kalerkantho



শেখ জামালের প্রস্তুতি

চ্যাম্পিয়নদের উন্নতি নাকি জামালের ষষ্ঠ ফাইনাল

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চ্যাম্পিয়নদের উন্নতি নাকি জামালের ষষ্ঠ ফাইনাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাকারিয়া বাবু কি একটু চাপে আছেন! বিদেশি কোচ ছাড়া সাধারণত যাদের রোচে না সেই আবাহনী চেপেছে এই দেশি কোচের ঘাড়ে। টক্করটা হবে পোড় খাওয়া বিদেশি যোশেফ আফুসির সঙ্গে। মাঝেসাঝে এই ইংলিশ কোচের সঙ্গে মতান্তর হলেও তাঁকে হাতছাড়া করে না শেখ জামাল ধানমণ্ডি। এই কুশলী কোচের সঙ্গে লড়েই ফাইনালে উঠতে হবে দেশি জাকারিয়াকে। তবেই ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে থাকবে আবাহনী।

কিন্তু ঐতিহ্যবাহীর এই স্বপ্ন ভুণ্ডুল করার সামর্থ্য রাখে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। পরিসংখ্যানেও এগিয়ে জামাল এবং দুই গাম্বিয়ানে তারা এই মুহূর্তে দুরন্ত। ওদিকে চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর খেলাও খুলছে। সুবাদে দুর্দান্ত এক ম্যাচের পসরা সাজিয়ে হাজির হচ্ছে ফেডারেশন কাপের প্রথম সেমিফাইনালটি।   

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জাকারিয়া বাবুর ক্যারিয়ারে। আবাহনীর মতো ‘হাই-প্রফাইল’ দল আগে সামলাননি, নেই অমন ‘হাই-প্রফাইল’ ম্যাচের অভিজ্ঞতাও। সুতরাং ফোকাসটা বেশি থাকবে এই দেশি কোচের দিকেই, আবাহনীকে সেমির হার্ডল পার করে নিতে পারলে তাঁর জন্য হবে বিশাল ঘটনা। তিনি অবশ্য নিজের কথার চেয়ে দলের অবস্থার কথা বলেছেন বেশি, ‘দলটি আরামবাগের ম্যাচটি অনেক গুছিয়ে খেলেছে, উন্নতিটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নইলে দু-দুবার পিছিয়ে পড়েও আমরা জিততে পারতাম না। আবাহনীর খেলায় ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে।’ গ্রুপের খেলায় সে রকম সুরভি ধরা পড়েনি, মামুনুল ইসলামের গোলে প্রথম ম্যাচ কোনো রকমে পার হয়ে গেলেও হেরে বসে শেখ রাসেলের বিপক্ষে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে আরামবাগের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে তারা দুর্দান্ত খেলেছে। দুইবার পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরা আবাহনী সেমিফাইনালে ওঠে বেলফোর্টের গোলে।

তাদের তুলনায় অবশ্য কঠিন হার্ডল পেরিয়েছে শেখ জামাল। দুই গাম্বিয়ানের চমৎকার তালমিলে শক্তিশালী সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। উইং অ্যাটাকে তাদের চেয়ে ভালো দল নেই এই মুহূর্তে। সলোমন কিং, সাইনে বোজাংয়ের গতি ও পায়ের জাদুতে খেই হারিয়ে ফেলে প্রতিপক্ষ রক্ষণ। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো দুই গাম্বিয়ানের মতো সপ্রতিভ হলে শেখ জামালে গোলের অভাব হয় না। তাদের কোচ যোশেফ আফুসি শুধু বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে নেই, ‘বিদেশিরা ভালো খেলছে, উইংয়ে দুই গাম্বিয়ানের খেলা বিশেষভাবে চোখে পড়লেও দেশি ফুটবলাররা খুব ভালো খেলছে। চার মাসেরও বেশি ট্রেনিংয়ে থাকায় দলের ভেতর সমন্বয় বেড়েছে, খেলা নিখুঁত হয়েছে। টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচে আমরা খারাপ খেলিনি। এই ম্যাচটিও আমাদের জেতা উচিত।’ সঙ্গে শেখ জামাল ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম যোগ করেন, ‘আমরা সাধারণত আবাহনীর সঙ্গে ভালো খেলি। আশা করি, এই ম্যাচেও খেলোয়াড়রা সেই ধারা অব্যাহত রাখবে, তবে ভালো রেফারিং চাই।’

পরিসংখ্যানও বলছে, দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ে শেখ জামালের এগিয়ে থাকার কথা। ফেডারেশন কাপে দুই দলের পাঁচবারের মুখোমুখিতে শেখ জামাল জিতেছে তিনটি, আবাহনী দুটি আর একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। তা ছাড়া ফেডারেশন কাপে তারা পয়া দল। ২০১০ সালে দেশের শীর্ষ ফুটবলে অভিষেকের পর সাত মৌসুমের পাঁচটিতেই তারা ফাইনাল খেলেছে এবং শিরোপা জিতেছে তিনবার। গত দুই আসরে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় তারা। সেই দুর্ভাগ্য কাটিয়ে শেখ জামাল যেমন ষষ্ঠ ফাইনালে ওঠার মিশন নিয়ে এবার তেমনি আবাহনীরও বড় স্বপ্ন। এবার টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলে তাদের হ্যাটট্রিক জয় হবে। অতশত না ভেবে আবাহনী কোচ জাকারিয়া বাবু থাকতে চান সেমিফাইনালে, ‘ফাইনাল, হ্যাটট্রিক পরে; আগে আমাদের সেমিফাইনাল জিততে হবে। এই ম্যাচ জেতার দায়িত্ব যতটুকু বিদেশিদের ঠিক ততটাই দেশিদের। দেশি ফুটবলারদের ভালো খেলা আমাদের সুবিধার দিক। তাদের পায়ে গোল হচ্ছে।’ দেশিদের মধ্যে গোল পেয়েছেন মামুনুল ইসলাম ও সোহেল রানা। কিন্তু এখনো ঠিক জমে ওঠেনি দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড হাইতিয়ান বেলফোর্ট ও নাইজেরিয়ান সানডের জুটি। তাঁদের কাছে সেমিফাইনালে বড় কিছু প্রত্যাশা করেন কোচ, ‘জামালের গাম্বিয়ানরা ভালো খেলেছে। আমাদের সানডে-বেলফোর্ট যেন ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে আরামবাগের ম্যাচে। কালকের (আজ) বিগ ম্যাচে তাদের জ্বলে উঠতে হবে।’

বিরতির পর সবাই তরতাজা হয়ে ফিরবেন মাঠে। ছোটখাটো চোট সারিয়ে দুই পক্ষই ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে নামবে সেমিফাইনালে। সুতরাং ভালো একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করতেই পারে সবাই।



মন্তব্য