kalerkantho


‘গাম্বিয়ান ফুটবলে’র ঝলকে শেখ জামাল সেমিতে

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘গাম্বিয়ান ফুটবলে’র ঝলকে শেখ জামাল সেমিতে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই তরুণ গাম্বিয়ান উইঙ্গারে শেখ জামাল দুর্বার। তারা ২-১ গোলে শক্তিশালী সাইফ স্পোর্টিংকে হারিয়ে পৌঁছে গেছে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে। সুবাদে এটাই হয়ে গেল কোচ যোশেফ আফুসির জন্মদিনের অনন্য উপহার, ‘পরশু (আগামীকাল) আমার জন্মদিন, তার আগাম উপহার পেলাম আমি। দলের খেলোয়াড় সবাইকে আমার বাসায় আমন্ত্রণ। আমার খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত খেলেছে, সাইফের চেয়ে আমরাই বেশি ওপেন করেছি। সেই অনুপাতে গোল পেলে...।’

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশেষভাবে বলতে হবে দুই গোল করা সাইনি বোজাং আর দুটিরই অ্যাসিস্ট-ম্যান সলোমন কিংয়ের কথা। প্রথমজন বাঁ দিকে আর কিং ডান দিকে। দুই গাম্বিয়ানের গতি আর দুপায়ের ড্রিবলে ফুটবল মোহনীয় হয়ে ওঠে। শুধু এই ম্যাচে নয়, আগের ম্যাচগুলোতেও শেখ জামাল ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছে তাঁদের পায়ের জাদুতে। দুজনের সমন্বয়, জায়গা নেওয়া অর্থাৎ পরস্পরকে তাঁরা এত ভালো চেনে-জানে যে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে আটকানোর কাজটা। ম্যাচসেরা সাইনি বোজাংয়ের মুখে শোনা গেছে সমন্বয়ের রহস্যটা, ‘আমরা দুজনই গাম্বিয়ার বয়সভিত্তিক দলে একসঙ্গে খেলেছি। এখানে যে পজিশনে খেলছি, গাম্বিয়ার হয়েও তা-ই খেলি। ফলে আমি খুব ভালোভাবে জানি কিং কোথায় বলটা ফেলবে।’ দুজনই গাম্বিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন একসঙ্গে। বোজাং মাত্র উনিশে পা দিয়েছেন, গত মৌসুমে এলেও বয়স আঠারোর কম থাকায় খেলার সুযোগ পাননি। এবার সুযোগ হয়েছে এবং দুই গাম্বিয়ানই হয়ে উঠেছেন জামালের আক্রমণের মূল অস্ত্র। অধিনায়ক সলোমন কিং ফাইনাল পর্যন্ত অস্ত্র ধার বজায় রাখতে চান, ‘আমাদের দলে দুর্বলতার জায়গাও আছে কিন্তু দুই উইংয়ে শেখ জামাল ভীষণ শক্তিশালী। প্রতিটি ম্যাচে আমরা শক্তির সঠিক প্রয়োগ দেখাতে চাই। এখনো দুটি ম্যাচ বাকি আছে, এভাবে খেলে যেতে পারলে...।’ তাঁরা এ রকম খেললে যেকোনো দলের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

দুজনের বোঝাপড়ার দুর্দান্ত স্মারক হয়ে আছে ২৯ মিনিটের গোলটি। প্রায় নিজেদের রক্ষণ থেকে সলোমন কিংয়ের লং বলটি সাইফের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দাঁড়িয়ে আয়ত্তে নেন সাইনি বোজাং। এরপর এক দৌড়ে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে তিনি আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পৌঁছে দিয়ে এগিয়ে নেন শেখ জামালকে। মিনিট ছয়েক বাদে সলোমন ঠিকঠাক ফিনিশ করতে পারলে ম্যাচ একতরফা হয়ে যায়। সাইফের ডিফেন্ডার নাসিরের ব্যাকপাস আয়ত্তে নিয়ে গোলরক্ষক জিয়াউর রহমানকে একা পেয়েও ফিনিশ করতে পারেননি জামাল অধিনায়ক। ৫৩ মিনিটেও আরেকটি দারুণ সুযোগ ছিল। ৬০ মিনিটে আরেকটি অবিশ্বাস্য মিস করেন ইমানুয়েল পেরেজ। গোলরক্ষককে বাইরে বের করে এনে বোজাং বাই-লাইন থেকে এত সুন্দর সেন্টার করেছেন, গোল না হওয়াটাই ছিল বিস্ময়কর। সামনে দাঁড়িয়েও এই আর্জেন্টাইন খালি পোস্টে ঠেলতে পারেননি বল। এত সুযোগ নষ্ট করে তাঁরা যেন খেলায় ফেরার সুযোগ করে দেয় সাইফকে। তা-ই হয়েছে ৭০ মিনিটে, কলম্বিয়ান আন্দ্রে করদোবার আচমকা শটে গোলরক্ষক নাঈম পরাস্ত হলে শেখ জামালের সুযোগ নষ্টের আফসোসটা যেন বড় হয়ে ওঠে। ম্যাচে ফেরার পরও সাইফের আক্রমণে ধার বাড়েনি, ভাগ্য ফেরেনি রাশিয়ান-কোরিয়ান ফরোয়ার্ডে। তাই শেখ জামালের গোল মিসের আফসোটা আর বাড়েনি। ৭৬ মিনিটে ডান দিক থেকে সলোমনের বাড়ানো ক্রসটি সাইনি বোজাং ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেড করে দূরের পোস্টে পাঠিয়ে শেখ জামালকে নিয়ে তোলেন সেমিফাইনালের মঞ্চে। সেখানে লড়বে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর সঙ্গে।

আর পুরনো কোচ হলের বিদায়ের পর সাইফ স্পোর্টিংয়েরও ছুটি হয়ে গেল ফেডারেশন কাপ থেকে। স্টার্টিং লিস্টে নতুন কোচ জোনাথনের নাম ও স্বাক্ষর থাকলেও তিনি বলছেন অন্য কথা, ‘আমার কাজ এখনো শুরু হয়নি।’ দায়িত্ব নিয়েই নতুন ব্রিটিশ কোচ দেখলেন সাইফের হারের বিভীষিকা।



মন্তব্য