kalerkantho



মুশফিক ১১১*

চার শ ছাপিয়ে চোখ বাংলাদেশের

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চার শ ছাপিয়ে চোখ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরিটি মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ২০১৩ সালে চট্টগ্রামের সেই টেস্টে আউট হয়ে যান ১৮১ রানে। এ বছরের শুরুতে একই মাঠে একই অর্জনের হাতছানি ছিল। পারেননি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও; আউট হয়ে যান ১৭৬ রানে। কাল আরেকটু কমে, ১৬১ রানে। কিন্তু যেভাবে খেলছিলেন, তাতে মমিনুল হকের ডাবল সেঞ্চুরিটি মনে হচ্ছিল খুবই সম্ভব।

সাত টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটিই দেড় শ পেরোনো অথচ ডাবল সেঞ্চুরি হলো না একটিও। এ নিয়ে খুব একটা চিন্তাও নেই মমিনুলের, ‘বাংলাদেশ কোনো দিন যদি সাড়ে তিন শ, চার শ তাড়া করার জন্য যখন খেলে, তখন হয়তো আমার দুই শ হতে পারে। আসলে খেলাটা আমার দুই শ, দেড় শ না। এটা দলের খেলা। দলের যখন দরকার তখন আসবে।’ তবু আক্ষেপ কি হয় না? ফিরতি প্রশ্নে ব্যাটিংয়ের মতো নিজের পরিণত ভাবনার আরেক দফা প্রকাশ মমিনুলের, ‘ডাবল সেঞ্চুরি যত পরে হবে, আমার ক্ষিধে তত বাড়বে। হয়ে গেলে তখন ক্ষিধেটা তো মিটে গেল!’

ডাবল সেঞ্চুরি না করে এভাবে দেড় শ-ঊর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে যেতে থাকলে মন্দ কী!

প্রশংসাবৃষ্টিতে নিজেকে ভেজান না তিনি। আবার সমালোচনার সাগরও সাঁতরে যান গায়ে পানি না লাগিয়ে। এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা মমিনুলের জীবনদর্শনে। কালকের সেঞ্চুরিটি কঠিন হিসেবে বর্ণনা করার কারণ কি আগের কয়েক ম্যাচে রান না পাওয়া, এমন প্রশ্নে তাই তাঁর উত্তর, ‘ওভাবে চিন্তা করলে তো দ্রুত আউট হয়ে চলে আসতাম।’ সেঞ্চুরির আনন্দ রয়েছে তাঁর, পাশাপাশি শিক্ষার তৃপ্তিও, ‘ফিফটির পর ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন করিনি, কারণ ম্যাচের এত গভীরে ঢুকে যাই যে, তা করতে হয়তো ভুলে যাই। সেঞ্চুরি করার সময় দল চাপ থেকে বের হয়ে এসেছে। আর এক শ করলে একটা আবেগ কাজ করে। আমারও করেছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই সেঞ্চুরিতে অনেক শিখতে পেরেছি। আমার যতগুলো সেঞ্চুরি আছে তার মধ্যে এটা অন্যতম সেরা। কারণ অনেক কষ্ট করে ব্যাট করেছি। অন্য সেঞ্চুরিগুলোর চেয়ে এটা কঠিন ছিল।’ ১৬১ রানের অমন ঝলমলে ইনিংস খেললেও তাঁর অতৃপ্তি শেষ বিকেলে আউট হয়ে যাওয়ায়, ‘একটু আফসোস আছে। আমার জন্য একটা উইকেট বেশি পড়ে গিয়েছে। আমি তো আউট হয়েছি, সাথে আরেকটি উইকেট পড়েছে। দলের জন্য শেষের দিকে আরেকটু খেলতে পারলে ভালো হতো। এইটুকু আফসোস আছে, আর কোনো আফসোস নেই। এটাই আমাকে একটু পোড়াচ্ছে, খারাপ লাগছে।’

বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি। পরের চার টেস্টের আট ইনিংস মিলিয়ে মোটে ৬৯ রান। ফর্মের সঙ্গে যুদ্ধ করা অন্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ থাকে অন্য ফরম্যাটে ভালো খেলে ফর্মে ফেরার। মমিনুলের তা নয়। এশিয়া কাপে দুটি ওয়ানডে খেলেছেন বটে, তবে মোটা দাগে তাঁর গায়ে তো সেঁটে আছে ‘টেস্ট ব্যাটসম্যানে’র তকমা। অবশ্য এক ফরম্যাটে খেলা নিয়ে ভাবনায় ডুবে থাকতে নারাজ মমিনুল, ‘আমি ওইভাবে চিন্তা করি না। একদিক থেকে সুবিধা হয়, আমি প্রস্তুত হওয়ার জন্য একটু সময় পাই। ব্যাপারটা অনেকটা নির্ভর করে চিন্তার ওপর। আমার এক ফরম্যাটে ভালো খেলে আরেক ফরম্যাটে জায়গা করার চিন্তা আসে না।’ মাঝের রানখরার সময়ের সঙ্গে কালকের ব্যাটিংয়েরও তেমন পার্থক্য নেই বলে করলেন দাবি। আর তাঁর মুগ্ধতা ক্রিজের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী মুশফিকুর রহিমে, ‘আমাকে মুশফিক ভাই খুব সাহায্য করেছেন। ভালো গাইড করেছেন। বুঝেছি কেন সে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন। মাঠে খেলার সময় এই জিনিসটা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। উনার কিছু কিছু পরামর্শ এত ভালো ছিল, আমাকে ব্যাটিংয়ে তা অনেক সাহায্য করেছে। আমার ইনিংসে যা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

মমিনুল-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে টেস্টে বেশ ভালো অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের সঙ্গে উইকেটের পার্থক্যও দেখছেন মমিনুল, ‘সিলেট ও এই উইকেটের মধ্যে একটু পার্থক্য রয়েছে। সিলেটের উইকেট একটু মন্থর ছিল। এই উইকেট একটু চ্যালেঞ্জিং। উইকেটে এখনো কিছু না কিছু হচ্ছে। সারা দিন হয়েছে, যত দিন খেলা হবে কিছু না কিছু হবে। উইকেটটা খুব ইন্টারেস্টিং।’ বোলারদের ওপর প্রবল আস্থা তাঁর। তার আগে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের কাছে চাওয়া আরো এক-দেড় শ রান, ‘এখানে চার শ-সাড়ে চার শ বেশ ভালো রান। আমাদের মুশফিক ভাই ব্যাট করছে, রিয়াদ ভাই আছে, নিচে আরিফ আছে। ব্যাটসম্যানরা যতটা সম্ভব রান করতে চাইবে। আর বোলারদের ওপর খুব আত্মবিশ্বাস আছে যে, এই উইকেটে তাঁরা ভালো করবে। বিশেষ করে স্পিনাররা।’

সতীর্থ মুশফিককে নিয়ে নিজেদের কাজটা করে দিয়েছেন মমিনুল। এখন বাকিদের কাছে ভালো করার ওই দাবি তো তিনি করতেই পারেন নাকি!



মন্তব্য