kalerkantho



প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে জাতীয় দলে সাদমান

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে জাতীয় দলে সাদমান

এর আগে প্রাথমিক দলে থাকা সাদমান প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে এই প্রথমবারের মতো ঢুকে পড়লেন মূল স্কোয়াডে। সবশেষ জাতীয় লিগে ৬৪.৮০ গড়ে করেছেন টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬৪৮ রান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সব সময় ১৫ জনের হলেও এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াড ছিল ১৩ জনের। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফার্স্ট ক্লাস আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) সামনে রেখেই কলেবর কমানো হয়েছিল। যদিও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন দল দেওয়ার আগের দিন একটি ফুটনোটও জুড়ে দিয়েছিলেন, ‘খুব ভালো খেললে প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে কাউকে আমরা নিতেও পারি।’

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে যাওয়া জাতীয় দলের হেড কোচ স্টিভ রোডসের সামনেই সাদমান ইসলাম খেললেন ৭৩ রানের এক প্রত্যয়ী ইনিংস। যেটিতে এই ওপেনার বজায় রাখলেন তাঁর দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ উপযোগী ব্যাটিংয়ের সুনামও। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সব পর্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও খেলা এই তরুণের জন্য তাই খুলে গেল জাতীয় দলের দরজাও। এর আগে প্রাথমিক দলে থাকা সাদমান প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে এই প্রথমবারের মতো ঢুকে পড়লেন মূল স্কোয়াডে। সবশেষ জাতীয় লিগে ৬৪.৮০ গড়ে ৬৪৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারের সঙ্গে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জমাট প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন এক বছরেরও বেশি টেস্ট দলের বাইরে থাকা সৌম্য সরকারও। তাঁর ব্যাটে বেরিয়েছে ৭৮ রানের দাপুটে ইনিংস।

৬ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে ম্যাচের প্রথম দিন শেষ করা ক্যারিবীয়রা গতকাল সকালে ঘোষণা করে প্রথম ইনিংস। জবাবে দুই ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার কেমার রোচ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েলদের দারুণ সামলে প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৮৫ রান তুলে দেন বিসিবি একাদশের দুই ওপেনার সৌম্য-সাদমান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর অবশ্য সৌম্য রানের গতি বাড়ান। লেগস্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি পার করা এই ব্যাটসম্যান ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথেও। তবে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ হয়ে থামে সৌম্যর ১০২ বলে খেলা ৭৮ রানের ইনিংস। যে ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ বাউন্ডারির পাশাপাশি তিনটি ছক্কা দিয়েও। আউট হওয়ার আগে সাদমানকে নিয়ে ৩৪.২ ওভারে ওপেনিংয়ে ১২৬ রানের পার্টনারশিপও গড়া হয়ে গিয়েছিল তাঁর। গত বছর অক্টোবরে ব্লুমফন্টেইনে নিজের সবশেষ টেস্ট খেলা সৌম্য তাই এই ইনিংসে নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নিলেন অনেকটা।

আর সবশেষ ফার্স্ট ক্লাস আসরে সর্বোচ্চ রান করা সাদমান প্রস্তুতি ম্যাচেও আরেকবার প্রমাণ করলেন বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে নিজের উপযোগিতা। ওপেনিং সঙ্গীর বিদায়ের পর তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকতে চেয়েছেন আরো। নাজমুল হোসেনকে (শান্ত) নিয়ে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপে তাই ১৬.৪ ওভারে ওঠে মাত্র ৪৭ রান। রোচের বলে নাজমুলের (২১) বিদায়ের পর অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি সাদমানও। মোহাম্মদ মিঠুনের (২৭*) সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে রান আউটে শেষ হয় তাঁর ১৬৯ বলের ইনিংস। অবশ্য তাঁর ৭৩ রানের ইনিংসেও ১০টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল একটি ছক্কার মার। সাদমানের বিদায়ের পর দ্রুতই জাকির হাসান (১৮) ও টেস্ট দলে জায়গা হারানো লিটন কুমার দাশকেও (১) হারায় বিসিবি একাদশ। এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি মিঠুন ও ফজলে রাব্বি। ১২২ মিনিট উইকেটে থেকে ৭০ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মিঠুন। আর ২৮ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন ফজলে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে দুই অধিনায়কই ড্র মেনে নেওয়ার সময় বিসিবি একাদশের রান ৫ উইকেটে ২৩২ রান। বিসিবি একাদশের সারা দিনের ব্যাটিং স্বস্তির কারণ হয়ে এসেছে জাতীয় দলের জন্যও। টেস্ট প্রত্যাবর্তনের আগে যে দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেন সৌম্য। আর জাতীয় দলে ঢোকার জন্য শেষ পরীক্ষায় উতরে গেলেন সাদমানও। সবশেষ জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচেই নিজের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫৭ রানের ইনিংস খেলা এই তরুণ পরের ম্যাচেই ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন নিজেকে। ডাবল সেঞ্চুরি পেতে পেতেও না পাওয়া সাদমান আউট হয়েছিলেন ১৮৯ রানে।



মন্তব্য