kalerkantho



রূপকথার প্রত্যাবর্তন সুইসদের

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রূপকথার প্রত্যাবর্তন সুইসদের

দ্বৈরথ বেলজিয়াম-সুইজারল্যান্ডের; সেটিও উয়েফা নেশনস লিগের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার ম্যাচ মাত্র। সে কারণেই হয়তো ফুটবল-রূপকথায় জায়গা পাবে না খেলাটি। কিন্তু পরশু খাদের অতল থেকে প্রত্যাবর্তনের যে গল্প লিখল সুইসরা, উত্তরসূরিরা অনুপ্রেরণার জন্য এই ম্যাচটিতে ফিরে যাবেন বারবার।

০-২ গোলে পিছিয়ে থেকে ৫-২ গোলে জেতা তো যেনতেন অর্জন নয়। আর তাতেই উয়েফা নেশনস লিগের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখাল সুইজারল্যান্ড। পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের পর তৃতীয় দল হিসেবে। লিগ ওয়ানের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডসের মধ্যে এক দল যোগ হবে তাদের সঙ্গে।

লিগ ওয়ানের দুই নম্বর গ্রুপ থেকে চূড়ান্ত পর্বে ওঠায় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বেলজিয়াম। প্রথম তিন ম্যাচের জয়ে ৯ পয়েন্ট তাদের। দুই জয়ে সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট ছিল ছয়। গ্রুপের শেষ ম্যাচের মুখোমুখি লড়াইয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্টদের তাই ড্র করলেই চলত। সেখানে কিনা ১৭ মিনিটের মধ্যে থোরগান হ্যাজার্ডের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম! চূড়ান্ত পর্বে যেতে আর কী চাই!

সুইসদের কঠিন সমীকরণ মেলানো ততক্ষণে অসম্ভব প্রায়। ১-০ বা ২-১ গোলে জিতে শিরোপা লড়াইয়ে থাকার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নিজেদের মাঠে শুরুতে ওভাবে পিছিয়ে পড়ার পর মুখামুখি লড়াইয়ের অ্যাওয়ে গোল ব্যবধান বিবেচনায় অন্তত দুই গোলে জেতার বাধ্যবাধকতার সামনে পড়ে সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ, আর গোল না খেলেও জিততে হবে ৪-২ গোলে। বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের বিপক্ষে সেটি সম্ভব বলে ভাবেনি কেউ। কিন্তু হারিস সেফেরোভিচের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে রিকার্দো রদ্রিগেজ ও নিকো এলভেদির লক্ষ্যভেদে ৫-২ গোলে জিতে যায় তাঁরা। ফলে দুই দলের পয়েন্ট হয়ে যায় সমান ৯। বেলজিয়াম ঘরের মাঠে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছিল ২-১ গোলে। মুখোমুখি লড়াইয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে তাই আগামী জুনের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখায় সুইসরা।

এমন জয়ে কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত, ‘এই তরুণ দলটিকে নিয়ে আমি গর্বিত। দ্বিতীয় গোল হজমের পর আমরা শান্ত থাকতে চেয়েছি, যেন তৃতীয় গোল না খাই। এরপর চেয়েছি ধীরে ধীরে খেলায় ফিরতে।’ ধীরে নয়, সাইক্লোনের গতিতেই ফিরেছে সুইজারল্যান্ড। তাতেই শিরোপাস্বপ্ন ধূলিসাৎ বেলজিয়ামের।

এ ছাড়া পরশু উয়েফা নেশনস লিগের অন্যান্য খেলায় অস্ট্রিয়া ২-১ গোলে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে, এস্তোনিয়া ১-০ গোলে গ্রিসকে, হাঙ্গেরি ২-০ গোলে ফিনল্যান্ডকে, বেলারুশ ২-০ গোলে সান মারিনোকে হারিয়েছে। ১-১ ড্র হয়েছে মলদোভা-লুক্সেমবার্গ ম্যাচ।

এদিকে লিগ ওয়ানের চার নম্বর গ্রুপে স্পেনের ভাগ্য বাঁধা ছিল ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে। ওই খেলাটি ড্র হলেই শুধু চূড়ান্ত পর্বে যেতে পারত ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। ওয়েম্বলির ম্যাচটি ৮৪তম মিনিটেও ছিল ১-১ ড্রতে। কিন্তু ৮৫তম মিনিটে হ্যারি কেইনের গোলে জিতে যায় ইংল্যান্ড। স্পেন-ক্রোয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত পর্বে উঠে যায় গ্যারেথ সাউথগেটের দল। গ্রুপে স্পেনের খেলা শেষ হয়ে যায় আগেই। পরশু প্রীতি ম্যাচে খেলে তারা বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার সঙ্গে। ৭৮তম মিনিটে করা ব্রাইস মেনদেসের গোলে জেতে ১-০ ব্যবধানে। সেটি কি আর স্পেনের জন্য নেশনস লিগের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে না পারার ব্যর্থতায় সান্ত্বনার প্রলেপ হতে পারে! এএফপি



মন্তব্য