kalerkantho



ম্যাচ নিজেদের দিকেই আছে

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঢাকা টেস্টে ‘ক্রিজের অন্য প্রান্তের’ নাম তাহলে মেহেদী হাসান মিরাজ!

কিভাবে? প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরির সময় ছিলেন ক্রিজের অন্য প্রান্তে। দ্বিতীয় ইনিংসে কাল মাহমুদ উল্লাহর সেঞ্চুরির সময়ও। ক্যানভাস আরেকটু বড় করে তাঁর বোলিংয়ে দেখুন। প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলামের পাঁচ উইকেটের বিপরীতে তাঁর তিন শিকার। অর্থাৎ এখানেও অন্য প্রান্ত থেকে সতীর্থের কীর্তিতে দেন সঙ্গ। এই টেস্টের ‘ক্রিজের অন্য প্রান্ত’ মিরাজই।

এতে অবশ্য অখুশি নন এই বোলিং অলরাউন্ডার। ৬৮ ও ২৭ রানের অপরাজিত দুটি ইনিংসের চেয়ে সতীর্থদের বড় দুই ইনিংসের সঙ্গী হওয়ার তৃপ্তি খেলে যায় কাল মেহেদীর কণ্ঠে, ‘আমাদের কাছে দল সবার আগে, সবাই দলের জন্যই খেলি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে, আমি একজনের ডাবল সেঞ্চুরিতে সঙ্গী ছিলাম, একজনের সেঞ্চুরিতে ছিলাম। আমার মনে অনেক খুশি। আমি কখনই আফসোস করিনি যে, আমার সেঞ্চুরি হলো না। ভবিষ্যতে হয়তো হবে।’ বোলিংয়ে তাইজুল সব আলো কেড়ে নেওয়াতেও আপত্তি নেই তাঁর, ‘তাইজুল ভাই প্রথম টেস্ট থেকেই দারুণ বোলিং করছে। উইকেটগুলো তাঁর প্রাপ্য। আমিও তাঁকে সমর্থনের চেষ্টা করছি। এখন দুজনই যদি ভালো বোলিং করি, তাহলে তো ওরা অল্প রানে অল আউট হয়ে যাবে (হাসি)। ক্রিকেটে একজন উইকেট নেওয়া ও আরেকজনের সমর্থন দেওয়ার ব্যাপার হয়ই। এখন কাল (আজ) আমার ও তাইজুল ভাইয়ের ভালো করার সুযোগ আছে।’

সেই সুযোগের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে জিম্বাবুয়ের দুই উইকেট তুলে নেওয়া গেছে, আজ চাই আরো আটটি। তাহলে জিম্বাবুয়ের কাছে বিব্রতকর সিরিজ হার এড়ানো যাবে। দুই স্পিনার মেহেদী ও তাইজুলের দিকে তাই খুব করে তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা। ম্যাচটি নিজেদের দিকে হেলে আছে বলে কাল চতুর্থ দিন শেষে দাবি করে যান ওই অফস্পিনার, ‘এখন পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের দিকে। ওদের সাড়ে চার শর মতো টার্গেট দিয়েছি; তুলে নিয়েছি দুই উইকেট। কাল শেষ দিনে আমাদের বোলাররা যদি ভালো লেন্থে বল করতে পারি, তাহলে ম্যাচটি আমাদের দিকেই থাকবে।’ মিরপুরে পড়ন্ত সূর্যের আলোয় জিম্বাবুয়ের দুই উইকেট তুলে নেওয়া গেল বলে রক্ষা! নইলে ২৩ ওভার স্থায়ী ওপেনিং জুটির সময় স্বাগতিকদের কপালে চিন্তার রেখা বাড়ার কারণ ছিল যথেষ্ট। দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করতে কি দেরি করে ফেলল বাংলাদেশ!

স্বাগতিক ক্যাম্পের ভাবনা যে তেমন না, সেটি বলে যান মেহেদী, ‘জিম্বাবুয়েকে অল আউট করতে চার সেশন যথেষ্টর চেয়েও বেশি। ওদের ১২০-১২৫ ওভার ব্যাট করতে হবে। চতুর্থ ইনিংসে এটি অনেক। টিম ম্যানেজমেন্ট সব দিক বিবেচনা করেই ইনিংস ঘোষণা করেছে। সবাই চেয়েছি, কোনোভাবেই যেন আমরা কোণঠাসা অবস্থায় না যাই।’ সুযোগ থাকলেও জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করায়নি বাংলাদেশ। কারণ তারা চতুর্থ ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ব্যাট করাতে চেয়েছে বলে জানান দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা ওই অলরাউন্ডার, ‘ওরা দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করে আমাদের এক-দেড় শ রানের টার্গেট দিতে পারত। আমরা কেন সে ঝুঁকি নিতে যাব! চেষ্টা করেছি ওদের শেষ ইনিংসে ব্যাটিং করাতে। তখন উইকেট ভেঙে যাবে, বল টার্ন করবে, দ্রুত উইকেটের পতন ঘটবে।’

নিজেরা চার শর বেশি টার্গেট দিতে চেয়েছিলেন বলে জানান মেহেদী। দল দান ছাড়ে ৪৪৩ রানের লক্ষ্য দিয়ে। ওই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া তো আর করবে না জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ২৩ ওভারের ওপেনিং জুটির সময় ক্রিজ কামড়ে পড়ে থেকে ম্যাচ ড্রর সুযোগ তৈরি করেছিল জিম্বাবুয়ে। অবশ্য ওই ওপেনিং জুটির সময়ও বাংলাদেশ বিচলিত হয়নি বলে দাবি মেহেদীর, ‘রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাইরা বলছিলেন, এই উইকেটে জুটি হতেই পারে; কিন্তু একটা উইকেট গেলে পর পর উইকেট পড়তে থাকবে। ওনারা তাই বলছিলেন, বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ভালো জায়গায় বল করে যেতে হবে। উইকেট পড়লেই ওরা চাপে পড়ে যাবে।’

এক উইকেট পড়েছে, দ্রুত দ্বিতীয়টিও। আজ বাকি আট উইকেট নেওয়ার চ্যালেঞ্জ স্বাগতিকদের। যে চ্যালেঞ্জে না জিতলে হেরে যাবে বাংলাদেশ।



মন্তব্য