্দেহ নেই, কিংস এই ম্যাচে একচেটিয়া ফুটবল খেলেছে। কিন্তু খেললে কী হবে রাসেলের ডিপ ডিফেন্ডিংয়ের সামনে পরিষ্কার সুযোগ তারা বের করতে পারেনি। কখনো কখনো তাদের ৮-৯ জন ছিল বলের পেছনে। পোস্টের মুখে কিংসের ফাইনাল পাসগুলো কোনো না কোনোভাবে আটকে যাচ্ছিল।

কাল কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীরও। প্রথম ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধাকে তারা হারিয়েছিল ২-১ গোলে। সেই মুক্তি কাল ব্রাদার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ আটের টিকিট পেয়ে গেছে আকাশি-নীলরা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই লিওনার্দো লিমা ব্রাদার্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, ২৪ মিনিটেই মুক্তিযোদ্ধাকে সমতায় ফিরিয়েছেন সুজন। শেষ ম্যাচে আবাহনীর কাছ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ব্রাদার্সের সুযোগ আছে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার।

বসুন্ধরা কিংস : আনিসুর; সাদ্দাম, নাসির, গোতর, সুফিল; মাশুক (নাঈম), ইমন, আলমগীর (সোহান), বখতিয়ার; মতিন, কলিনড্রেস (বিশাল)।

শেখ রাসেল : আশরাফুল; ইয়ামিন, ইয়াসিন, আলিসন, বিশ্বনাথ; আরিফ, ফজলে রাব্বী (মেজবাহ), বিপলু (রুম্মন); খালেকুরজামান, অ্যালেক্স, রাফায়েল।



মন্তব্য