kalerkantho



সিরিজ সেরা তাইজুল

জিম্বাবুয়ের সিরিজ ড্র করার তৃপ্তি

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জিম্বাবুয়ের সিরিজ ড্র করার তৃপ্তি

ছবি : লুৎফর রহমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজ জেতেনি জিম্বাবুয়ে। একটি করে জয়-হারে ড্র-ই তো করেছে শুধু। কিন্তু গত ১৭ বছর যে দলটি দেশের বাইরে টেস্ট জেতেনি, তাদের কাছে এই ড্র-ই তো অনেক কিছু। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার কথায় সে গর্বের রেশ।

“১-১ সিরিজ ড্র করাটাকে আমি ঠিক ‘জয়’ হিসেবে দেখছি না। তবে দলের পারফরম্যান্সে সত্যি খুব খুশি। আমরা দারুণ লড়াই করেছি। এই টেস্টের প্রায় পুরোটা সময় পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও হাল ছাড়িনি। যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি আনন্দিত”—বলেছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। নিজের তৃপ্তির জায়গাটি উল্লেখ করেন তিনি, ‘দল হিসেবে আমরা যে কী করতে পারি, দুই টেস্টে খেলার ধরনে আমরা তা বুঝিয়ে দিয়েছি। এটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির। সামনে এগিয়ে চলার পথে যা দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এমন লড়াই আমাদের আরো শক্তপোক্ত করবে, এখান থেকে শেখারও রয়েছে অনেক। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের কন্ডিশনে খেলা পৃথিবীর যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন। সেখানে আমরা ওদের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এটি সত্যি খুব ইতিবাচক দিক।’

ঢাকা টেস্টে বেশির ভাগ সময় ব্যাকফুটে ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে চার উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচ জয় সম্ভব বলেও দাবি করে যান মাসাকাদজা, ‘তখন ভেবেছিলাম, আমাদের জন্য ম্যাচে ফেরা সম্ভব। কেননা ক্রিকেটে কী হবে, কেউ জানে না। অমন শুরুর পর যদি বাংলাদেশকে দ্রুত অল আউট করে আমাদের লক্ষ্যটা ৩২০-৩৫০ রানের মধ্যে রাখতে পারতাম, তাহলে জয়ের সুযোগ ছিল। কারণ এই উইকেট ধারণা অনুযায়ী খারাপ হয়নি বা খারাপ আচরণ করেনি। শুরুর চার উইকেটের পর আরো দু-একটি উইকেট নিতে পারলে ওদের চাপে ফেলা যেত।’ তা হয়নি। পঞ্চম দিনের উইকেটে কাজটি কঠিন বলেও মানছেন তিনি, ‘টেস্টের পঞ্চম দিনের উইকেটে খারাপ শট, ভালো বলের দুটি ব্যাপারই থাকে সব সময়। কিছু বাজে শট থাকবে, কিছু বল থাকবে যা খেলা অসম্ভব। সত্যি বলতে কি, এখানে পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করাটা সত্যি কঠিন। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি, খুব বেশি রকম চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত হয়তো হার ঠেকাতে পারিনি। কিন্তু ছেলেদের চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। পুরো ম্যাচে ওরা যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি এ দল নিয়ে গর্বিত। আমরা শুরুর দিকেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ি। কিন্তু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়িনি। লড়াই চালিয়ে গেছি একেবারে শেষ পর্যন্ত। এ জায়গাটি বড্ড আনন্দের।’

পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রেন্ডন টেলর। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসেই করেন সেঞ্চুরি। ওই সতীর্থের সামর্থ্যে কুর্নিশ করে বাকিদের পারফরম্যান্সেও আনন্দিত অধিনায়ক, ‘বিশ্বমানের খেলোয়াড় ব্রেন্ডন টেলরের কাছ থেকে এটি ছিল বিশ্বমানের পারফরম্যান্স। ও আমাদের দেখিয়েছে, এ কন্ডিশনে কিভাবে ব্যাটিং করতে হয়। দুই ইনিংসে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা দারুণ ব্যাপার। কাইল জার্ভিসও খুব ভালো বোলিং করেছে। সিলেটে টেন্ডাই চাতারাও। সিমাররা প্রতি ম্যাচেই শুরুতেই আমাদের উইকেট এনে দিয়েছে। সিলেটে স্পিনাররাও করেছে ভালো। এ সিরিজটি আমাদের জন্য ছিল দারুণ টিম পারফরম্যান্সের। সবাই যার যার জায়গা থেকে অবদান রাখাটা অনেক বড় ব্যাপার।’ সফর থেকে নিজের শিক্ষা নিয়েও খুশি তিনি, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে এ সিরিজ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আসলে ক্রিকেটার হিসেবে শেখার কোনো শেষ নেই। আর অধিনায়ক হিসেবে শেখার সিংহভাগ হয় ফিল্ডিং করার সময়। যেভাবে ম্যাচ খেলেছি, তাতে পরেরবার বাংলাদেশ সফরে খুব কাজে দেবে। সত্যি বলতে কি, শুধু ব্যাটসম্যান না অধিনায়ক হিসেবে আমি এ সিরিজ থেকে যা শিখেছি—সেটিই আমার জন্য বড় শিক্ষা।’

না হয় সিরিজ জিততে পারেনি, কিন্তু বাংলাদেশকেও তো টেস্টের বড় এক ‘শিক্ষা’ দিয়ে গেল এই জিম্বাবুয়ে!



মন্তব্য