kalerkantho



আমাদের কারো জন্য ৩০০ করা অসম্ভব না

সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছিল আগের দিনই। তবু সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। অপরাজিত ছিলেন যে! কাল ডাবল সেঞ্চুরি করে, দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস খেলে মুশফিকুর রহিম এলেন গণমাধ্যমের সামনে। হাসিখুশি। আনন্দিত। উচ্ছ্বসিত। এমন প্রাণখোলা মুশফিককে তো দেখা যায় না তেমন। ডাবল সেঞ্চুরিটি তাঁর কাছে কতটা স্পেশাল, উত্তরগুলোয় চোখ বোলালেই বোঝা যাবে তা

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আমাদের কারো জন্য ৩০০ করা অসম্ভব না

ছবি : মীর ফরিদ

ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান ও নিজের ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে

আসলে প্রথম ইনিংসের রান খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট আস্তে আস্তে খারাপ হচ্ছে। কাল আরো উল্টাপাল্টা আচরণ করবে। এ জন্য প্রথম ইনিংসটা যত বড় করা যায়, সে চেষ্টা করেছি। চেয়েছি আমাদের যেন পরে আবার ব্যাট না করতে হয়। সেদিক থেকে শুধু আমি না, মমিনুলও অনেক ভালো ব্যাট করেছে। মিরাজও। আর নিজের কথা বললে ডাবল সেঞ্চুরি একা করা যায় না, বড় জুটি লাগে। যাঁরা আমাকে সঙ্গ দিয়েছে, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

টেস্টে অনেক দিন খারাপ ফর্মে থাকার পর এত বড় স্কোর প্রসঙ্গে

টেস্টে খুব খারাপ ছন্দে ছিলাম, তা বলব না। হয়তো বড় রান আসেনি। কিন্তু জানতাম বড় ইনিংস পাওয়াটা সময়ের ব্যাপার। ভাগ্য একটু পক্ষে থাকলেই ফিফটিকে বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারব, এমন বিশ্বাস ছিল। এবার প্রস্তুতিও ছিল অনেক ভালো। সেদিক থেকে অবশ্যই অনেক ভালো লাগছে। কারণ ডাবল সেঞ্চুরি করা কখনোই সহজ নয়। আর মিরপুরের উইকেট যে কতটা অনিশ্চিত চরিত্রের, তা তো সবাই জানে।

ডাবল সেঞ্চুরির পরের উদ্‌যাপন নিয়ে

উদ্যাপনের কথা বললে, এই ইনিংসটি আমার স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছি। ও আমাকে সব সময় উৎসাহ জোগায়; কালও (পরশু) অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। আর এটি ছিল ২০১০ সালের পর দেশের মাটিতে আমার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। আর মিরপুরের এই মাঠে প্রথম। এটা আমার জন্য মাইলফলক।

দুই ডাবল সেঞ্চুরির মধ্যে এগিয়ে কোনটি

এগিয়ে রাখার সময় আসেনি। যদি এ ম্যাচটি জিততে পারি, তাহলে এটাই এগিয়ে থাকবে। কারণ আমরা গলে ড্র করেছিলাম। তুলনা করলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ইনিংসটাকে গলের তুলনায় অনেক নিশ্ছিদ্র বলতে পারেন। এটি আমার সেরা বলব না, তবে ভালো ইনিংস ছিল।

১৯০-এর ঘরে স্নায়ুচাপে ভোগা প্রসঙ্গে

নব্বইয়ের ঘরে স্নায়ুচাপে ভোগেন না, এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই। শচীন টেন্ডুলকারও অনেকবার ওখানে আউট হয়েছেন। যদিও আমি তাঁর পর্যায়ের ব্যাটসম্যান নই। ওই সময় আমি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। মাথায় ছিল, আরেকটু পরিশ্রম করলে ডাবল সেঞ্চুরি হতে পারে। তার চেয়ে বড় কথা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা। চিন্তা করেছি, এমন না যে ডাবল সেঞ্চুরি না হলে আমি কালকেই মারা যাব।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড প্রসঙ্গে

আমাদের তামিম, সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। আমরা এখন জানি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারে। অবশ্যই মনের ভেতর ছিল সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের জায়গাটি আমি আবার ফিরে পাব। আর নিজেদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থাকা খুব জরুরি। এতে দলের সুবিধা হয়। সেদিক থেকে অবশ্যই ভালো লেগেছে। আর আমি এই ইনিংসে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে খেলেছি। প্রিয় শটগুলো না খেলেও যে রান করতে পারি, সে বিশ্বাস এসেছে নিজের মধ্যে। এটা এই ইনিংসের বড় অর্জন।

সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরির পর ভিন্ন ধরনের উদ্‌যাপন নিয়ে

মিরপুরে এটি আমার প্রথম সেঞ্চুরি। আর আমরা সিরিজে পিছিয়েও আছি। সব মিলে সেঞ্চুরির পর উদ্যাপনে এর বহিঃপ্রকাশ। আর আজকের পরিকল্পনা ছিল, ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারলে তা স্ত্রীকে উৎসর্গ করব। কারণ আমার পেছনে ওর অনেক অবদান। আপনারা জানেন, আমি অনেক সময় মন খারাপ করে থাকি। বিয়ের পর এ জায়গায় অনেক উন্নতি হয়েছে। সন্তান হওয়ার পর তো আরো বেশি। আমার মোবাইলের স্ক্রিনে থাকে ওর ছবি। ওর একটু হাসি দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। সব কিছু মিলিয়ে ডাবল সেঞ্চুরিতে আমি খুব আনন্দিত।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে ৩০০ কবে আসবে, সে প্রসঙ্গে

আমি যে পারব, সেটি নিজে বিশ্বাস করি। প্রথমে যখন ডাবল সেঞ্চুরি করেছি, তখন মনে হয়নি—এটা প্রথম বা আবার কবে করব। নিজের ওপর ও রকম বিশ্বাস ছিল না। এখন আরেকটা ডাবল সেঞ্চুরি করার পর নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরেছে যে, এ রকম আরো বড় বড় ইনিংস খেলতে পারব। আমার মনে হয় আমাদের টপ অর্ডারদের কারো জন্য ৩০০ করা অসম্ভব না। আশা করছি, মমিনুল দ্রুত ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে যাবে। তা পেয়ে গেলে আরো বড় কিছু করার সামর্থ্য ওর রয়েছে।

উইকেটকিপিং তাঁর ব্যাটিংয়ে সাহায্য করা নিয়ে

কিপিং আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করে। এমন নয় যে, কিপিং করলে প্রতি ম্যাচেই এক শ বা দুই শ করব। কিন্তু এটা আমাকে সাহায্য করে। এখন টিম ম্যানেজমেন্ট কী চাইবে, সেটা তাদের ব্যাপার। অনেক সময় কিপিং ও ব্যাটিংয়ে পরিশ্রম বেশি হয়ে যায়। কিন্তু আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জ, এবং আমি চ্যালেঞ্জ উপভোগ করি। সামনে আমাকে কিপিংয়ের দায়িত্ব দিলে আরো ভালো কিছু দলকে দিতে পারব বলে আশাবাদী।

পাঁচ বছর আগের ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে এখনকার মুশফিকের পার্থক্য নিয়ে

পরিবর্তন যদি কিছু থাকে, তাহলে আমার দাড়িটা বড় হয়েছে (হাসি); এ ছাড়া কিছু না। আগের ডাবল সেঞ্চুরিতে আমার প্রিয় শটে অনেক রান করেছি। কিন্তু এবার সেটি ছাড়াও অনেক রান করতে পেরেছি। শেষ পাঁচ-সাত বছরে আমি লো রেঞ্জ শটেও অনেক বেশি রান করতে পারি। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।       

মেহেদী হাসানের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে

মিরাজের সঙ্গে ব্যাটিং আমি সব সময় উপভোগ করি। ও প্রাণবন্ত একজন সঙ্গী; খুব মজার ছেলে। ও আমাকে ক্রিজে যেভাবে বোঝাচ্ছিল মনে হচ্ছিল, ও দুই শ রানে ব্যাট করছে, আমি মাত্র ক্রিজে এসেছি (হাসি)। ওর মাঝে অনেক সম্ভাবনা আছে। আজ যেভাবে ব্যাটিং করেছে তাতে ও আগামী দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে পারে। আর একটা ব্যাপার ভালো লাগছে, টেস্টে ওর দুইটা ফিফটি, দুইবারই মিরাজের সঙ্গে আমি ক্রিজে ছিলাম। আর একটা ও মিস করেছে। গলে গত বছর ও মনে হয় ৪৫ রান করেছিল। ওই ম্যাচে আমার এক শ মিস হয়ে যায়। কারণ মিরাজ আউট হয়ে যাওয়ার পর আমি আর কোনো পার্টনার পাইনি। আজ ওকে বলছিলাম, আমার দুই শ হওয়া পর্যন্ত অন্তত তুই থাকিস (হাসি)।

মিরপুরে সর্বোচ্চ ইনিংসে পাকিস্তানি আজহার আলীর ২২৬ রানের রেকর্ড একটুর জন্য না ভাঙা নিয়ে

এ রেকর্ড আমার মনে ছিল না। মাথায় শুধু ছিল যে, যেভাবেই হোক দুই শ করতে হবে এরপর যত করা যায়। ইচ্ছে ছিল নিজে অন্তত আড়াই শ রান করার। আর মিরাজেরও যেন একটা সেঞ্চুরি হয়। তবে একই সঙ্গে আমাদের বোলারদেরও একটু সময় দিতে হবে। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তো অবশ্যই মানতে হবে। আর আমার মনে হয় না ডিক্লেয়ার করার এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।



মন্তব্য

Manjoor commented 28 days ago
Nation Enjoyed A Committed Knock From MUSHI.